নীতীশ কুমার। ফাইল চিত্র।
রাজনৈতিক জীবনের শুরু করেছিলেন বিহার বিধানসভার বিধায়ক হিসাবে। তার পরে লোকসভার সাংসদ ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্ব। পরবর্তী ধাপে দীর্ঘ দু’দশক ধরে বিহার বিধানসভায় থেকে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন শেষে আজ রাজ্যসভার সাংসদ হিসাবে শপথ নিলেন নীতীশ কুমার। ফের একবার শুরু করতে চলেছেন নিজের সংসদীয় জীবন।
গত কয়েক বছর ধরেই শারীরিক ভাবে অসুস্থ নীতীশ। যে কারণে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার মাস ছয়েকের মধ্যে সেই দায়িত্ব থেকে সরে আসার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন তিনি। জানান, তিনি রাজ্যসভায় আসতে চান। আজ রাজ্যসভায় সাংসদ হিসাবে শপথনামা পড়তে পড়তে মাঝে মধ্যেই খেই হারিয়ে ফেলছিলেন নীতীশ। অক্ষর খুঁজতে সমস্যা হচ্ছিল তাঁর। পরে সই করতে গিয়ে শপথনামাতেই প্রায় সই করে ফেলছিলেন তিনি! তাঁকে আটকান জেডিইউ নেতা সঞ্জয় ঝা। আজ এক্স-হ্যান্ডলে মোদী বলেন, “নীতীশ কুমার দেশের অন্যতম অভিজ্ঞ রাজনীতিক, যিনি সু-শাসনের প্রতি তাঁর অঙ্গীকারের জন্য সর্বত্র স্বীকৃতি অর্জন করেছেন।”
নীতীশ আজ রাজ্যসভার সাংসদ হিসাবে শপথ নিলেও তাৎপর্যপূর্ণ হল, বিহারের মুখ্যমন্ত্রিত্ব থেকে এখনও ইস্তফা দেননি তিনি। সূত্রের মতে, বিজেপি তাঁর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণার পরেই মুখ্যমন্ত্রিত্ব থেকে সম্ভবত ইস্তফা দেবেন নীতীশ। দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন বিজেপি নেতা তথা বর্তমানে রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রীসম্রাট চৌধরি।
এ দিকে আজ দলের কাকে মুখ্যমন্ত্রী করা হবে, তা নিয়ে বৈঠকে বসেন বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশ। তবে চূড়ান্ত নাম আগামী ১২-১৩ এপ্রিল পটনায় এনডিএ বিধায়ক দলের বৈঠকেই ঘোষণা করা হবে। প্রাথমিক ভাবে স্থির হয়েছে, আগামী ১৫ এপ্রিল বৈশাখ মাস পরলে শপথ নেবে নতুন সরকার। আগামী ১৬-১৮ এপ্রিল সংসদে সংশোধিত মহিলা বিল নিয়ে আলোচনায় ব্যস্ত থাকবেন শীর্ষ বিজেপি নেতৃত্ব। তাই বিজেপির একটি সূত্রের দাবি, ১৫ এপ্রিল শপথ না হলে সে ক্ষেত্রে ১৯ এপ্রিল অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে শপথ হতে পারে।
সূত্রের মতে, সম্রাট ছাড়াও দৌড়ে নাম রয়েছে বিহারের ক্রীড়ামন্ত্রী শ্রেয়সী সিংহের। আগামী সপ্তাহে সংসদে সংশোধিত মহিলা সংরক্ষণ বিল আনতে চলেছে সরকার। অনেকের মতে, তার আগে শ্রেয়সীর নাম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ঘোষণা করে মহিলা সমাজকে ইতিবাচক বার্তা দিতে পারে বিজেপি। তবে শ্রেয়সী রাজপুত সমাজের। বিহারের জাতপাতের সমীকরণে সম্রাট চৌধরি হলেন নীতীশের সমাজের প্রতিনিধি। ফলে জাতপাতের ভারসাম্য রক্ষার প্রশ্নে পাল্লা ভারী সম্রাটের। তেমনই নীতীশেরও ব্যক্তিগত ভাবে পছন্দের নাম সম্রাট। ফলে সব দিক থেকে এগিয়ে রয়েছেন অমিতশাহ-ঘনিষ্ঠ সম্রাটই।
এ দিকে নীতীশের দল জেডিইউ রাজ্যসভায় দলীয় সাংসদ হরিবংশ নারায়ণ সিংহকে প্রার্থী না করলেও মোদী-ঘনিষ্ঠ ওই নেতাকে আজ রাজ্যসভার সাংসদ হিসাবে মনোনীত করেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। ফলে রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যানের যে দায়িত্ব হরিবংশ এত দিন সামলে আসছিলেন, তাৃ-ই আগামী দিনেও তিনি সামলাবেন বলে মনেকরছেন রাজনীতিকেরা।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, “হরিবংশজি এক জন সম্মানিত বুদ্ধিজীবী ও চিন্তাবিদ, যিনি তাঁর গভীর ভাবনা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে সমাজকে সমৃদ্ধ করেছেন।”