(বাঁ দিকে) শশীলকলা এবং প্রয়াত জয়ললিতা (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
নতুন দল গড়ার ঘোষণা করেছিলেন চলতি মাসেই। তামিলনাড়ুর প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার বান্ধবী তথা প্রাক্তন এডিএমকে নেত্রী শশীকলা নটরাজন এ বার জানালেন, তাঁর নতুন দল পিটিএমএমকে (পুরৎচ্চি থলাইভার মাক্কাল মুন্নেত্রা কাঝাগম) জোট বেঁধে আসন্ন বিধানসভা ভোটে ২৩৪টি আসনেই প্রার্থী দেবে। তাঁর এই ঘোষণার ফলে তামিলনাড়ুতে এডিএমকে-বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের উপর চাপ বাড়ল বলেই মনে করা হচ্ছে।
জয়ললিতার মৃত্যুর পরে শশীকলা এডিএমকের সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন। ‘ডেপুটি’ করেছিলেন তাঁর ভাইপো টিটিভি দীনকরণকে। কিন্তু দুর্নীতি মামলায় শশীকলার জেলের সাজা হওার পরে এম পলানীস্বামীর সঙ্গে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে কোণঠাসা হয়ে পড়েন দীনকরণ। এডিএমকে থেকে বহিষ্কৃত হয়ে ২০১৮ সালে তিনি নতুন দল এএমএমকে গড়েন। শশীকলাও সেই দলেই ছিলেন। কিন্তু বিধানসভা ভোটের আগে দীনকরণ এডিএমকে-বিজেপি জোটের সহযোগী হওয়ায় শশীকলা নতুন দল গড়ে লড়তে নেমেছেন। পাশে পেয়েছেন, ‘গৃহযুদ্ধে’ কোণঠাসা অনগ্রসর নেতা এস রামডসের দল পিএমকে (এস)-কে।
গত সেপ্টেম্বরে ‘পট্টালি মক্কাল কাচ্চি’ (পিএমকে)-র প্রতিষ্ঠাতা প্রধান এস রামাডস তাঁর পুত্র তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অন্বুমণিকে আগাছার সঙ্গে তুলনা করে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বরখাস্ত করেছিলেন। বিজেপির সহযোগী অন্বুমণি এর পর নিজের গোষ্ঠীকে ‘আসল পিএমকে’ বলে দাবি করে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হন। কমিশন সেই দাবি মেনেও নেয়। গত তিন দশক ধরে অন্বুমণিই দলের ‘পরবর্তী প্রধান’ হিসাবে পরিচিত ছিলেন দলের অন্দরে। বহিষ্কারের আগে পর্যন্ত তিনিই ছিলেন দলের কার্যনির্বাহী সভাপতি। কিন্তু গত বছরের গোড়ায় সমীকরণ বদলাতে শুরু করে। এস রামাডস তাঁর কন্যা গান্ধীমতিকে (শ্রীগান্ধী নামে দলের অন্দরে পরিচিত) কয়েক মাস আগে সক্রিয় রাজনীতিতে নিয়ে আসেন। এর পরে গান্ধীমতির পুত্র পি মুকুন্দনকে দলের যুবশাখার সভাপতি নিযুক্ত করেন। এর পরে অন্বুমণির স্ত্রী সক্রিয় রাজনীতিতে আসার ইচ্ছাপ্রকাশ করলেও প্রকাশ্যে সেই সম্ভাবনা খারিজ করে দিয়েছিলেন এস রামডস। তার পরেই পিতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন পুত্র অন্বুমণি।
উত্তর এবং মধ্য তামিলনাড়ুর প্রভাবশালী অনগ্রসর (ওবিসি) জনগোষ্ঠী ভান্নিয়ারদের মধ্যে পিএমকের সমর্থন প্রায় একচেটিয়া। সেই দলের প্রতিষ্ঠাতার পুত্র অন্বুমণি প্রথম ইউপিএ জমানায় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের সরকারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। তাঁর ‘সিগারেট বিরোধী’ পদক্ষেপ সে সময় জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল। অন্য দিকে, মধ্য এবং উপকূলীয় তামিলনাড়ুর আর এক প্রভাবশালী অনগ্রসর (ওবিসি) জনগোষ্ঠী থেবরদের মধ্যে শশীকলার প্রভাব রয়েছে। ঘটনাচক্রে, এই দু’টি জনগোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষমতাসীন ডিএমকের তেমন প্রভাব নেই। জয়ললিতার জমানায় শশীকলা, তাঁর স্বামী এম নটরাজন, বোনপো সুধাকরণ এবং ভাইপো দীনকরণের ‘মান্নারগুড়ি চক্রে’র বিরুদ্ধে ভূরি ভূরি দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। যার জেরে ২০১১ সালে তিরুভুর জেলার মান্নারগুড়ি শহরের বাসিন্দা এই পরিবারকে বহিষ্কার করেছিলেন। পরে অবশ্য প্রিয় বান্ধবীকে ক্ষমা করে দিয়ে দলে ফিরিয়েছিলেন আম্মা। কিন্তু জমি দুর্নীতি মামলায় জেল খাটতে হয়েছিল শশীকলাকে। দীর্ঘ এক দশক সক্রিয় রাজনীতি থেকে অনুপস্থিত নেত্রী দ্রাবিড় রাজনীতিতে নিজের প্রভাব কতটা অক্ষুণ্ণ রাখতে পেরেছেন, এ বারের ভোটে তার প্রমাণ মিলবে।