শিখা গৌতম। উত্তরপ্রদেশের এই তরুণীই দাবি করেন, তিনি ইউপিএসসি-তে পাশ করেছেন। ছবি: সংগৃহীত।
আনন্দ আর উচ্ছ্বাস বদলে গেল বিষাদে। ইউপিএসসি-র ফল প্রকাশ হতেই উচ্ছ্বাসে মাতেন উত্তরপ্রদেশের শিখা গৌতম এবং তাঁর পরিবার। কিন্তু সেই আনন্দ ছিল ক্ষণিকের। সংবাদমাধ্যমেও ফলাও করে শিখার সাফল্যের কাহিনি তুলে ধরা শুরু হয়েছিল। একজন পিয়নের কন্যা কী ভাবে লড়াই করে ইউপিএসসি-তে সফল হয়েছেন, সংবাদমাধ্যমে যখন এই খবর সম্প্রচারিত হচ্ছে, ঠিক তখনই এল দুঃসংবাদটা। শিখা জানতে পারেন, তালিকায় যে শিখার নাম তিনি দেখেছেন, সেই শিখা আসলে তিনি নন। অন্য কেউ।
প্রসঙ্গত, গত ৬ মার্চ ইউপিএসসি-র ফল প্রকাশিত হয়েছে। এই পরীক্ষা নিয়ে অনেকেরই একটা স্বপ্ন থাকে। সেই স্বপ্ন তিলে তিলে গড়ে তুলেছিলেন বুলন্দশহরের শিখা। ইউপিএসসি পরীক্ষায় বসেছিলেন তিনি। কিন্তু ফল যখন প্রকাশিত হল, তখন শিখা দেখেন, তাঁর নাম ১১৩ নম্বরে জ্বলজ্বল করছে। কিন্তু এখানেই বড় গন্ডগোল হয়েছিল তাঁর। শিখার দাবি, তালিকায় নাম খুঁজতে খুঁজতে যখন শিখা নামটি চোখে পড়ে তিনি আর কোনও দিকেই তাকাননি। ধরেই নিয়েছিলেন, ওটা তাঁরই নাম। তিনি ইউপিএসসি পরীক্ষায় পাশ করেছেন। কিন্তু ভুল ভাঙে কিছু পরেই।
শিখা জানিয়েছেন, নাম দেখার পর এতটাই উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েছিলেন যে, রোল নম্বর আর মেলাননি। শুধু নামটাই দেখেছিলেন। তত ক্ষণে তাঁর ‘সাফল্যের’ কাহিনি পাড়া, মহল্লা এবং জেলাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। সংবাদিকেরা তাঁর সাক্ষাৎকারও নিয়েছেন। পাড়ায় মিষ্টি বিতরণও করা হয়েছে। শিখার ভাই সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘‘আমার দিদি শিখা ১১৩ র্যাঙ্ক করেছে ইউপিএসসিতে। ও বরাবরই পড়াশোনায় মেধাবী। দিদির জন্য গর্বিত।’’ কিন্তু পরে যখন শিখা উপলব্ধি করেন, বিশাল বড় ভুল করে ফেলেছেন, তখন তিনি পরিবারকে বিষয়টি জানান। আর সেই সংবাদ পাওয়ার পরই আনন্দ বদলে যায় বিষাদে। সংবাদসংস্থা এএনআইকে শিখা বলেন, ‘‘এই ভুলের জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। শুধু শিখা নাম দেখেই উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েছিলাম। তবে এই শিখা আমি নই। যেহেতু দু’জনের নামই এক, তাই তাড়াহুড়োয় গন্ডগোল হয়ে গিয়েছে।’’
প্রসঙ্গত, কিছু দিন আগেই এই সমনামের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। ইউপিএসসি-র তালিকা প্রকাশের পর দেখা গিয়েছিল একই নামের দুই আকাঙ্ক্ষা দু’জনেই দাবি করেন, ৩০১ র্যাঙ্ক করেছেন তাঁরা। এক জন উত্তরপ্রদেশের গাজীপুরের আকঙ্ক্ষা সিংহ, অন্য জন বিহারের আকাঙ্ক্ষা সিংহ। দু’জনের নাম এবং পদবি এক। র্যাঙ্কও এক বলে দাবি করেন দু’জনেই। আর তা থেকেই একটা ধোঁয়াশা তৈরি হয় ওই র্যাঙ্ক-এর আসল ‘হকদার’ কে?