সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। —ফাইল চিত্র।
ভোটদান বাধ্যতামূলক করার আর্জি খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ জানিয়েছে, ভোটদানের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা যায়। কিন্তু ভোট দেওয়ার জন্য কাউকে বাধ্য করতে পারে না আদালত। এ বিষয়ে সমাজের প্রান্তিক শ্রেণির পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের প্রশ্ন, “যদি সমাজের দরিদ্র বা নিম্নবিত্ত কোনও মানুষ বলেন, ‘আমাকে তো দিনমজুরি করে পেট চালাতে হয়। এ অবস্থায় আমি কী ভাবে ভোট দিতে যাব?’— আমরা তাঁদের কী উত্তর দেব!”
প্রত্যেকের ভোটদান বাধ্যতামূলক করা এবং কেউ ইচ্ছাকৃত ভাবে ভোট না দিলে শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। ইচ্ছাকৃত ভাবে ভোট না দেওয়া ব্যক্তিদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা বা অনুদানও সীমিত করার জন্যও নির্দেশিকা জারির আবেদন জানান মামলাকারী। বৃহস্পতিবার মামলাটি উঠেছিল প্রধান বিচারপতি কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চে। সেখানে তিন বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, এই বিষয়গুলি আদালতের এক্তিয়ারভুক্ত নয়। আদালত এ বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ করতে পারে না। এই ধরনের কোনও নির্দেশিকা ‘নীতি নির্ধারণকারী’ ক্ষেত্রের আওতায় পড়ে। বিচারবিভাগ থেকে এই ধরনের নির্দেশ দেওয়া যায় না। এ ক্ষেত্রে মামলাটি খারিজ করে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, আবেদনকারীকে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আর্জি জানাতে পারেন।
শুনানির এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি জানান, আইনি জোরজবরদস্তির চেয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই গণতন্ত্রের সঠিক বিকাশ হয়। তিনি বলেন, “এই দেশ আইনের শাসনে চলে এবং গণতন্ত্রে বিশ্বাস রাখে। গত ৭৫ বছর ধরে আমরা প্রমাণ করেছি যে, গণতন্ত্রের প্রতি আমাদের কতটা আস্থা রয়েছে। এ অবস্থায় প্রত্যেক নাগরিক ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন, এটাই প্রত্যাশিত। তবে কেউ যদি ভোট দিতে না যান, তো যাবেন না। এতে আমাদের কিছু করার নেই। এ ক্ষেত্রে শুধু সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। কিন্তু আমরা কাউকে ভোট দিতে বাধ্য করতে পারি না।”
ভোট দিতে না গিয়ে ঘরে বসে থাকাকে ‘অপরাধ’ হিসাবে গণ্য করা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, “এক জন নাগরিক যদি ভোট দিতে না যান, তবে আমরা আর কী-ই বা করতে পারি? আমরা কি এখন নির্দেশ দেব যে, তাঁদের গ্রেফতার করা হোক?” মামলাকারীর আবেদনের প্রেক্ষিতে বাস্তবে কী কী সমস্যা রয়েছে, সে কথাও তুলে ধরে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানায়, ভোটের দিনগুলিতে বিচারপতিদের এবং অন্য অনেক নাগরিককেই নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে হয়। সেই দিনগুলি যে ওই নাগরিকদের পেশাগত জীবনে কর্মদিবস হিসাবেই গণ্য হয়, সে কথাও উল্লেখ করেন প্রধান বিচারপতি।