Indian Prisoners released From Pakistan

‘ওঁরা আমাদের চোখ-মুখ বেঁধে পাক সেনার হাতে তুলে দেন’! বন্যায় ভেসে পাকিস্তানে সাত ভারতীয়, তিন বছর পর মুক্তি

জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালে বন্যার সময় নিজেদের গবাদি পশু বাঁচাতে গিয়ে বন্যার জলে ভেসে যান ওই সাত জন। মুক্তি পাওয়া এক ভারতীয়ের দাবি, জলের স্টোর এতটাই বেশি ছিল যে সীমান্তরেখা পেরিয়ে গিয়েছেন বুঝতে পারেননি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:১৫
পাকিস্তানের জেল থেকে মুক্তি পাওয়া ভারতীয়দের চার জন। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

পাকিস্তানের জেল থেকে মুক্তি পাওয়া ভারতীয়দের চার জন। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বন্যার জলে ভেসে গিয়েছিলেন ওঁরা। সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে পৌঁছে গিয়েছিলেন। সেখানে পৌঁছে এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয় তাঁদের। তিন বছর পাকিস্তানের জেলে বন্দি থাকার পর অবশেষে মুক্তি পেলেন সাত ভারতীয়। দেশে ফিরে ভয়ানক অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন তাঁরা।

Advertisement

সংবাদসংস্থা এনআই জানিয়েছে, পঞ্জাবের অটারী সীমান্তে রবিবার সকালে বিএসএফের হাতে ওই সাত জনকে তুলে দেয় পাক রেঞ্জার্স। অটারী সীমান্তের প্রোটোকল অফিসার অরুণ মহল জানিয়েছেন, সাত ভারতীয়ের মুক্তির নথিপত্র এসে পৌঁছয় তাঁদের কাছে। তার পরই ওই সাত জনকে ফিরিয়ে আনার বন্দোবস্ত করা হয়। মুক্তি পাওয়া সাত ভারতীয়ের মধ্যে চার জন পঞ্জাবের ফিরোজ়পুরের, এক জন করে জালন্ধর এবং লুধিয়ানার এবং এক জন উত্তরপ্রদেশের।

জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালে বন্যার সময় নিজেদের গবাদি পশু বাঁচাতে গিয়ে বন্যার জলে ভেসে যান ওই সাত জন। মুক্তি পাওয়া এক ভারতীয়ের দাবি, জলের স্টোর এতটাই বেশি ছিল যে সীমান্তরেখা পেরিয়ে গিয়েছেন বুঝতে পারেননি। অন্য এক জন বলেন, ‘‘আমরা একসঙ্গে তিন জন ভেসে গিয়েছিলাম। পাকিস্তানে ঢুকে পড়েছি যখন বুঝতে পারি, তখন আর কিছু করার ছিল না। সেখানে একটি বাড়িতে আমরা তিন জনে যাই। ওই বাড়ির লোকজনদের বলি, আমাদের ভারতীয় সেনার কাছে পৌঁছে দিন। কিন্তু ওঁরা তা না করে পাকিস্তানি সেনাকে খবর দেন।’’

তাঁর কথায়, ‘‘পাকিস্তানি ওই পরিবারকে জানিয়েছিলাম যে, বন্যায় ভেসে চলে এসেছি আমরা। কিন্তু ওরা আমাদের কথা শোনেনি। আমাদের আটকে রাখে ওরা। তার পর মুখ ঢেকে দেওয়া হয়। বার বার অনুরোধ করেছিলাম, ভারতীয় সেনার হাতে তুলে দিতে। কিন্তু টানতে টানতে আমাদের পাক রেঞ্জার্সের হাতে তুলে দেয়। তার পর আমাদের গ্রেফতার করা হয়। পাঠানো হয় জেলে।’’

আরও এক ভারতীয় বন্দি জানান, তাঁদের একটি অন্ধকার ঘরে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। যখনই মনে হত, সেই ঘর থেকে বার করে মারধর করা হত। আবার ঘধরে বন্দি করে রাখা হত।তবে বন্দিদের সকলেই ভারত সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের কথায়, ‘‘সরকার যদি তৎপর না হত, তা হলে হয়তো এত তাড়াতাড়ি মুক্তি পেতাম না।’’

Advertisement
আরও পড়ুন