ভাগ করে নিন রান্নার গ্যাসের কাজ, ধুলো ঝেড়ে বার করুন বাক্সবন্দি যন্ত্র। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
আমেরিকা-ইজরায়েল বনাম ইরানের যুদ্ধের জেরে রান্নার গ্যাসের দাম বেড়েছে। এ দিকে সামনেই বিধানসসভা নির্বাচন। তা মাথায় রেখে অনেক গৃহস্থ আবার বলতে শুরু করেছেন, ভোটের আগেই যদি দাম বাড়ে, তবে ভোটের পরে কী হবে! এর সঙ্গে জুড়েছে গ্যাস সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ। গ্যাস ফুরোলে কবে আবার সিলিন্ডার বাড়িতে আসবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন সমাজের সর্বস্তরের মানুষ। সব মিলিয়ে জোর আলোচনায় উঠে আসছে রান্নার গ্যাস! এই অবস্থা সামাল দিতে বিকল্প রান্নার পদ্ধতির খোঁজ শুরু হয়েছে। এ ব্যাপারে ভাবতে বসে প্রথমে মাইক্রোওয়েভ অভেন আর ইনডাকশন কুকটপের কথাই মনে পড়বে অধিকাংশের। অথচ এই দুই বিকল্প রান্নার পদ্ধতি ছাড়াও এমন অনেক সহজলভ্য চেনা যন্ত্র রয়েছে যা রান্নার গ্যাসের কাজ ভাগ করে নিতে পারে। যার কয়েকটি হয়তো বাক্সবন্দি হয়ে পড়ে আছে বাড়ির কোনও বন্ধ দেরাজে। রান্নার গ্যাসের দাম যখন মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস তুলছে, তখন এই ধরনের যন্ত্রই হতে পারে সাশ্রয়ের চাবিকাঠি। অনিশ্চিত সময়ের বন্ধুও।
১. রাইস কুকার
রাইস কুকারটি হাতের কাছে থাকলে তাতে যে শুধু রোজের ভাত রাঁধতে পারেন তা নয়, বিরিয়ানি-পোলাওয়ের মতো ভাতের রান্না, ডাল সেদ্ধ করা, সবজি সেদ্ধ করা, এমনকি তরকারিও রান্না করা সম্ভব। বাঙালি রান্নাঘরে নানা রকমের ভাপা রান্নার চল আছে। সে সবও খুব ভাল ভাবে রান্না হয় রাইস কুকারে। এই কুকারের সুবিধা হল, অটো-শাট অফ সুবিধাটি ব্যবহার করলে রান্না হওয়ার পরে আপনাআপনিই বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে বিদ্যুৎ বেশি পোড়ার ভয়ও নেই।
২. এগ স্টিমার
বাড়িতে প্রায় প্রতি দিনই ডিম সেদ্ধ করেন। সাধারণত বড় পাত্রে গ্যাসে জল বসিয়ে তাতে ডিম ফোটানো হয়। তাতে সময়ও লাগে এবং গ্যাসও পোড়ে। কিন্তু গ্যাস এবং সময় বাঁচিয়ে দিতে পারে ইলেকট্রিক এগ স্টিমার। কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেদ্ধ হবে ডিম। সেদ্ধ হলে আপনা হতেই বন্ধ হবে যন্ত্র।
৩. ইলেকট্রিক কেটলি
প্রায় সব পরিবারেই অন্তত একটি বিদ্যুৎ চালিত কেটলি থাকে। কিন্তু ব্যবহার হয় কম। অথচ ভেবে দেখুন, সারা দিনে চা খাওয়ার জন্য কত বার জল গরম করতে হয়। রান্নার জন্য, ঠান্ডা লাগলে ভেপার নেওয়ার জন্যও গরম করতে হয় জল। রান্নাঘরে হাতের কাছে ইলেকট্রিক কেটলিটি রেখে দিন। ২ মিনিটে গরম হবে লিটার খানেক জল। যখন যেমন দরকার ব্যবহার করুন। যাঁরা দুধ দিয়ে চা খান তাঁরাও গরম জলে চায়ের লিকার বানিয়ে তাতে দুধ মিশিয়ে চা বানিয়ে নিতেই পারেন।
৪. টোস্টার
জলখাবারে মাখন-পাউরুটি খাবেন। সেঁকতে গিয়ে বার করলেন চাটু বা প্যান। অথচ বিয়েতে উপহার পাওয়া টোস্টারটি পড়েই রয়েছে। যেহেতু তা রান্নাঘরে রাখা নেই, তাই টোস্ট বানানোর সময় চাটু বা তাওয়া প্যানই বার করেছেন। অথচ টোস্টার শুধু রান্নার গ্যাস সাশ্রয় করবে তা নয়, কাজটিও করবে কম সময়ে আর ভাল ভাবে। সবচেয়ে বড় কথা, টোস্ট মুচমুচে হবে নাকি নরম তার জন্য ঠায় প্যানের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না। রেগুলেটর সেট করে দিলে সেঁকার শেষে আপনা থেকেই বন্ধ হবে যন্ত্র।
৫. রুটি মেকার
যাঁদের পরিবারে অন্তত জনা চারেক সদস্য তাঁরা সাধারণত রাতের রুটি বাড়িতেই বানিয়ে নেন। তার জন্য গ্যাস খরচ হয় সব থেকে বেশি। কারণ রুটি প্রথমে চাটুতে সেঁকা, তার পরে জালে ফোলানো এই দুই প্রক্রিয়ায় গ্যাস অভেন জ্বালিয়ে রাখতে হয় দীর্ঘ ক্ষণ। রুটি মেকার এই দু’টি কাজ এবং রুটি বেলার কাজ করে দেবে একাই। এটি নিয়মিত ব্যবহার করলে রুটি সেঁকার জন্য গ্যাসের খরচ অনেকটাই বাঁচাতে পারেন।
৬. স্যান্ডউইচ মেকার
টোস্টারে শুধুই পাউরুটি সেঁকা হবে। স্যান্ডউইচ মেকারে চাইলে পাউরুটি সেঁকতে পরেন, আবার তার ভিতরে পুর ভরে স্যান্ডউইচও বানাতে পারেন। এ ছাড়া চাইলে অল্প মাখন আর রসুন দিয়ে গার্লিক টোস্ট বানানো যেতে পারে স্যান্ডউইচ মেকারে। নামমাত্র তেলে বিনা পরিশ্রমে ওমলেটও বানানো যাবে। যা একই সঙ্গে স্বাস্থ্যকর এবং সাশ্রয়ীও।
৭. গিজার
বাসন মাজার প্রয়োজনে জল গরম করেন অনেকে। কেউ আবার সারা বছরই গরম জলে স্নান করেন। রাতে অফিস থেকে ফিরে গরম জলে পা ভেজান কেউ কেউ। এ সবের জন্য অনেকটা গরম জলের প্রয়োজন হয়। ইলেকট্রিক কেটলিতে তার জোগান দেওয়া অসুবিধাজনক। তাই সেই জল গরম করতে গ্যাস খরচ হয় অনেকটাই। বদলে যদি গিজার ব্যবহার করা হয়, তবে তা গ্যাস যেমন বাঁচাবে, তেমনই সুবিধাজনকও হবে।