সোনম ওয়াংচুক। —ফাইল চিত্র।
লাদাখকে সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের আওতাভুক্ত করে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে আবার শুরু হল বিক্ষোভ। সোমবার থেকেই রাজধানী লেহ্-সহ বিভিন্ন জনপদে হাজার হাজার মানুষ পথে নেমেছেন। ঠিক যেমনটা দেখা গিয়েছিল ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে।
ঘটনাচক্রে, সেপ্টেম্বরের সেই আন্দোলনের অন্যতম মুখ, পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের মুক্তির পরেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল জম্মু ও কাশ্মীর ভেঙে তৈরি হওয়া কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে। লাদাখের দু'টি প্রতিনিধি সংস্থা, অ্যাপেক্স বডি লেহ্ (এবিএল) এবং কারগিল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স (কেডিএ)-এর তরফে সোমবার বন্ধের ডাক দেওয়া হয়েছিল। তাদের ১৫ সদস্যের ‘হাই পাওয়ার্ড কমিটি’ (এইচপিসি) ষষ্ঠ তফসিল-সহ পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের দাবিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে।
এবিএল এবং কেডিএ এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘‘হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। যা আমাদের বৈধ ভাবে প্রাপ্য, তা থেকে আমরা সরে আসব না।’’ লেহ্ কাউন্সিলের পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৫-এর নভেম্বরে শেষ হয়েছে কিন্তু নতুন নির্বাচন হয়নি কেন, সে প্রশ্নও তুলেছে তারা।
গত সেপ্টেম্বরে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখের রাজধানী লেহ্তে হিংসাত্মক বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে ওয়াংচুককে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ওই বিক্ষোভে চার জন নিহত এবং ১৫০ জনেরও বেশি আহত হয়েছিলেন। গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বরের আন্দোলনপর্বে লাদাখে পুলিশের গুলিতে চার জন মারা গিয়েছিলেন এবং পরিবেশ কর্মী সোনম ওয়াংচুককে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের অধীনে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার ওয়াংচুককে জোধপুর জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। তার পরেই নতুন করে অশান্তি ছড়িয়েছে লাদাখে। এইচপিসি সদস্য এবং এবিএল-এর ভাইস চেয়ারম্যান চেরিং ডরজাই ল্যাকরুক সোমবার ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, ‘‘বিপুল জনতার অংশগ্রহণ সত্ত্বেও প্রতিবাদ শান্তিপূর্ণ ছিল। পুলিশ আমাদের থামাতে কয়েকটি ব্যারিকেড তৈরি করেছিল, কিন্তু আমরা সকলকে ধৈর্য ধরে থাকার আহ্বান জানিয়েছি, এবং আমরা তা শান্তিপূর্ণ ভাবে করেছি।’’