কাকলি ঘোষ দস্তিদার। — ফাইল চিত্র।
তৃণমূল ছেড়ে ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অব ইন্ডিয়ায় মিশে যাওয়া সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার একপক্ষ কাল আগেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে প্রাক্তন রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। সূত্রের খবর ওই বৈঠকে তাঁর বক্তব্য ছিল, নাবালিকা বিবাহে পশ্চিমবঙ্গ যে দেশের মধ্যে শীর্ষে, সেই তথ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব সময়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে গিয়েছেন।
আজ কার্শিয়াঙে চিয়া কুটিরে ওই কমিটিই দ্বিতীয় দফায় বৈঠকে বসে রাজ্যে শিশু পাচার, শিশুদের প্রতি অপরাধ, নাবালিকা বিবাহের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে। রাজনৈতিক সূত্রের খবর, পাহাড়, চা-বাগান এলাকা থেকে শিশু পাচারের ঘটনার বিষয়েও প্রশাসনের কাছে জানতে চাওয়া হয়। জানা গিয়েছে, আজকের বৈঠকেও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে যোগ দেওয়া আমলাদের কাছে বিগত সরকারের গত ১৪ বছরের ‘গাফিলতি’ তথ্য, পরিসংখ্যান-সহ তুলে ধরেছেন কাকলি।
প্রসঙ্গত কাকলি যে অভিযোগ করেছেন, তার সত্যতায় গত মাসেই সিলমোহর দিয়েছে ষষ্ঠ জাতীয় স্বাস্থ্য পারিবারিক সমীক্ষা। যাতে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের ২০-২৪ বছর বয়সি মহিলাদের মধ্যে ৩৬.৪ শতাংশেরই ১৮ বছরের কম বয়সে বিয়ে হয়ে গিয়েছে। কন্যাশ্রী কিংবা রূপশ্রীর মতো সরকারি প্রকল্প থাকলেও নাবালিকা বিয়ের ধারাবাহিক গ্রাস থেকে বেরোতে পারেনি রাজ্য। রাজনৈতিক সূত্রের খবর, আজ কাকলি বৈঠকে বলেছেন, রাজ্য জুড়ে নাবালিকার উপরে অপরাধের অভিযোগ থানায় দায়ের হওয়া সত্ত্বেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি বেশ কিছু এলাকায় সে সময় ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতারা পুলিশকে প্রভাবিত করে বা ভুক্তভোগী পরিবারকে ভয় দেখিয়ে অপরাধীকে আড়াল করেছেন— এমন অভিযোগও উঠেছে। শিশু অপরাধ বিশেষ করে নাবালিকাদের ভুল বুঝিয়ে পাচারের ঘটনা সাইবার অপরাধের সঙ্গে যুক্ত এবং তা পশ্চিমবঙ্গেও বাড়ছে বলে উপস্থিত রাজ্য পুলিশ কর্তাদের সতর্ক করেছেন কাকলি।
আগামী পরশু এই সংক্রান্ত তৃতীয় বৈঠকটি বসবে সিকিমে। নাবালিকা পাচারের ঘটনায় এই অঞ্চল দিয়ে নেপালের রুটটি নিয়ে কমিটির সদস্যরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে খবর। কাকলির মতে, পশ্চিমবঙ্গে গোটা বিষয়টি বেশি বিপদজনক এবং আরও বেশি নিরাপত্তা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। কারণ এটি সীমান্ত রাজ্য। কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার যে সংস্থাগুলির মাধ্যমে শিশু সুরক্ষার কাজ করে থাকে, তাদের পুঁজিতে টানের বিষয়টিও আলোচনায় উঠেছে। বেশ কিছু ব্যাঙ্কের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, তাদের সিএসআর বাবদ যে খরচ করার কথা ছিল, তা করা হয়নি কেন।