শ্যাম্পু করার সঠিক পদ্ধতি। ছবি: এআই সহায়তায় তৈরি।
শ্যাম্পু করার পদ্ধতি নিয়ে যতটা ভাবেন, তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় তার ব্র্যান্ড। শ্যাম্পু, কন্ডিশনার, মাস্ক, তেল, সিরাম— ক্রমেই বাড়তে থাকে কেশ প্রসাধনীর ভাঁড়ার। কিন্তু মাথা ধোয়ার কাজটিই যদি সঠিক নিয়মে না হয়, তা হলে ধীরে ধীরে চুলের ক্ষতি হতে পারে। চুল পড়া, চুলের পরত পাতলা হয়ে যাওয়া নিয়ে যখন চারদিকে উদ্বেগ শুরু হয়েছে, তখন ছোটখাটো বিষয়ের দিকে নজর দেওয়া দরকার। তাই পরের বার শ্যাম্পু করার আগে শুধু ব্র্যান্ড নয়, মাথা ধোয়ার পদ্ধতির দিকেও নজর দিন। অনেক সময় সুস্থ চুলের রহস্য লুকিয়ে থাকে ছোট ছোট অভ্যাসের মধ্যেই।
অভিনেত্রী সোহা আলি খানের পডকাস্টে এমনই জানালেন জনপ্রিয় কেশচর্চাশিল্পী ইয়ানি সাপাতোরি। তাঁর মতে, দিনে ৫০-১০০টি চুল পড়লে তা নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কারণ নেই। কিন্তু তার বেশি চুল ঝরলে মাথার ত্বকের পরীক্ষা করানো দরকার। পাশাপাশি, তিনি শ্যাম্পু করার সঠিক কৌশলও শেখালেন।
৭ ধাপে মাথা ধুতে হবে। ছবি: সংগৃহীত
শ্যাম্পু করার পদ্ধতি ধাপে ধাপে—
১. শ্যাম্পু গোটা চুলে মাখার দরকার নেই। কেবল মাথার ত্বকে শ্যাম্পু মাখতে হবে। ধীরে ধীরে আলতো চাপে ভাল করে মাথার ত্বক পরিষ্কার করতে থাকুন। এর ফলে চুলের গোড়ায় অন্য প্রসাধনীর অবশিষ্টাংশ, ঘাম, ধুলো, তেল, খুশকি ইত্যাদি থাকলে, তা ধুয়ে যাবে।
২. শ্যাম্পু মেখে খানিক ক্ষণ অপেক্ষা করে ধোয়ার দরকার নেই। সাবানের মতোই পরিষ্কার করার পর জল দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। কেবল সপ্তাহে এক বার নয়, কয়েক বার শ্যাম্পু করতে হবে। নয়তো চুলের গোড়ায় ময়লা জমে জমে চুলের ক্ষতি হবে।
৩. জলের দিকে বিশেষ খেয়াল রাখা দরকার। আর্সেনিকের মতো ভারী ধাতু মেশানো জল দিয়ে মাথা ধুলে তা উল্টে ক্ষতিকর হয়। তাই জলের কলে ছাঁকনির ব্যবহার করতে পারেন। তাতে ধাতব বস্তু থাকলে তা ছাঁকনিতে আটকে যাবে, আর আপনি পাবেন ভাল জল। পাশাপাশি, স্বাভাবিক তাপমাত্রার জল দিয়ে চুল ধুতে হবে। নয়তো মাথার ত্বকের প্রাকৃতিক তেল শুষ্ক হয়ে যাবে।
৪. তোয়ালে দিয়ে ঘষে ঘষে চুল শুকনোর অভ্যাস থাকলে তা বন্ধ করুন। খানিকটা লিভ-ইন কন্ডিশনার ব্যবহার করে চুলকে হাওয়ায় শুকোতে দিন। প্রথমে খানিকটা জল শুষে নেওয়ার জন্য তোয়ালে দিয়ে আলতো চেপে ধরলেই হবে। তার পর মোছার বদলে শুকোতে দিন বাতাসে। এতে চুলের আগা ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। সব মিলিয়ে চুলে জট পড়ার সমস্যা কমবে, চুল কোমল হবে, আর্দ্রতা বজায় থাকবে।
৫. বিজ্ঞাপনে মোহত হয়েই শ্যাম্পু কিনে নেন? ফলে যখন যা চোখে পড়ে, সেই সংস্থার শ্যাম্পু, কন্ডিশনার, মাস্ক কিনে ব্যবহার করেন। মাঝে মধ্যেই ব্র্যান্ড পাল্টে যায়। তার ফলে চুলের ক্ষতি হতে পারে। সর্বোচ্চ দু’টি ব্র্যান্ডের শ্যাম্পু বেছে নিন নিজের জন্য। প্রতি ৪ মাস অন্তর শ্যাম্পু বদলে ব্যবহার করুন।
৬. চুল ধোয়ার পর মাথার গোড়ার কিউটিকলগুলি খুলে যায়। এই সময়ে মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। এর ফলে তা মাথার ত্বকের ভিতর পর্যন্ত যেতে পারে। আর্দ্র করে মাথার ত্বক ও চুলকে। তার পর মাথা ধুয়ে কন্ডিশনার মেখে নিলে আর্দ্রতা ধরে রাখা সম্ভব হয়। এতে কোমল হয় চুল।
৭. অতিরিক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন না। মাথার ত্বক ও চুলকে নিঃশ্বাস নিতে দিন। আপনার চুলের কী প্রয়োজন, তা বুঝেই ব্যবহার করা উচিত।