আমেরিকার ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’-এর তালিকায় অন্যতম ভদ্রেশকুমার চেতনভাই পটেলের মাথার দাম বাড়াল মার্কিন গোয়ন্দা সংস্থা এফবিআই। এফবিআই জানিয়েছে, পলাতক ভদ্রেশকুমারকে নিয়ে দেওয়া কোনও তথ্য ধরে যদি পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করতে পারে, তা হলে তথ্যদাতাকে পুরস্কারস্বরূপ ১০ লক্ষ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯.২ কোটি টাকা) দেওয়া হবে।
এফবিআইয়ের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’-এর তালিকায় থাকা কুখ্যাত প্রথম ১০ জনের মধ্যে ভদ্রেশকুমার অন্যতম। তিনি এক জন ভারতীয় নাগরিক। কী ভাবে এফবিআইয়ের কুখ্যাত পলাতকদের তালিকায় নাম তুললেন তিনি?
১৯৯০ সালের ১৫ মে গুজরাতের ভিরামগামে ভদ্রেশকুমারের জন্ম। ২০১৩ সালের নভেম্বরে পলক পটেলকে বিয়ে করেন তিনি।
বিয়ের বছরখানেক পর ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন দম্পতি। ভদ্রেশকুমারের বয়স তখন ২৪ বছর। পলকের বয়স ২১। তার পর থেকে সেখানেই ছিলেন তাঁরা। চাকরিও জুটিয়েছিলেন।
ভদ্রেশকুমার এবং পলক মেরিল্যান্ডের হ্যানোভারের আরুন্ডেল মিলস বুলেভার্ডে অবস্থিত একটি ডোনাটের (বৃত্তাকার মিষ্টি পাঁউরুটি জাতীয় আমেরিকার জনপ্রিয় একটি খাবার) দোকানে কাজ করতেন। ২০১৫ সালের ১২ এপ্রিল রাতের শিফ্টে কাজ করছিলেন তাঁরা।
অভিযোগ, ওই দিন রাতে সেই দোকানের মধ্যেই তরুণী স্ত্রী পলককে খুন করেন ভদ্রেশকুমার। তার পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। অনেক তল্লাশির পরেও তাঁর খোঁজ পায়নি পুলিশ।
২০১৭ সালের ১৮ এপ্রিল এফবিআইয়ের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় যুক্ত করা হয় ভদ্রেশের নাম। এফবিআইয়ের তথ্য অনুয়ায়ী, মধ্যরাতের ঠিক আগে দোকানের পিছনের ঘরে পলককে একাধিক বার ছুরিকাঘাত করেন ভদ্রেশকুমার। এর পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
ডোনাটের দোকান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর স্ত্রীর সঙ্গে যে অ্যাপার্টমেন্টে তিনি থাকতেন, সেখানে যান ভদ্রেশকুমার। সেখান থেকে কিছু ব্যক্তিগত জিনিসপত্র এবং নগদ টাকা নিয়ে বেরিয়ে যান। এর পর একটি ট্যাক্সি ধরেছিলেন তিনি।
ট্যাক্সিচালক ভদ্রেশকে নিউ জার্সির নেওয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে একটি হোটেলে নিয়ে যান। খুব ভোরে হোটেলে ঘর ভাড়া করেন তিনি। তবে তাঁর সঙ্গে কোনও ব্যাগ ছিল না।
পরের দিন সকালে ভদ্রেশকুমার হোটেল থেকে বেরিয়ে নেওয়ার্ক পেন স্টেশনে গিয়েছিলেন। ওই স্টেশনেই তাঁকে শেষ দেখা গিয়েছিল। তার পর থেকে আর কোনও দিন তাঁর খোঁজ পাওয়া যায়নি। কোনও সিসি ক্যামেরাতেও ধরা পড়েননি তিনি।
এফবিআইয়ের মতে, গা ঢাকা দেওয়ার সময় ভদ্রেশকুমার সশস্ত্র অবস্থায় ছিলেন এবং তাঁকে অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে বিবেচনা করা উচিত। তদন্তকারীদের বিশ্বাস, কানাডা, ভারত বা আমেরিকায় বিশেষ যোগাযোগ থাকতে পারে অভিযুক্তের। আর সে কারণেই তিনি গা ঢাকা দিতে সক্ষম হয়েছেন।
ভদ্রেশ পলাতক হওয়ার ১১ বছর পর এ বার তাঁর মাথার দাম বাড়াল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা। এফবিআই বাল্টিমোরের ভারপ্রাপ্ত বিশেষ আধিকারিক জিমি পলের কথায়, “আমরা আশা করছি ভদ্রেশকুমার পটেলের জন্য ১০ লক্ষ ডলারের পুরস্কারের ঘোষণা আমাদের অক্লান্ত অনুসন্ধানের প্রতি মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করবে এবং পলক পটেলকে ন্যায়বিচার দেওয়ায় আমাদের সাহায্য করবে।”
জিমি আরও বলেন, “পটেলের অপরাধ এবং এফবিআইয়ের ১০ জন মোস্ট ওয়ান্টেডের তালিকায় থাকার গুরুত্ব বোঝাতেই পুরস্কারের অর্থ বৃদ্ধি করা হয়েছে।”
এফবিআইয়ের ১০ জন ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকাটি একটি দীর্ঘস্থায়ী আইন প্রয়োগকারী উদ্যোগ, যা বিপজ্জনক পলাতকদের শনাক্ত করতে জনসাধারণের সহায়তা নেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
১৯৫০ সালে এটি তৈরি হওয়ার পর থেকে সাধারণ নাগরিকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অনেক পলাতককে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছেন মার্কিন তদন্তকারীরা।
এফবিআই জানিয়েছে, ভদ্রেশকুমার কোথায় রয়েছেন, সে সম্পর্কে তথ্য থাকলে যে কেউ এফবিআইয়ের সরকারি নম্বর বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারেন। জনসাধারণ যাতে অভিযুক্তকে পাকড়াওয়ের চেষ্টা না করেন, সেই অনুরোধও করা হয়েছে এফবিআই কর্তৃপক্ষের তরফে।
সব ছবি: সংগৃহীত।