—প্রতীকী চিত্র।
: এক বছরেরও বেশি উচ্চাবচ কূটনৈতিক পথ অতিক্রম করে ভারত আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির প্রথম পর্যায়ের বোঝাপড়ায় পৌঁছল। কূটনৈতিক শিবির মনে করছে, একই সঙ্গে নরম ও গরম বিদেশনীতির আশ্রয় নিয়েই এই চুক্তির পথে এগিয়েছে সাউথ ব্লক, কয়েক মাস আগেও যা দুঃসাধ্য বলে মনে হচ্ছিল। এক দিকে ভারত রাশিয়া থেকে অশোধিত তেল আমদানি একেবারেই কমিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে আমেরিকার বিভিন্ন দাবি মেনে নিয়েছে। অন্য দিকে ব্রিটেন এবং ইইউ-সহ বিভিন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করে পরোক্ষে চাপও বাড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের উপর। দেশের ভিতরেও যাতে ট্রাম্প কিছুটা চাপে থাকেন, তার জন্য আমেরিকার বিভিন্ন লবি সংস্থাকে টাকা দিয়ে সক্রিয়তা বহাল রেখেছে সাউথ ব্লক।
এটা ঘটনা যে, ভারত আমেরিকার থেকে তেল কেনা এক ধাপে অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে ট্রাম্পকে তুষ্ট করতে। অপরিশোধিত তেল আমদানির মোট ১০ শতাংশ তেল এখন আমেরিকা থেকে কিনছে নয়াদিল্লি। পাশাপাশি আমেরিকান সংস্থার সঙ্গে এক বছরের তরলীকৃত গ্যাস আমদানি চুক্তি করেছে ভারতের তৈল শোধনাগারের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা। পাশাপাশি দেশের পরমাণু বিদ্যুৎ ক্ষেত্র বেসরকারি সংস্থার জন্য খুলে দিয়ে এবং পরমাণু চুল্লি সরবরাহকারী বিদেশি সংস্থাগুলিকে যে কোনও দুর্ঘটনা থেকে দায়মুক্ত করে দিয়ে মোদী সরকার সংসদে ‘শান্তি’ বিল পাশ করিয়েছে শীতকালীন অধিবেশনে। এটাও আমেরিকার মুখ চেয়েই। বিষয়টিকে তখনই স্বাগত জানিয়ে অসামরিক পরমাণু ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে গভীরতর সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিল তৃপ্ত আমেরিকা। ২০২৫ সালে কেন্দ্রীয় বাজেটে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মোটর সাইকেলের উপর থেকে আমদানি শুল্ক কমিয়েও আমেরিকাকে খুশি করতে চেষ্টা করেছে ভারত। ট্রাম্প চাপ দিচ্ছিলেন ভারতের বাজারে হার্লে ডেভিডসনের প্রবেশ সুগম করা নিয়ে।
অন্য দিকে মোদী সরকার কৌশলগত দিকে কিন্তু অবস্থান লঘু করেনি। প্রায় সত্তরবার ট্রাম্প ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে মধ্যস্থতা করার দাবি করলেও ভারত তা মেনে নেয়নি। বরং সংযত ভাবে এই তত্ত্বের প্রতিবাদই করে গিয়েছে। বারবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ভারতের ডিজিএমও-কে পাকিস্তানের ডিজিএমও-র করা অনুরোধবশতই সংঘাতবিরতি হয়েছে। পাকিস্তান ট্রাম্পের নোবেল পুরস্কারের জন্য গলা তুললেও ভারত তা থেকেবিরত থেকেছে।