শেখার মতো তিন সাজ! গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
কেমন সাজবেন? কী পরবেন?
রোজ কাজে বেরনোর আগে কিংবা কোনও বিয়ের অনুষ্ঠান বা পার্টিতে যাওয়ার আগে, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে আড্ডা দিতে বেরোলে, এমনকি নিছক বেড়াতে বেরোলেও এক বারের জন্য এ প্রশ্ন মাথায় আসে।
চারপাশে নানা জনকে নানা ভাবে সাজতে দেখে ভাবনা গুলিয়েও যায় অনেক সময়। হয়তো দেখলেন, ইদানীং সবাই খুব জমকালো পোশাক পরছেন। ‘ম্যাক্সিমালিজ়ম’ বা বাহুল্যই নতুন ‘ট্রেন্ড’। তার দু’দিন পরেই দেখলেন, বলিউডের কোনও নায়িকা খুব কম সেজে হাজির হয়েছেন কোনও জমকালো পার্টিতে। তাই নিয়েই শুরু হয়েছে আলোচনা। ধন্দে পড়লেন আপনি। তা হলে কেমন সাজবেন? বেশি, না কি কম!
এ সপ্তাহের বেছে নেওয়া তিনটি সাজে চোখ রাখলে এর উত্তর পেতে পারেন। বাছা হয়েছে বলিউড আর টলিউডের সঙ্গে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে যুক্ত তিন শৌখিনীকে। তাঁরা প্রত্যেকেই যে যাঁর সাজে নজর কেড়েছেন। অথচ বেশি সেজেছেন, বলতে পারবে না কেউ। আবার খুব কম সেজেছেন, তেমনও নয়। সেজেছেন পরিপাটি। এমন সাজের আবেদন কখনওই ‘ট্রেন্ড’-এর বাইরে নয়।
গৌরী খান
গৌরী খান যা পরেছেন, সেই পোশাকে যেমন রাতের যে কোনও জমকালো অনুষ্ঠানে যাওয়া যাবে, তেমনই সকালের কোনও হালকা অনুষ্ঠানেও যাওয়া যেতে পারে। সর্ষে হলুদ রঙের প্রি-স্টিচড রাফল শাড়ি পরেছেন তিনি। শাড়ির নকশায় জরির কাজ রয়েছে। তা সত্ত্বেও খুব বেশি জমকালো নয়। এ ছাড়া গৌরী শাড়ির জরির কাজের জাঁকজমককে কিছুটা কমিয়েছেন মেকআপেও। সাজের দুনিয়ায় যাকে বলা হয় ‘আন্ডারপ্লে’ করা। মেক আপে বাড়তি কিছু করেননি গৌরী। ন্যুড মেকআপ, ঢেউ খেলানো খোলা চুলে অন্য মাত্রা যোগ করেছে কপালের ছোট্ট লাল টিপ। এ সাজের মন্ত্র একটাই— পোশাক ভারী হলে, হালকা হতে হবে মেকআপ। আর লাল টিপ এ দেশীয় নারীর যে কোনও সাজকে অন্য মাত্রা দিতে পারে।
মিমি চক্রবর্তী
মিমি চক্রবর্তী পরেছেন ফিউশন পোশাক। তবে সাধারণত ফিউশন পোশাকে একাধিক সংস্কৃতির মেলবন্ধন থাকে বলে তাতে পরিপাটি ভাব কম থাকে। এ ক্ষেত্রে তা হয়নি। মিমি পরেছেন পঞ্জাবী মহিলাদের মতো হালকা একরঙা সিল্কের ধোতি স্কার্ট বা সিল্কের ড্রেপড স্কার্ট। আর তার সঙ্গে এক কাঁধ খোলা কিছুটা ভারী এমব্রয়ডারি করা টপ। সাজ যাতে খুব বেশি না হয়ে যায়, তাই গলা ফাঁকা রেখেছেন অভিনেত্রী। হাতে পরেছেন একটি আংটি। চোখে ঠোঁটে গালে খুব বেশি রঙের ছোঁয়া নেই। হালকা ব্রোঞ্জ টোন বজায় রেখে থেমেছেন। আর সেখানেই তাঁর সাজটি ভিড়ের মধ্যে আলাদা হয়েছে।
শ্যামৌপ্তি মুদলি
যাঁরা ভিড়ের মাঝে আলাদা হতে চান, আবার তার জন্য যে খুব বেশি চেষ্টা করেছেন, সেটা বোঝাতেও চান না, তাঁরা টেলিপাড়ার অভিনেত্রী শ্যামৌপ্তি মুদলির সাজ দেখে শিখতে পারেন। কালো রঙের একটি সাধারণ সুতির শাড়ি পরেছেন তিনি। তাতে ম্যাট গোল্ড রেশম পাড় আর আঁচলে সামান্য নকশা। জমিতে কারুকাজ নেই। কালো ছোট হাতা ক্রপ টপের সঙ্গে সেই শাড়ি জড়িয়ে নিয়েছেন। হাতে একটিও গয়না পরেননি। অলঙ্কারের কাজ করেছে পাড়ের সোনালি আভা আর মিনে করা পাথরের স্টেটমেন্ট নেকপিস। কপালে ছোট টিপ আর চোখে হালকা কাজল— ব্যস! তাতেই নজরকাড়া হয়েছে সাজ। জমকালো গয়না বা শাড়ির পাশেও এ সাজ চোখ টানবে।
কী শেখা গেল?
মেকআপ: মেকআপ বেশি নয়। বেশি রঙের ব্যবহার নয়, ত্বকের স্বাভাবিক রং বজায় রেখে সতেজ ভাব ফুটিয়ে তোলাই লক্ষ্য। যাতে খুব বাড়তি কিছু করেছেন বলে মনে না হয়।
গয়না: ভারী গয়না না পরে যে কোনো একটি ‘স্টেটমেন্ট’ গয়না বাছুন— হয় বড় দুল, নয়তো সুন্দর কোনও নেকপিস। আর যদি পোশাকে বেশি কারুকাজ থাকে, তবে নামমাত্র গয়না— ছোট্ট দুল, একটি আংটি।
রঙ: কালো বা হলুদের মতো ক্লাসিক রং কখনওই ফ্যাশনের বাইরে যায় না। তবে এখানে রং বাছা হয়েছে বুদ্ধি করে। বেশি না সেজেও শুধু পোশাকের যথাযথ রং বেছে নিয়েই নজর কাড়া যায়। তবে রং বেছে নেওয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে, তা ত্বকের সঙ্গে কতটা মাননসই হচ্ছে।