(বাঁ দিকে) অজিত পওয়ারের বিমানের বিমানকর্মী পিঙ্কি মালি। ভেঙে পড়া সেই বিমানের ধ্বংসস্তূপ (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
বুধবার সকালে মুম্বই থেকে বারামতীর পথে ভেঙে পড়েছে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের বিমান। অজিত-সহ বিমানে থাকা পাঁচ জনেরই মৃত্যু হয়েছে। ওই বিমানের এক তরুণী বিমানকর্মীর সঙ্গে তাঁর বাবার শেষ কথোপকথন প্রকাশ্যে এসেছে দুর্ঘটনার পর। উপমুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে একই বিমানে সফর করার সুযোগ পেয়ে যথেষ্ট উত্তেজিত ছিলেন ২৯ বছর বয়সি পিঙ্কি মালি।
অজিতের বিমানে সহযোগীর ভূমিকায় ছিলেন পিঙ্কি। তাঁর বাবা শিবকুমার মালি মহারাষ্ট্রের স্থানীয় শিবসেনা নেতা। তিনি জানিয়েছেন, মেয়ের সঙ্গে শেষ বার তাঁর ফোনে কথা হয়েছিল মঙ্গলবার সকালে। বাবাকে পিঙ্কি বলেছিলেন, ‘‘বাবা জানো, অজিত পওয়ারের সঙ্গে আমি কাল (বুধবার) বারামতী যাচ্ছি। ওঁকে নামানোর পর আমি নান্দেড়ে যাব। সেখানে হোটেলে ঢুকে তোমার সঙ্গে আবার কথা বলব।’’
মুম্বইয়ের বাসিন্দা হলেও পিঙ্কিরা আসলে থাকতেন উত্তরপ্রদেশের জৌনপুরে। ঠাণে থেকে পিঙ্কি উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন এবং বিমান সেক্টরে যোগ দেন। তাঁর বাবা জানিয়েছেন, এর আগে রাষ্ট্রপতি, একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং অনেক রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে পিঙ্কি একই বিমানে সফর করেছেন। অজিতের সঙ্গেও তাঁর সফর এই প্রথম ছিল না। এর আগে আরও তিন বার তিনি বর্ষীয়ান এনসিপি নেতার সফরসঙ্গী হয়েছেন বিমানকর্মী হিসাবে। তাঁর আচমকা মৃত্যুতে মুম্বই এবং জৌনপুরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আত্মীয়পরিজনেরা জানাচ্ছেন, বুধবারের বারামতীযাত্রা নিয়ে পিঙ্কি খুব উৎসাহী ছিলেন। ফোনে তাঁর কথাবার্তায় সেই উৎসাহ ধরা পড়েছিল। এমনকি, বারামতী পৌঁছোনোর পর অজিতের সঙ্গে আলাদা করে দেখা করার পরিকল্পনাও করেছিলেন তরুণী। সেটাই যে শেষ কথোপকথন, আর যে মেয়ের গলা শুনতে পাবেন না, ভাবতেও পারেননি শিবকুমার। পিঙ্কির বাড়িতে তাঁর বাবা-মা ছাড়াও এক ভাই এবং এক বোন রয়েছেন। বুধবার অজিতের বিমানে দুই পাইলট, পিঙ্কি ছাড়া ছিলেন অজিতের ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী বিদীপ যাদব।