প্রতীকী ছবি।
উত্তরাখণ্ডের নৈনিতালে দিল্লির এক মহিলাকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠল এক ট্যাক্সিচালকের বিরুদ্ধে। কোনও রকমে ওই গাড়ি থেকে লাফ মেরে রাস্তার পাশের জঙ্গলে লুকিয়ে পড়েন মহিলা। সারারাত জঙ্গলেই কাটান। ভোরের আলো ফুটতেই পাশের গ্রামে পৌঁছোন তিনি। তার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশের দ্বারস্থ হন। বৃহস্পতিবার রাত দেড়টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে নৈনিতালের পাটোয়া ডাঙ্গারের কাছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, দিল্লি থেকে মহিলা দেহরাদূনে হয়ে কাঠগোদাম পৌঁছোন। নৈনিতালে যাওয়ার জন্য সেখান থেকে একটি ট্যাক্সি ভাড়া করেন। রাত তখন দেড়টা। মহিলাকে নিয়ে ট্যাক্সিচালক গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন। অভিযোগ, কিছু দূর যাওয়ার পরই রাস্তা বদল করেন চালক। তখন মহিলা আপত্তি জানিয়ে তাঁকে গাড়ি ঘোরানোর কথা বলেন। কিন্তু চালক গাড়িটি একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে দাঁড় করান। তার পর মহিলার যৌনহেনস্থা করেন বলে অভিযোগ। তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টাও করা হয়। ফোন কেড়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে চালকের হাত থেকে কোনও রকমে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে গাড়ি থেকে লাফ মারেন মহিলা। তার পর অন্ধকারের মধ্যেই রাস্তার পাশে থাকা জঙ্গলের দিকে ছুটে যান।
মহিলার দাবি, ট্যাক্সিচালকের হাত ছাড়িয়ে তিনি জঙ্গলে ঢুকে পড়েন। বেশ কিছু ক্ষণ চালক সেখানে অপেক্ষা করেছিলেন। তাঁর হাত থেকে বাঁচতে সারারাত জঙ্গলেই লুকিয়ে থাকেন তিনি। শুক্রবার সকালে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তিনি নিকটবর্তী থানার দ্বারস্থ হন। অভিযোগ পেয়েই তদন্তে নামে পুলিশ। ট্যাক্সি এবং চালককে চিহ্নিত করা হয়। তার পরই হলদওয়ানি থেকে অভিযুক্ত চালককে গ্রেফতার করে পুলিশ।
নৈনিতালের পুলিশ সুপার মঞ্জুনাথ টিসি জানিয়েছেন, পর্যটক এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সবার আগে। এই ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হবে। যাঁরা এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।