প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ফাইল চিত্র।
এক দিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার রদবদল। অন্য দিকে বিজেপির সাংগঠনিক রদবদল।
জুলাই মাসে সংসদের বাদল অধিবেশনের আগে দু’টো কাজই সেরে ফেলতে চাইছেন বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিদেশ সফর সেরে ফেরার পরে ২১ মে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক ডাকা হয়েছে। যেখানে পূর্ণমন্ত্রীদের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীরাও হাজির থাকবেন। বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ-সহ আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং এ দেশে জ্বালানি, বিদেশি মুদ্রার সাশ্রয়ের মতো করণীয় পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হবে। কেন প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি থেকে সোনার পিছনে খরচে সাশ্রয়ের কথা বলেছেন, সেই বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার রূপরেখা তুলে ধরা হবে। সম্ভবত বর্তমান চেহারায় মন্ত্রিপরিষদের এটিই শেষ বৈঠকহতে চলেছে।
বিজেপির একটি সূত্রের দাবি, আগামী একমাস মন্ত্রিসভা বা সংগঠনে কোনও রদবদল হবে না। কারণ রবিবার থেকে হিন্দু ক্যালেন্ডারে ‘অধিক মাস’ শুরু হয়েছে। ইংরেজি সৌর ক্যালেন্ডারের সঙ্গে হিন্দু চান্দ্র ক্যালেন্ডারের ভারসাম্য রাখতে তিন বছর অন্তর হিন্দু ক্যালেন্ডারে একটি অতিরিক্ত মাস যোগ হয়। একেই ‘অধিক মাস’ বলে। এই সময়ে কোনও শুভকাজ হয় না। ১৫ জুন অধিক মাস শেষ হচ্ছে। মন্ত্রিসভা ও সাংগঠনিক রদবদল হলে তার পরেই করা হবে।
জে পি নড্ডার পরে বিজেপির জাতীয় সভাপতি হিসেবে নিতিন নবীন জানুয়ারি মাসে দায়িত্ব নিলেও এত দিন পাঁচটি বিধানসভা নির্বাচনের জন্য তিনি নিজের ‘টিম’ গঠন করতে পারেননি। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি প্রথম বার জিতে আসার পরে বাংলা থেকে কয়েক জন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় নিয়ে আসার দাবি উঠেছে। আবার ভূপেন্দ্র যাদবের মতো নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের জয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। তাঁদের মন্ত্রিসভায় পদোন্নতি হতে পারে। নতুনদের জায়গা দিতে হলে পূর্ণমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীদের কাউকে সরিয়ে সংগঠনে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। নিতিনের মতোই পঞ্চাশ বছরের কম বয়সি নেতাদের সংগঠনে ও মন্ত্রিসভায় তুলে আনা হবে বলে বিজেপি নেতারা মনে করছেন। একই সঙ্গে কিছু প্রবীণ নেতাকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে সংগঠনে তরুণদের ‘মেন্টর’ হওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
কেন্দ্রীয় সরকারের এক মন্ত্রীর বক্তব্য, “পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রথম জয়ের পরে এখন দলের সামনে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ আগামী বছর উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচন। লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি উত্তরপ্রদেশে ধাক্কা খেয়েছিল। সেই খামতি পূরণ করে বিজেপিকে ক্ষমতায় ফেরাতে হবে। সংগঠন ও মন্ত্রিসভার রদবদলের ক্ষেত্রে সেই দিকটিও মাথায় রাখা হবে। পাশাপাশি কিছু বিজেপিশাসিত রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রীদের কাজকর্ম নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। তা নিয়েও ভাবনাচিন্তা চলছে।”