Supreme Court on Identity of victim

নির্যাতিতার নাম-পরিচয় গোপন রাখার নির্দেশ কঠোর ভাবে মানতে হবে! দেশের প্রতিটি হাই কোর্টকে জানাল সুপ্রিম কোর্ট

সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশনামায় লিখেছে, নির্যাতিতার নাম-পরিচয় গোপন রাখার বিষয়টি আইনত দীর্ঘ দিন ধরেই প্রতিষ্ঠিত। তবে বাস্তবে সব ক্ষেত্রে তা সঠিক ভাবে মানা হয়নি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২৬ ১৩:৪৬
এই ধরনের খবরের ক্ষেত্রে আসল ছবি প্রকাশে আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকে।

এই ধরনের খবরের ক্ষেত্রে আসল ছবি প্রকাশে আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকে। —প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

ধর্ষণের মামলায় নির্যাতিতার নাম-পরিচয় গোপন রাখা নিয়ে আগে থেকেই ‘গাইডলাইন’ স্থির করে রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু দেশের সর্বোচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ, ওই নির্দেশ সব ক্ষেত্রে ধারাবাহিক ভাবে পালন করা হয়নি। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, পূর্বের ওই নির্দেশ যাতে কঠোর ভাবে পালন করা হয়, তা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। দেশের প্রতিটি হাই কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে এ বার তা জানিয়ে দিল শীর্ষ আদালত।

Advertisement

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি এন কোটিশ্বর সিংহের বেঞ্চে একটি ধর্ষণ মামলার শুনানি চলছিল। গত মঙ্গলবার ওই মামলার রায় দেয় আদালত। বৃহস্পতিবার সেই রায় প্রকাশ্যে আসে। নাবালিকাকে ধর্ষণের ওই মামলায় এক অভিযুক্তকে বেকসুর খালাস করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। একই সঙ্গে কোনও ধর্ষণের মামলায় নির্যাতিতার নাম-পরিচয় গোপন রাখা সংক্রান্ত বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের পূর্বের নির্দেশের কথাও রায়ের একেবারে শেষাংশে লিখেছেন দুই বিচারপতি। তাঁরা লিখেছেন, “আইনত দীর্ঘদিন ধরেই এটি প্রতিষ্ঠিত। অথচ বাস্তবে তা সঠিক ভাবে মানা হয়নি।”

রায়ের শেষ অনুচ্ছেদে দুই বিচারপতির বেঞ্চ লিখেছে, “আমরা নির্দেশ দিচ্ছি, এই রায়ের প্রতিলিপি সকল হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে পাঠানো হোক।” এ প্রসঙ্গে অতীতের নিপুণ সাক্সেনা বনাম ভারত সরকার মামলার রায়ের কথাও উল্লেখ করেছেন তাঁরা। দুই বিচারপতি জানিয়েছেন, ওই মামলায় রায়ে নির্যাতিতার পরিচয় প্রকাশ না করার বিষয়ে কিছু বাধ্যবাধকতার উল্লেখ রয়েছে। ওই নির্দেশ কঠোর ভাবে মানতে হবে। তা নিশ্চিত করার জন্যই সব হাই কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে মঙ্গলবারের রায়ের প্রতিলিপি পাঠাতে বলা হয়েছে।

রায়ে সুপ্রিম কোর্ট আরও লিখেছে, “নির্যাতিতার নাম-পরিচয় গোপন রাখার বিষয়টি আইনত এটি দীর্ঘ দিন ধরে প্রতিষ্ঠিত হলেও বাস্তবে তা সঠিক ভাবে মেনে চলা হয়নি। অনুমান করা হচ্ছে, নিম্ন আদালতগুলিতে ঔদাসীন্য এবং এই অপরাধের ফলে নির্যাতিতাকে যে সামাজিক কলঙ্কের বোঝা বহন করতে হবে, তা নিয়ে সচেতনতার অভাবই এর প্রধান কারণ।”

Advertisement
আরও পড়ুন