শর্মিলা ঠাকুর। — ফাইল চিত্র।
পথকুকুর সমস্যা মেটাতে শর্মিলা ঠাকুরের সওয়ালের সঙ্গে বাস্তবের কোনও সম্পর্ক নেই বলে মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট।
প্রকাশ্য স্থানে পথকুকুরের সমস্যা মেটাতে শর্মিলার আইনজীবীর দেওয়া সব যুক্তিই খারিজ করেছে বেঞ্চ। তাঁর আইনজীবী বলেন, কিছু কুকুরকে হয়তো হত্যা করা প্রয়োজন। কিন্তু তারা যে আগ্রাসী তা স্থির করতে উপযুক্ত বিশেষজ্ঞ কমিটি প্রয়োজন।
সওয়ালে শর্মিলার আইনজীবী বলেন, দিল্লির এমস হাসপাতালের চত্বরে দীর্ঘদিন ধরে ‘গোল্ডি’ নামের একটি কুকুর থাকে। বিচারপতিরা পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘‘তাকে কি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারেও নিয়ে যাওয়া হয়? রাস্তার কুকুরের গায়ে পোকা (টিক) থাকবেই। টিক-সহ কুকুর হাসপাতালে থাকলে বিপর্যয় হবে।আপনি কি এটা বুঝতে পারছেন? আপনার বাস্তব সম্পর্কে ধারণাই নেই। হাসপাতালে থাকা এই কুকুরগুলিকে গৌরবান্বিত করবেন না।’’
শর্মিলার আইনজীবী জানান, জর্জিয়া, আর্মেনিয়ার মতো দেশে যে সব কুকুর মানুষকে কামড়েছে তাদের চিহ্নিত করতে রঙিন কলার ব্যবহার করা হয়। বিচারপতিরা বলেন, ‘‘ওই সব দেশের জনসংখ্যা কত? বাস্তবোচিত কথা বলুন।’’
প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি বলেন, আরাবল্লী পর্বতমালা নিয়ে মামলায় শীর্ষ কোর্টের তৈরি কমিটিতে বিশেষজ্ঞ না থাকায় সমস্যা হয়েছিল। পথকুকুর মামলাতেও আদালতবান্ধব ছাড়াও বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতি প্রয়োজন। আইনজীবী মহালক্ষ্মী পাবানি জানান, পথকুকুরদের যে সব মহিলা খেতে দেন ও দেখাশোনা করেন তাঁদের এক দল লোক গালিগালাজ করে। মারধরের অভিযোগও উঠেছে। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, মহিলাদের মারধর করা হলে এফআইআর করা হোক। প্রয়োজনে হাই কোর্টে মামলা করতে হবে। গত কালই শীর্ষকোর্ট ফের স্পষ্ট করে দিয়েছে, রাস্তা থেকে সব কুকুরকে সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়নি। প্রাণী জন্ম নিয়ন্ত্রণ বিধি (অ্যানিম্যাল বার্থ কন্ট্রোল রুলস) মেনে পথকুকুরদের বিষয়ে পদক্ষেপ করতে বলেছে আদালত।
অন্য দিকে আজ সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে পথকুকুর সমস্যা নিয়ে মামলাকে প্রাণীদের প্রতি নিষ্ঠুরতা ও কুকুরের আক্রমণের ভিডিয়ো দেখানোর প্রতিযোগিতা করে তুলতে দেওয়া হবে না। আজ আইনজীবী রাজশেখর রাও পথকুকুরদের উপরে অত্যাচারের ভিডিয়ো খতিয়ে দেখার আর্জি জানান। বিচারপতি সন্দীপ মেহতা বলেন, ‘‘ইউটিউবে শিশু ও বয়স্কদের উপরে কুকুরের হামলার অনেক ভিডিয়ো আছে। আমরা প্রতিযোগিতা চাই না।’’