Murshidabad Migrant Worker Death

লাঠিচার্জ করে বেলডাঙায় অবরোধ তুলল পুলিশ, গ্রেফতার করা হল বেশ কয়েক জনকে, এখনও বিপর্যস্ত ট্রেন পরিষেবা

লাঠিচার্জ করে বেলডাঙায় অবরোধ তুলল পুলিশ। মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ বলেন, “আমরা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে অবরোধ তোলার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু তাঁরা কোনও ভাবেই তাতে কর্ণপাত করছিলেন না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত আমরা লাঠিচার্জ করে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে বাধ্য হই।”

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:১৭
বেলডাঙা স্টেশন লাগোয়া রেলগেট ভেঙে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। এখনও বিপর্যস্ত ট্রেন পরিষেবা।

বেলডাঙা স্টেশন লাগোয়া রেলগেট ভেঙে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। এখনও বিপর্যস্ত ট্রেন পরিষেবা। —নিজস্ব চিত্র।

মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় লাঠিচার্জ করে অবরোধ তুলল পুলিশ। পরিস্থিতি সামলাতে শনিবার এলাকায় নামানো হয় র‌্যাফও। শনিবার দুপুরে বিক্ষোভকারীদের হটাতে লাঠিচার্জ শুরু করে পুলিশ। পাল্টা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছোড়েন বিক্ষোভকারীরা। গোটা এলাকা জুড়ে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই ২২ জনকে আটক করা হয়েছে।

Advertisement

বেলডাঙার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ বলেন, “আমরা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে অবরোধ তোলার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু তাঁরা কোনও ভাবেই তাতে কর্ণপাত করছিলেন না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষপর্যন্ত আমরা লাঠিচার্জ করে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে বাধ্য হই। এই মুহূর্তে এলাকায় কোনও পথঅবরোধ নেই।” তবে বিক্ষোভকারীরা রেলের সিগন্যাল পোস্ট ভেঙে দেওয়ার কারণে ট্রেন পরিষেবা এখনও স্বাভাবিক হয়নি।

দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ এলাকায় যান জেলার ভরতপুর কেন্দ্রের সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তিনি অবরোধ তোলার আর্জি জানালে তাঁর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের বচসা শুরু হয়।

শুক্রবার ঝাড়খণ্ডে কর্মরত মুর্শিদাবাদের এক পরিযায়ী শ্রমিককে খুন করার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল বেলডাঙায়। ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক এবং রেল অবরোধ করেছিলেন বিক্ষোভকারীরা। সাড়ে ৫ ঘণ্টা ধরে অবরোধ চলে। শনিবার বেলডাঙায় নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বেলডাঙার বড়ুয়া মোড় অবরোধ করেন কয়েকশো মানুষ। অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক। বিক্ষোভকারীরা বেলডাঙা স্টেশন লাগোয়া রেলগেটেও ভাঙচুর চালান। ভেঙে ফেলা হয় স্টেশনের কাছে থাকা রেলের সিগন্যাল। শুক্রবারের পর শনিবারও আক্রান্ত হন সাংবাদিকেরা।

দু’দিন ধরে জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে বিক্ষোভ চলার পরেও পুলিশ কার্যকরী পদক্ষেপ করছে না বলে অভিযোগ উঠেছিল। শনিবার দুপুরে অবশ্য পুলিশের বিশাল বাহিনী এলাকায় নামে। রেললাইন থেকে লাঠিচার্জ করে সরানো হয় বিক্ষোভকারীদের। অবরোধ হটাতে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছোড়া হয়। পাল্টা লাঠিচার্জ করে পুলিশও।

দুপুরেই ঘটনাস্থলে যান হুমায়ুন। তিনি বিক্ষোভকারীদের ‘হঠকারী’ সিদ্ধান্ত না-নেওয়ার পরামর্শ দেন। অবরোধ তুলে নেওয়ারও আর্জি জানান। অবরোধকারীরা তাতে রাজি হননি। এক সময় হুমায়ুনের সঙ্গে বাদানুবাদ শুরু হয় অবরোধকারীদের। চিৎকার করে হুমায়ুনকে বলতে শোনা যায়, “এ ভাবে সমস্যার সমাধান হবে?” পরে অবশ্য এলাকা ছাড়েন তিনি।

Advertisement
আরও পড়ুন