Scheduled Caste Status

তফসিলি জাতি হিন্দু, শিখ ও বৌদ্ধদের মধ্যেই আছে, ধর্মান্তরিত হলে কেউ আর তফসিলিভুক্ত থাকেন না: সুপ্রিম কোর্ট

তফসিলি জাতিভুক্ত কাদের বলা যাবে, তা মঙ্গলবার ফের স্পষ্ট করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। জানিয়ে দিল, হিন্দু, শিখ এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বাইরে অন্য কাউকে তফসিলি জাতিভুক্ত বলে ধরা যাবে না।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৪ মার্চ ২০২৬ ১৩:৪৩
কারা নিজেদের তফসিলি জাতিভুক্ত বলে দাবি করতে পারেন, স্পষ্ট করল আদালত।

কারা নিজেদের তফসিলি জাতিভুক্ত বলে দাবি করতে পারেন, স্পষ্ট করল আদালত। — প্রতীকী চিত্র।

হিন্দু, শিখ এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরাই কেবল নিজেদের তফসিলি জাতিভুক্ত বলে স্বীকৃতি দাবি করতে পারেন। অন্য কোনও ধর্মাবলম্বীকে তফসিলি জাতিভুক্ত বলে গণ্য করা যাবে না। মঙ্গলবার এমনটাই জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে আদালত এ-ও জানিয়েছে, ওই ধর্মগুলি থেকে কেউ ধর্মান্তরিত হলে তিনি আর তফসিলি জাতিভুক্ত থাকেন না।

Advertisement

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পিকে মিশ্র এবং বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চে মামলাটির শুনানি চলছিল। মঙ্গলবার সেখানে দুই বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, কেউ ধর্মান্তরিত হলে তফসিলি জাতিভুক্ত হওয়ার স্বীকৃতিও সঙ্গে সঙ্গে বিলুপ্ত হয়ে য়ায়। এই মামলার ক্ষেত্রে, এক ব্যক্তি ধর্মান্তরিত হয়ে খ্রিস্টান হয়ে যান। আগে তিনি ছিলেন তফসিলি জাতিভুক্ত। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, ধর্মান্তরিত হয়ে খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহণ করা ওই ব্যক্তি আর নিজেকে তফসিলি জাতিভুক্ত বলে দাবি করতে পারবেন না।

অন্ধ্রপ্রদেশের এক মামলার প্রেক্ষিতে এই রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সেখানে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী এক ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছিল। তফসিলি জাতির ওই ব্যক্তি আক্রান্ত হওয়ার কিছুদিন আগেই খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেন। তবে ওই হামলার ঘটনায় তফসিলি জাতি এবং জনজাতির উপর অত্যাচার প্রতিরোধ আইনের আওতায় এফআইআর রুজু হয়। ওই এফআইআর খারিজের আর্জিতে মামলা করেন অভিযুক্তেরা। অভিযুক্তদের বক্তব্য ছিল, ওই ব্যক্তি ধর্মান্তরিত হয়ে গিয়েছেন। তাই তফসিলি জাতি এবং জনজাতি আইনের আওতায় আর মামলা করা যায় না।

এ নিয়ে প্রথমে অন্ধ্রপ্রদেশ হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিযুক্তেরা। হাই কোর্টও জানিয়েছিল, ধর্মান্তরিত হওয়া ওই ব্যক্তি আর তফসিলি জাতিভুক্ত নন। ওই সময়ে হাই কোর্ট জানিয়েছিল, খ্রিস্ট ধর্মে বর্ণপ্রথা বলে কোনও বিষয় নেই। ফলে তফসিলি জাতি, জনজাতি সংক্রান্ত আইনগুলি সে ক্ষেত্র প্রয়োগ করা যাবে না। ফলে ওই এফআইআর খারিজের নির্দেশ দিয়েছিল হাই কোর্ট। কিন্তু হাই কোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন ‘আক্রান্ত’ মামলাকারী। তবে সুপ্রিম কোর্টও সেই হাই কোর্টের রায়ই বহাল রাখল।

Advertisement
আরও পড়ুন