হরমুজ় প্রণালীতে জাহাজ। — ফাইল চিত্র।
আমেরিকা-ইরান মউ স্বাক্ষরের পর থেকে হরমুজ় প্রণালী পেরিয়েছে ভারতমুখী অন্তত ১১টি জাহাজ। এ ছাড়া আরও ২৬টি জাহাজ হরমুজ় পেরোনোর জন্য পারস্য উপসাগরে অপেক্ষা করছে। কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রকের সূত্রকে উদ্ধৃত করে এমনটাই জানাচ্ছে ‘দ্য টাইম্স অফ ইন্ডিয়া’। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর (১ মার্চ) থেকে এখনও পর্যন্ত ৩০টি জাহাজ হরমুজ় পেরিয়ে ভারতের দিকে এসেছে। এর মধ্যে যেমন ভারতীয় জাহাজ রয়েছে, তেমন অন্য দেশের পতাকাবাহী জাহাজও আছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। সেই থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত। তার পরে গত ১১ মার্চ থেকে হরমুজ়ে ‘অবরোধ’ শুরু করে ইরান। হুঁশিয়ারি দেয়, কোনও জাহাজ হরমুজ় প্রণালী অতিক্রম করার চেষ্টা করলেই তাতে হামলা হবে। তার জেরে হরমুজ়ের উভয় প্রান্তে বহু জাহাজ আটকে পড়ে। প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও। যদিও কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট কিছু দেশের বাণিজ্যিক জাহাজকে হরমুজ় পার করতে দেয় ইরান। সেই তালিকায় ছিল ভারতও।
উল্লেখ্য, আমেরিকা-ইরান সংঘর্ষের মাঝে গত ১১ মার্চ প্রথম কোনও জাহাজ হরমুজ় পেরিয়ে ভারতে এসেছিল। ১ লক্ষ টনেরও বেশি অশোধিত জ্বালানি এসেছিল ওই জাহাজে করে। তার পর থেকে আরও বেশ কিছু জাহাজ দফায় দফায় ভারতীয় বন্দরে এসেছে। জাহাজ মন্ত্রক সূত্র উদ্ধৃত করে ‘দ্য টাইম্স অফ ইন্ডিয়া’ জানাচ্ছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখনও পর্যন্ত ভারতমুখী ৩০টি জাহাজ হরমুজ় পেরিয়েছে। আরও ২৬টি জাহাজ প্রণালী পার হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
গত ১৭ জুন আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে মউ স্বাক্ষরিত হয়। আধিকারিক সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, ১ মার্চ থেকে ১৭ জুনের মধ্যে ভারতমুখী ১৯টি জাহাজ নিরাপদে হরমুজ় পেরিয়েছে। মউ স্বাক্ষরের দিন থেকে পেরিয়েছে আরও ১১টি। এই ৩০টি জাহাজের মধ্যে ১৭টি রয়েছে অন্য দেশের পতাকাবাহী। ভারতমুখী যে জাহাজগুলি ইতিমধ্যে হরমুজ় পেরিয়েছে, তার প্রায় অর্ধেকই এলপিজি এবং প্রাকৃতিক গ্যাস বয়ে এনেছে। যেগুলি এখনও হরমুজ় পার করার অপেক্ষায় রয়েছে (ভারতীয় জাহাজ এবং অন্য দেশের পতাকাবাহী ভারতমুখী জাহাজ মিলিয়ে) তার মধ্যেও তিনটিতে রয়েছে জ্বালানি। সার রয়েছে ১০টিতে। বাকি ১৩টি জাহাজে রয়েছে অন্য পণ্য।
আমেরিকা-ইরান সমঝোতার পর গত কয়েক দিন ধরেই হরমুজ়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। সম্প্রতি তেহরান দাবি করেছে, হরমুজ়ের পরিস্থিতি কখনওই আর সংঘর্ষের আগের অবস্থার মতো হবে না। তবে যে কোনও ধরনের ‘ভুল বোঝাবুঝি’ এড়াতে একটি ‘টেলিফোন হটলাইন’ খুলতে রাজি হয়েছে ইরান। আমেরিকা বা অন্য কোনও দেশের জাহাজ এই জলপথ ধরে গেলে প্রয়োজনে ওই হটলাইনে যোগাযোগ করা যাবে বলে জানিয়েছে তারা।