Yogi Adityanath

দুর্বল আসনে বুথের শক্তি বাড়াবেন যোগী

সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশে জাতপাত ও আঞ্চলিক ভারসাম্যের কথা মাথায় রেখে মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ করেন যোগী আদিত্যনাথ।

অনমিত্র সেনগুপ্ত
শেষ আপডেট: ১৮ মে ২০২৬ ০৯:১৪
যোগী আদিত্যনাথ।

যোগী আদিত্যনাথ। ফাইল চিত্র।

বছর ঘুরলেই উত্তরপ্রদেশ নির্বাচন। দু’বছর আগের লোকসভা নির্বাচনে বেশ ভাল রকম ধাক্কা খেয়েছিল শাসক দল বিজেপি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিতে নেমে পড়ল রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। প্রাথমিক ভাবে রাজ্যের প্রায় ৭৫টি আসনকে পাখির চোখ করেছে দল। যে আসনগুলিতে গত তিনটি বিধানসভা নির্বাচনে সে ভাবে সাফল্য পায়নি তারা।

সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশে জাতপাত ও আঞ্চলিক ভারসাম্যের কথা মাথায় রেখে মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ করেন যোগী আদিত্যনাথ। তার পরেই দিল্লি এসে দেখা করেন অমিত শাহের সঙ্গে। সূত্রের মতে, দুই নেতার মধ্যে উত্তরপ্রদেশের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। তার পরেই রাজ্যে ফিরে গিয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি পঙ্কজ চৌধুরি তথা দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বসেন যোগী। বৈঠকের পরেই ওই হেরে যাওয়া আসনগুলিতে জেতার লক্ষ্য নিয়েছে গেরুয়া শিবির। ওই আসনগুলির মধ্যে প্রায় পঁয়ত্রিশটির কাছাকাছি আসন রয়েছে আজমগঢ়, মউ, জৌনপুর, মির্জাপুরের মতো পূর্ব উত্তরপ্রদেশের এলাকায়। ওই জেলাগুলি মুসলিম অধ্যুষিত ও সমাজবাদী পার্টির দীর্ঘ দিনের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত। গত লোকসভাতেও ওই এলাকায় ভাল ফল করেছিল সমাজবাদী পার্টি।

এ ছাড়া প্রায় চল্লিশটির কাছাকাছি আসন রয়েছে পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর,মোরাদাবাদ, বুলন্দশহর, বিজনৌর, আমরোহা, আলিগড়, মিরাটে। কৃষক অধ্যুষিত ওই এলাকাও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। ফলে এই এলাকাতেও এসপি দলীয় ভাবে বেশ শক্তিশালী। বিধানসভা নির্বাচনে ওই এলাকাগুলিতে অখিলেশ যাদবের দলকে ধাক্কা দিতে এখন থেকেই মাঠে নেমে পড়ার পরিকল্পনা নিয়েছে গেরুয়া শিবির।

বিজেপি সূত্রের বক্তব্য, উত্তরপ্রদেশে গত প্রায় দশ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকলেও, এসপি-র ওই ঘাঁটিগুলিতে সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি বিজেপি। লোকসভায় ভাল ফল না করার পিছনে বুথকেন্দ্রিক দুর্বলতাকেই দায়ী করেছে দল। পশ্চিমবঙ্গে সাফল্যের পিছনে শক্তিশালী বুথ থাকায়, উত্তরপ্রদেশেও দলের বুথকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রাজ্যে যে ১.৬০ লক্ষ বুথ, প্রায় ২৫ হাজারের কাছাকাছি শক্তিকেন্দ্র ও দু’হাজারের কাছাকাছি মণ্ডল রয়েছে, সেগুলি বর্তমানে কী অবস্থায় রয়েছে গোড়ায় সেই সমীক্ষা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই সমীক্ষার ভিত্তিতে দলের দুর্বল বুথগুলিকে আগামী তিন মাসের মধ্যে কর্মী নিয়োগ করে শক্তিশালী করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, দলের জেতা-হারা অনেকাংশেই বুথ-শক্তির উপর নির্ভরশীল। পশ্চিমবঙ্গে দলের সাফল্য তা ফের প্রমাণ করে দিয়েছে। তাই উত্তরপ্রদেশে সবচেয়ে আগে বুথের শক্তিকে সংগঠিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল। বুথ কর্মীদের উপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়মিত সম্পর্ক রাখার পাশাপাশি ভোটারদের বাড়ি গিয়ে যোগাযোগ রক্ষা করার। পাশাপাশি স্থানীয় দলীয় নেতৃত্ব ও লোকাল কমিটির সঙ্গে সংযোগসাধন, স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক কাজকর্ম ধারাবাহিক ভাবে চালিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হবে বুথ স্তরের কর্মীদের।

আরও পড়ুন