Ketan Agarwal Murder Case

জগিং করতে করতে কেতনদের পিছু নিয়েছিলেন চেতন, পুণে হত্যাকাণ্ডে পুলিশকে তথ্য দিলেন নিরাপত্তারক্ষী

প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি, খুনের দিন দুপুরে পুণে থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দূরে লোহাগড় দুর্গের টিকিট কাউন্টারে হাজির ছিলেন ধীরজ।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬ ২২:৩৪
(বাঁ দিক থেকে) কেতন অগ্রবাল, সিয়া গয়াল এবং চেতন চৌধরি।

(বাঁ দিক থেকে) কেতন অগ্রবাল, সিয়া গয়াল এবং চেতন চৌধরি। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

মহারাষ্ট্রের পুণেতে ব্যবসায়ীপুত্র কেতনবিশাল অগ্রবালকে খুনের ঘটনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পুলিশকে দিয়েছেন লোহগড় দুর্গের নিরাপত্তারক্ষী ধীরজ যাদব। ১৮ জুন কেতনকে তাঁর বাগ্‌দত্তা সিয়া গয়াল এবং সিয়ার প্রেমিক চেতন বাবুলাল চৌধরী মিলে পাহাড়ের খাদে ধাক্কা মেরে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। ‘টাইমস অফ ইন্ডিয়া’য় প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সে সময় ঘটনাস্থলের কাছেই ধীরজ হাজির ছিলেন। তাঁর প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা কেতন খুনের তদন্তে বড় ভূমিকা নিয়েছে।

Advertisement

প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি, খুনের দিন দুপুরে পুণে থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দূরে লোহাগড় দুর্গের টিকিট কাউন্টারে হাজির ছিলেন ধীরজ। পুলিশকে তিনি জানিয়েছেন প্রথমে কেতন এবং সিয়া সেখানে পৌঁছেছিলেন। তাঁরা ডিজিটাল স্ক্যানার ব্যবহার করে দুর্গের ট্রেকিং-পথে প্রবেশের টিকিট কেনার চেষ্টা করেন। বেস এলাকায় নেটওয়ার্ক সংযোগ দুর্বল থাকার কারণে অনলাইন লেনদেন ব্যর্থ হয়। নিরাপত্তা কর্মীরা তাদের পরামর্শ দেন স্ক্যানারের একটি ছবি তুলে রাখতে এবং উপরের দিকে যেখানে নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় সেখানে গিয়ে অনলাইন বুকিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে।

এর পরে কেতন ও সিয়া রওনা দেন পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত দুর্গের উদ্দেশে। আর তার কিছুক্ষণ পরেই চেতন হুডি এবং হেডফোন পরে কাউন্টারে পৌঁছোন। নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁকে টিকিট কেনার জন্য ডাকেন। কিন্তু চেতন ধীরজদের জানান যে তিনি জগিং করছেন এবং ফিরে আসার পথে প্রবেশমূল্য দিয়ে দেবেন। কিন্তু পরে প্রবেশমূল্য না দিয়েই সরাসরি নীচে নেমে গিয়েছিলেন চেতন। পুণে (গ্রামীণ) পুলিশের সূত্র উদ্ধৃত করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ধীরজের বক্তব্য সিসিটিভি ফুটেজের সঙ্গে মিলে গিয়েছে। যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে চেতনের গতিবিধি ছিল পূর্বপরিকল্পিত।

সিয়া প্রথমে পুলিশের কাছে কেতনের পা পিছলে পড়ে যাওয়ার কথা বলে ‘দুর্ঘটনাতত্ত্ব’ সাজানোর চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি। পুণে (গ্রামীণ) পুলিশের তদন্তকারী দল লোহাগড় দুর্গ যাওয়ার পথে সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখতে শুরু করতেই ‘রহস্য উন্মোচন’ হয়। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ভেঙে পড়ে প্রেমিক চেতনের সাহায্যে হবু স্বামী কেতনকে খুনের কথা তিনি কবুল করেন বলে পুলিশের দাবি। সিসিটিভি ফুটেজের হুডি পরিহিত চেতনকে দেখা গিয়েছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, ৩১ মে কেতন ও সিয়া লোহাগড় দুর্গে গিয়েছিলেন। চার দিন পর সিয়া আবার তাঁকে লোহাগড় দুর্গে যেতে জোরাজুরি করেন। কিন্তু কেতনের মা তাঁকে দ্বিতীয় বার সেখানে যেতে দেননি। ১৪ জুন সিয়া আবার কেতনকে লোহাগড়ে যাওয়ার জন্য জোর করেন। সে দিনও তিনি নাকি তাঁকে খাদের ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু কেতন একটি ঝোপ আঁকড়ে ধরে নিজেকে বাঁচাতে সক্ষম হন। কেতন যখন জানতে চান কেন তাঁকে ধাক্কা দেওয়া হয়েছে, তখন সিয়া সাপ দেখার মিথ্যা আতঙ্ক সৃষ্টি করেন এবং এমন ভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন যেন তিনিই তাকে রক্ষা করেছেন।

১৮ জুন সকালে সিয়া ও চেতন পুণের একটি ক্যাফেতে দেখা করেন এবং কেতনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। তাঁরা দুর্গের যাওয়ায় ট্রেকিং রুটে এমন কিছু সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করেন, যেখান থেকে কেতনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া যেতে পারে। এর পরে সেদিন বিকেলে কেতন ও সিয়া গিয়েছিলেন লোহাগড়ে। পরিকল্পনা মতো চেতনও তাদের পিছু নিয়েছিলেন। হেঁটে ওই পথ পার হতে সাধারণত প্রায় তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় নেয়। ট্রেকিংয়ের সময় চেতন হাতের ইশারায় সিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, চেতন নিজের পরিচয় গোপন রাখতে হুডি পরে তাঁদের পিছু নিয়েছিলেন। তদন্তকারীদের সূত্র উদ্ধৃত করে প্রকাশিত খবরে দাবি, সহকর্মী চেতনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল সিয়ার। তার মধ্যেই কেতনের সঙ্গে তাঁর বাগ্‌দান হয়ে গিয়েছিল। আগামী নভেম্বর মাসে সিয়া এবং কেতনের বিয়ে ঠিক করেছিল তাঁদের পরিবার। রাজস্থানের উদয়পুরে কয়েক কোটি টাকা দিয়ে বিলাসবহুল হাভেলীও ভাড়া করা হয়েছিল। কিন্তু তা সিয়া চাইছিলেন না। সে কারণেই প্রেমিক চেতনকে সঙ্গে নিয়ে খুনের পরিকল্পনা করেছিলেন।

Advertisement
আরও পড়ুন