পরিবারে কোলেস্টেরল ও হার্টের রোগের ইতিহাস থাকলে কখন সতর্ক হবেন? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
বাইরে থেকে একদম সুস্থ। কেবল জোরে হাঁটাহাঁটি বা সিঁড়ি ভাঙলে হাঁপিয়ে উঠছেন প্রায়ই। অবশ্য তা তো কমবেশি সকলেরই হয়— এমন ভেবেই নিশ্চিন্ত থাকেন অনেকে। কিন্তু বুঝতে পারেন না চুপিসারে রক্তে কখন মিশে গিয়েছে একগাদা খারাপ কোলেস্টেরল। ‘এলডিএল’ বা লো ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিনকেই খারাপ কোলেস্টেরল বলে যা নাকি জিনগত ভাবে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও আসতে পারে। উচ্চ কোলেস্টেরল ও সে কারণে হৃদ্রোগের পারিবারিক ইতিহাস থাকলে, তাই সতর্ক থাকতেই বলা হয়। কখন বুঝবেন সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে?
কোলেস্টেরলের সঙ্গে হার্টের অসুখের সম্পর্ক আছে শুধু নয়, একেবারে প্রত্যক্ষ ভাবেই আছে। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়লে তা হৃদ্রোগের ঝুঁকি নিশ্চিত ভাবেই বাড়িয়ে তোলে। এই কোলেস্টেরল বৃদ্ধির বিষয়টিও আবার অনেক ক্ষেত্রেই বংশানুক্রমিক হয়। দাদু-ঠাকুরমা বা বাবা-মায়ের থেকে ছেলেমেয়েদেরও হাইপার কোলেস্টেরল হওয়ার আশঙ্কা থাকে কম বয়স থেকেই। তবে সেটা পরীক্ষা ছাড়া চট করে বোঝা সম্ভব হয় না। সেই না-বোঝা থেকেই অনেক সময়ে বিপদ ঘটে যায়।
হার্টের চিকিৎসক সুশান মুখোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, পরিবারে যদি হাইপার কোলেস্টেরলের ইতিহাস থেকে থাকে, তা হলে কম বয়স থেকেই, মোটামুটি ২০-২৫ বছর থেকেই রক্তপরীক্ষার মাধ্যমে কোলেস্টেরলের পরিমাণ পরীক্ষা করা উচিত। লিপিড প্রোফাইল টেস্ট করে খুব সহজেই দেখা যেতে পারে কোলেস্টেরল স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কি না। কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়া মানেই ধরে নেওয়া হয়, হার্টের অবস্থা ভাল নেই। হৃদ্রোগ হানা দিতে পারে যখন তখন। প্রত্যেকের শরীরে রয়েছে অজস্র ধমনী। শরীরে যেমন মেদ জমছে, তেমনই এই ধমনীগুলিতেও মেদ জমে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে যাকে বলা হয় অ্যাথেরোসক্লেরোসিস। এর জন্য কোলেস্টেরলকেই দায়ী করা হয়।
কখন সতর্ক হতে হবে?
২০ বছরের পর থেকেই সতর্ক হওয়া জরুরি। তবে যদি স্থূলত্ব বা ডায়াবিটিস কম বয়স থেকেই থাকে, তা হলে বেশি দেরি করা চলবে না। সবচেয়ে আগে সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিন টেস্ট করিয়ে নিতে হবে। অনেক সময়েই দেখা যায়, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিক। অথচ হৃদ্রোগ বা স্ট্রোক ঘটল। এর কারণই হল ওই প্রোটিন। কারণ রক্তে প্রোটিনটির পরিমাণ বেড়ে গেলে, প্রদাহ এতটাই বাড়বে যা রক্তচলাচলে ক্রমাগত বাধা দিতে থাকবে। রক্তে সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিনের মাত্রা প্রতি ডেসিলিটারে ১ মিলিগ্রাম বা তার কম হলে হৃদ্রোগের ঝুঁকি কম। তবে যদি তা প্রতি ডেসিলিটারে ৩ মিলিগ্রাম বা তার বেশি হয়ে যায়, তখন বুঝতে হবে চিন্তার কারণ আছে।
সেই সঙ্গেই হিমোসিস্টিন রক্ত পরীক্ষা করাতে হবে। এটি এক ধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিড, যা খাবারের বিপাকের সময়ে তৈরি হয়। ভিটামিন বি-এর সঙ্গে মিশলে হিমোসিস্টিন বদলে গিয়ে বি৬, বি১২ ও ফোলিক অ্যাসিড তৈরি করে। কিন্তু গোলমালটা বাধে, যখন এই অ্যামাইনো অ্যাসিডের মাত্রা অনেকটা বেড়ে যায়। তখন এটি ধমনীর ভিতরে জমা হতে থাকে ও রক্তপ্রবাহে বাধা তৈরি করে। দিনের পর দিন যদি রক্তে হিমোসিস্টিন জমা হতে থাকে, তা হলে ধমনীতে তা ‘প্লাক’-এর মতো জমতে থাকবে ও হার্ট ব্লকেজের কারণ হয়ে উঠবে। তা ছাড়া
নিয়মিত ই সি জি পরীক্ষা, ব্লাড সুগারের পরীক্ষা এবং ব্লাড প্রেসার পরীক্ষা করাতে হবে। দিনে অন্তত এক মাইল হাঁটতে হবে। ধূমপানের অভ্যাস থাকলে তা বর্জন করতে হবে। মদ্যপান বন্ধ করতে হবে।