(বাঁ দিকে) সনিয়া গান্ধী এবং রাহুল গান্ধী (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের হত্যা প্রসঙ্গে ‘নীরব’ কেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী? প্রশ্ন তুললেন কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধী এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। পশ্চিম এশিয়ায় তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে ভারতের অবস্থান নিয়ে একযোগে মোদী সরকারকে আক্রমণ শানিয়েছেন তাঁরা। দাবি, ভারতের অবশ্যই এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া দেওয়া উচিত! রাহুলের মতে, এই নীরবতা বিশ্বে ভারতের অবস্থান প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
প্রাক্তন কংগ্রেস সভানেত্রী মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা কোনও ভাবে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা নয়, বরং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে ভারতে অবস্থান নিয়ে গুরুতর সন্দেহ জাগায়। রাহুল মনে করেন, আমেরিকা, ইজ়রায়েল এবং ইরানের মধ্যে শত্রুতা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা মনে করেন, কোনও দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে যে আক্রমণ চালানো হচ্ছে, তা সঙ্কট আরও বাড়িয়ে তুলবে। ইরানের উপর একতরফা আক্রমণের পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিতে ইরানের আক্রমণেরও নিন্দা করা উচিত মোদী সরকারের। রাহুলের কথায়, ‘‘সহিংসতা শুধু আরও সহিংসতারই জন্ম দেয়। কূটনৈতিক আলোচনা এবং সংযমই শান্তির একমাত্র পথ।’’
সনিয়া মনে করেন, আমেরিকা-ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় খামেনেইয়ের হত্যা নিয়ে নীরবতা ভেঙে প্রতিক্রিয়া দেওয়া উচিত মোদীর। তাঁর কথায়, ‘‘ক্ষমতাসীন এক রাষ্ট্রপ্রধানকে হত্যা, সমসাময়িক আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড়সড় ফাটল!’’ অতীতে ভারতের স্বার্থরক্ষায় এগিয়ে এসেছিল ইরান। এখন ইরানের এই অবস্থায় নয়াদিল্লির নীরবতা যথেষ্ট উদ্বেগজনক, এমনই মনে করেন কংগ্রেসনেত্রী।
রাহুল মনে করেন, ‘‘ভারতকে নৈতিক ভাবে আরও স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে। আন্তর্জাতিক আইন এবং সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষায় আমাদের স্পষ্ট ভাবে কথা বলার সাহস থাকা উচিত। আমাদের বিদেশনীতি সার্বভৌমত্ব এবং বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের উপর ভিত্তি করে তৈরি। সেই নীতি মেনে চলা উচিত।’’ রাহুলের দাবি, প্রধানমন্ত্রীকে অবশ্যই এ ব্যাপারে কথা মত প্রকাশ করা উচিত।
মার্কিন এবং ইজ়রায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। গোটা পশ্চিম এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ছে সামরিক উত্তেজনা। গত চার দিন ধরে পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেন মোদী। তিনি বলেন, “পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’’ তবে খামেনেইয়ের মৃত্যু বা আমেরিকা-ইজ়রায়েল হামলা নিয়ে এখনও পর্যন্ত ভারত সরকার কোনও মন্তব্য করেনি। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান, সৌদি আরবের যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমন এবং বাহারিনের রাজা হামাদ বিন ইসা আল খলিফার সঙ্গে কথা বলেছেন মোদী।