এনসিপি নেতা অজিত পওয়ার। মুম্বই থেকে বারামতী যাওয়ার পথে গত বুধবার বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় তাঁর। —ফাইল চিত্র।
অজিত পওয়ারের বিমান ভেঙে পড়া কি নিছকই দুর্ঘটনা? এ বার তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করলেন শিবসেনা (উদ্ধব শিবির) নেতা সঞ্জয় রাউতও। এনসিপি নেতার বিমান দুর্ঘটনা কোনও ‘ষড়যন্ত্র’ হতে পারে বলে মনে করছে কংগ্রেস শিবিরও।
কী কারণে অজিতের বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়ল, তা নিয়ে আগেই প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বার বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র অন্য নেতারাও এ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করলেন। যদিও অজিতের কাকা তথা বিরোধী জোটের অন্যতম প্রবীণ নেতা শরদ পওয়ার প্রথম প্রতিক্রিয়াতেই দাবি করেছেন, এটি একটি দুর্ঘটনা। অজিতের মৃত্যুর সঙ্গে রাজনীতিকে না জড়ানোর অনুরোধ করেছেন তিনি।
গত বুধবার মুম্বই থেকে বারামতীতে যাওয়ার পথে ভেঙে পড়ে অজিতের বিমান। বস্তুত, এই দুর্ঘটনার আগে থেকেই গুঞ্জন ছড়িয়েছিল এনসিপি-র দুই গোষ্ঠী আবার এক হয়ে যেতে পারে। ওই গুঞ্জনের মাঝেই বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় অজিতের। সেই প্রসঙ্গ টেনে শিবসেনা (উদ্ধব) সাংসদ সঞ্জয় বলেন, “অজিত পওয়ারের দুর্ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত। তাঁর নিজের দলেও এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠা উচিত। কিছু তো সন্দেহজনক রয়েছে। পর্দার আড়ালে নিশ্চয়ই কিছু একটা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “অজিত পওয়ার ঘরে ফেরার (এনসিপি-র দুই গোষ্ঠীর পুনর্মিলন) তোড়জোড় করছিলেন। কিন্তু বিজেপি বলছিল, তাদের কাছে সেচ দফতরের ফাইল রয়েছে। এর পরেই এই রহস্যজনক দু্ঘটনা ঘটল। অজিত কিছু দিন আগেই বলছিলেন, তাঁর কাছে কয়েক জন বিজেপি নেতার বিষয়ে ফাইল রয়েছে। তার পরেই দুর্ঘটনা। প্রথম দিন থেকেই আমার সন্দেহজনক ঠেকছে। আমি সংসদে বিষয়টি তুলব।”
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা প্রথম প্রতিক্রিয়াতেই এই দুর্ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছিলেন। মমতা ওই দিন বলেছিলেন, ‘‘আমি শুনেছিলাম কোনও এক দলের নেতা দাবি করেছিলেন অজিত বিজেপির সঙ্গে ছাড়তে চলেছেন। তার পরে আজ এই ঘটনা ঘটল। আমি চাই, সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে গোটা ঘটনার তদন্ত হোক।’’
যদিও ওই দিনই মমতার নাম না-করে শরদ বলেন, ‘‘কলকাতা থেকে একটি প্রতিক্রিয়ায় দাবি করা হয়েছে যে এই ঘটনায় কিছু রাজনীতি জড়িত। কিন্তু এ রকম কিছুই নেই। এতে কোনও রাজনীতি নেই। এটি একটি দুর্ঘটনা। আমি এতে রাজনীতি না আনার অনুরোধ করছি।’’ বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র প্রবীণ নেতা এটিকে দুর্ঘটনাটি বলে দেখতে চাইলেও জোটের অন্দরেই এ নিয়ে প্রশ্ন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। মমতার পরে এ বার প্রশ্ন তুলল উদ্ধব শিবির এবং কংগ্রেসও।
মহারাষ্ট্রের কংগ্রেস নেতা বিজয় ওয়াদেত্তরও ওই বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, “অজিত দাদার আচমকা মৃত্যু কোনও ষড়যন্ত্র হলেও হতে পারে। এই বিষয়টি তদন্ত করে দেখা দরকার। এনসিপি-র দুই গোষ্ঠীকে আবার এক হয়ে যাওয়া আটকাতেই এই ষড়যন্ত্র করা হল না তো? সেই কারণেই কি তড়িঘড়ি উপমুখ্যমন্ত্রী বেছে নেওয়া হল?”