মাওবাদী দমন অভিযানে যৌথবাহিনী। —ফাইল চিত্র।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দেওয়া ‘চরম সময়সীমা’ শেষ হতে বাকি আর দেড় মাস। দেশ থেকে মাওবাদীদের নির্মূল করতে তাই ‘ফাইনাল অ্যাসল্ট’ শুরু করল যৌথবাহিনী। শনিবার ছত্তীসগঢ়ের বস্তার ডিভিশনের বিজাপুরে যৌথবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন দুই মাওবাদী।
বিজাপুর জেলা পুলিশ জানিয়েছে, ‘মাওবাদী মুক্ত ভারত’ গঠনের লক্ষ্যে সাফল্য পেয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। এই অভিযানে নিষিদ্ধ সংগঠন সিপিআই (মাওবাদী)-র সশস্ত্র শাখা পিএলজিএ (পিপলস লিবারেশন গেরিলা আর্মি)-র দুই সদস্যের মৃত্যুর পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র এবং কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। সূত্র মারফত মাওবাদী বাহিনীর গতিবিধির খবর পেয়েই উত্ত-পশ্চিম বিজাপুরে পাহাড়-জঙ্গলঘেরা অঞ্চলে শুক্রবার রাত থেকে অভিযান শুরু হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার ভোর থেকে দু’পক্ষের গুলির লড়াই শুরু হয়।
গত বছর ছত্তিশগড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে ২৮৫ জন মাওবাদী নেতা-কর্মী নিহত হয়েছিলেন। চলতি বছরে ৩ জানুয়ারি বস্তার ডিভিশনে দু’টি পৃথক সংঘর্ষে ১৪ জন মাওবাদীর মৃত্যু হয়েছিল। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে শাহের মন্ত্রকের তরফে ‘মাওবাদী দমন’ সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছিল। তাতে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জমানায় গত ১০ বছরে যৌথবাহিনীর অভিযানে মোট ১৮৬১ জন মাওবাদী নেতা-কর্মী নিহত হয়েছেন। গ্রেফতার করা হয়েছে ১৬৩৩৬-এর বেশি মাওবাদীকে। কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন ৯৫৮৮ জন। ২০২৪ সালে অগস্ট মাসে শাহ প্রতিশ্রতি দিয়েছিলেন ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে দেশ মাওবাদী মুক্ত করবেন।