Uttar Pradesh Cabinet Expansion

লক্ষ্য ২০২৭ সালের ভোট! সামাজিক সমীকরণকে মাথায় রেখেই মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ করল আদিত্যনাথ সরকার

উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রিসভায় রবিবার জুড়েছেন ছ’জন নতুন মন্ত্রী (দু’জন পূর্ণমন্ত্রী এবং চার জন প্রতিমন্ত্রী)। এ ছাড়া দুই প্রতিমন্ত্রীরও দায়িত্ব বৃদ্ধি হয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১০ মে ২০২৬ ২২:৩৭
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ।

উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ। —ফাইল চিত্র।

পশ্চিমবঙ্গ জয়ের পরে এ বার বিজেপির লক্ষ্য উত্তরপ্রদেশ ধরে রাখা। আগামী বছরে উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা ভোট রয়েছে। সেই নির্বাচনের লক্ষ্যে এখন থেকেই রণকৌশল সাজাতে শুরু করে দিয়েছে বিজেপি। মহিলা ভোট এবং অনগ্রসর শ্রেণির ভোটকে একত্রিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। জোর দেওয়া হচ্ছে সামাজিক বিন্যাসে। রবিবার উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রিসভায় যে সম্প্রসারণ হয়েছে, তাতেও ২০২৬ সালের ভোটমুখী পরিকল্পনাই প্রতিফলিত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথের মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন ব্রাহ্মণ, জাট, গুর্জর, লোধ, পাসওয়ান এবং অনগ্রসর শ্রেণির প্রতিনিধিরা।

Advertisement

উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রিসভায় রবিবার জুড়েছেন ছ’জন নতুন মন্ত্রী (দু’জন পূর্ণমন্ত্রী এবং চার জন প্রতিমন্ত্রী)। এ ছাড়া দুই প্রতিমন্ত্রীকে সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভায় স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীও করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি ভূপেন্দ্র চৌধরি এবং সমাজবাদী পার্টি ছেড়ে সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া মনোজ পাণ্ডেকে জায়গা দেওয়া হয়েছে মন্ত্রিসভায়। দুই প্রতিমন্ত্রী অজিতপাল সিংহ এবং সোমেন্দ্র তোমরকে স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। কৃষ্ণ পাসওয়ান, সুরেন্দ্র দিলের, হংসরাজ বিশ্বকর্মা এবং কৈলাশ রাজপুতও রবিবার শপথ নিয়েছেন। মন্ত্রিসভার এই সম্প্রসারণে একটি আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ভোটারদের মন স্পর্শ করার যে চেষ্টা করছে আদিত্যনাথের সরকার, তা মন্ত্রিসভার এই সম্প্রসারণ থেকেই আভাস পাওয়া যায়। যেমন মনোজকে মন্ত্রিসভায় জায়গা দিয়ে ব্রাহ্মণ ভোটব্যাঙ্ককে সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ভূপেন্দ্র আবার উত্তরপ্রদেশে জাট সম্প্রদায়ের অন্যতম রাজনৈতিক ‘মুখ’। তাঁকেও জায়গা দেওয়া হয়েছে মন্ত্রিসভায়। একইরকম ভাবে সোমেন্দ্রের দায়িত্ব বৃদ্ধি করে গুর্জর জনগোষ্ঠীকেও বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি পাসওয়ান ‘মুখ’ কৃষ্ণ এবং বাল্মীকি ‘মুখ’ সুরেন্দ্রকেও জায়গা দেওয়া হয়েছে। লোধ এবং বিশ্বকর্মার মতো অনগ্রসর এবং অতি অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর উপরেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে বিজেপি যে সব এলাকায় প্রত্যাশিত ফল পায়নি, সেই এলাকাগুলিতে ফাঁকফোকর পূরণ করার চেষ্টা চালাচ্ছে পদ্মশিবির। ওই সময়ে জাট ভোটব্যাঙ্কের সমীকরণ পুরোপুরি বিজেপির পক্ষে ছিল না। তা ছাড়া দলিত ভোটারদের একাংশও মায়াবতীর বিকল্প হিসাবে অখিলেশ যাদবের দলকে সমর্থন দিয়েছিল। এ অবস্থায় মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ করে উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষের মন ছোঁয়ার চেষ্টা করছে আদিত্যনাথ সরকার।

Advertisement
আরও পড়ুন