বিমা সংক্রান্ত নতুন নিয়ম নিয়ে আশঙ্কিত বেসরকারি পরিবহণমহল। —প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
বাণিজ্যিক যানবাহনের তৃতীয় পক্ষের বিমা সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় সরকারের সম্ভাব্য নতুন নিয়ম নিয়ে অসন্তোষ ছড়াল পরিবহণমহলে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দেশের সমগ্র বেসরকারি পরিবহণ শিল্প মুখ থুবড়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করল বেসরকারি বাসমালিকদের সংগঠন জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটস। অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবিতে রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন সংগঠনের সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায়। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বাস সংগঠনগুলির অভিযোগ, বাণিজ্যিক যানবাহনের বিমা প্রিমিয়াম কাঠামোয় কেন্দ্র নতুন করে পরিবর্তন আনতে চলেছে, যা কার্যত পরিবহন শিল্পের ‘কফিনে আরও একটি পেরেক’ পোঁতার শামিল।
তপন বলেন, ‘‘মোটর ভেহিকেল আইনে স্পষ্ট ভাবে বলা আছে, বিমা ছাড়া কোনও গাড়ি রাস্তায় চলতে পারে না এবং বিমা না থাকলে ট্যাক্স, পারমিট বা সিএফ নবীকরণও সম্ভব নয়। বর্তমানে থার্ড পার্টি বিমার ক্ষেত্রে নতুন ও পুরনো বাণিজ্যিক গাড়ির জন্য প্রিমিয়াম সমান। আইনেও আলাদা করে নতুন বা পুরনো গাড়ির জন্য পৃথক প্রিমিয়ামের কোনও উল্লেখ নেই।’’
এই অবস্থায় নতুন কোনও নিয়ম কার্যকর হলে তার যুক্তি কী— সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর আরও বক্তব্য, ‘‘এমনিতেই দেশের পরিবহণ শিল্প গভীর সঙ্কটে। প্রতি বছর বিমা সংস্থাগুলি লাগামছাড়া হারে প্রিমিয়াম বাড়াচ্ছে। তার উপর নতুন করে বোঝা চাপানো হলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া অসম্ভব হয়ে উঠবে।’’
বাস বিমার খরচ বৃদ্ধির পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘‘১৯৭৫ সালে একটি বাসের বার্ষিক বিমা খরচ ছিল মাত্র ৩,০০০ টাকা। ২০২৬ সালে এসে সেই খরচ বেড়ে সাধারণ বাসের ক্ষেত্রে প্রায় ৭০,০০০ টাকা, এক্সপ্রেস বাসের জন্য ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাসের জন্য প্রায় ২ লক্ষ টাকায় পৌঁছেছে।’’ এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বহু পরিবহণ সংস্থা টিকে থাকতে পারবে না বলে আশঙ্কা। সংগঠনের সদস্যদের হুঁশিয়ারি, অবিলম্বে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার বা পুনর্বিবেচনা না হলে দেশব্যাপী আন্দোলনের পথে হাঁটবে পরিবহণ সংগঠনগুলি। ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন পরিবহণ সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটস এই বিষয়কে সামনে রেখে যৌথ ভাবে আন্দোলন গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।
পরিবহণ দফতরের আধিকারিকদের মতে, রাজ্য ও কেন্দ্রের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সঙ্কট থেকে বেরোনো কঠিন। কেন্দ্রীয় সরকারের এই নতুন নিয়মের কথা রাজ্য সরকার জেনেছে। দফতরভিত্তিক আলোচনার পর বিষয়টি নিয়ে বেসরকারি বাসমালিকদের সঙ্গেও আলোচনা হবে। পাশাপাশি আরও যাঁরা বেসরকারি পরিবহণ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের সঙ্গে আলোচনার পরেই এই বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ করতে পারবে। অন্য বেসরকারি পরিবহণ ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, ২০২০ সালের মার্চ মাসে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে যে লকডাউন হয়েছিল, তারপর পরিবহণ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে কেন্দ্র বা রাজ্য কোনও সদর্থক পদক্ষেপ করেনি, তাই বিমা সংক্রান্ত বিষয়ে যে নতুন নিয়ম আনা হয়েছে, তা অবশ্যই পুনর্বিবেচনা করা উচিত।