PM Narendra Modi in Lok Sabha

লোকসভায় বেনজির পরিস্থিতি! মহিলা সাংসদেরা ঘিরে ধরেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর আসন? মুলতুবির আগে কী ঘটেছিল

বাজেট অধিবেশন চলছে। সকাল থেকেই বিরোধীদের বিক্ষোভে লোকসভা উত্তপ্ত ছিল। বিকেলে বিরোধীদের বিক্ষোভের জেরে ভাষণই বাতিল হয়ে গেল প্রধানমন্ত্রীর।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:৪৫
লোকসভার কক্ষে ট্রেজ়ারি বেঞ্চ ঘিরে মহিলা সাংসদেরা।

লোকসভার কক্ষে ট্রেজ়ারি বেঞ্চ ঘিরে মহিলা সাংসদেরা। ছবি: সংগৃহীত।

বুধবার লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ বাতিল হয়ে গিয়েছে। তিনি বলার আগেই মুলতুবি করে দিতে হয়েছে সভা। অভিযোগ, বিরোধী পক্ষের মহিলা সাংসদেরা নাকি প্রধানমন্ত্রীর আসন ঘিরে ফেলেছিলেন। হাতে বিশাল প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন সভাকক্ষের মধ্যেই। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সেই সময়ে সভার দায়িত্বে থাকা বিজেপি সাংসদ সন্ধ্যা রাই সভার কার্যক্রম মুলতুবি করে দিতে বাধ্য হন। বিজেপির অভিযোগ, বুধবার সংসদের নিম্নকক্ষে প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

Advertisement

বাজেট অধিবেশন চলছে। সকাল থেকেই বিরোধীদের বিক্ষোভে লোকসভা উত্তপ্ত ছিল। সেখানে আগের দিন বিরোধী পক্ষের আট জন সাংসদকে সাসপেন্ড করা হয়। তারই প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন কংগ্রেস-সহ বিরোধী সাংসদেরা। সকাল থেকে দফায় দফায় সভার কাজ মুলতুবি করে দিতে হয়। বিকেল ৫টা নাগাদ আবার সভা শুরু হয়েছিল। ওই সময়েই প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি বলার সুযোগই পাননি। সভা শুরু হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে বুধবারের মতো তা মুলতুবি ঘোষণা করা হয়।

বিজেপির অভিযোগ, বিকেল ৫টায় সভা শুরু হওয়ার পরেই বিরোধী মহিলা সাংসদেরা শাসকদলের সদস্যদের আসন ঘিরে ধরেন। ঘিরে ফেলা হয় ট্রেজ়ারি বেঞ্চ। তাঁদের হাতে বিশাল ব্যানারে লেখা ছিল, ‘‘যেটা সঠিক, সেটা করুন।’’ শাসকদলের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ওই মহিলারা স্লোগানও দিচ্ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কংগ্রেস সাংসদ বর্ষা গায়কোয়াড়, জ্যোতিমণি প্রমুখ। অভিযোগ, সভা মুলতুবি হওয়ার পরেও বেশ কিছু ক্ষণ ট্রেজ়ারি বেঞ্চ ঘিরে ছিলেন তাঁরা। একাধিক মন্ত্রী সরে যেতে অনুরোধ করলে তাঁরা সভা ছা়ড়েন।

বিজেপি সাংসদ মনোজ তিওয়ারির অভিযোগ, মহিলারা প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণের ছক কষেছিলেন। তিনি বলেন, ‘‘আজ যা হল, তা অত্যন্ত উদ্বেগের। কংগ্রেস যে কতটা মরিয়া, এটা থেকেই তা বোঝা যাচ্ছে। পূর্বপরিকল্পিত ভাবে মহিলা সাংসদেরা প্রধানমন্ত্রীর আসনের চারপাশে দাঁড়িয়েছিলেন। কিরেন রিজিজুর উপস্থিত বুদ্ধির কারণে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গিয়েছে।’’

বুধবারের এই ঘটনাপ্রবাহের সময়ে প্রধানমন্ত্রী লোকসভায় উপস্থিত ছিলেন না। সভা ছেড়ে বেরোনোর সময়ে কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী ভয় পেয়ে গিয়েছেন। তাই হাউজ়ে আসেননি। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী এবং বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে বুলেট ট্রেনের মতো ছুটে পালিয়ে গিয়েছেন।’’ পরে রাহুল গান্ধী সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘‘আমি তো বলেইছিলাম, প্রধানমন্ত্রী সংসদে আসবেন না। কারণ তিনি ভীত এবং তিনি সত্যের মুখোমুখি হতে চান না।’’

Advertisement
আরও পড়ুন