ঘরোয়া টোটকায় ভরসা সুধা চন্দ্রনের। ছবি: সংগৃহীত।
দিন কয়েক আগে এক পুজোর আসরে ভজন শুনতে শুনতে আচমকা আচরণ পাল্টে যায় তাঁর। কেউ অনুমান করেন, তিনি অসুস্থ, কেউ বা ভাবেন, ঐশ্বরিক শক্তি তাঁর দেহে ও মনে প্রবেশ করেছিল। তার পর থেকেই ফের আলোচনার কেন্দ্রে হিন্দি টেলিভিশনের অভিনেত্রী সুধা চন্দ্রন। সাবেক প্রথায় বিশ্বাসী অভিনেত্রী ত্বকচর্চার ক্ষেত্রেও জীবন থেকে রাসায়নিকের প্রভাব দূরে রাখার চেষ্টা করেন বলে দাবি করেন। এ ক্ষেত্রে শিকড়ের কাছাকাছি থাকার পক্ষপাতী সুধা।
অভিনেত্রী সুধা চন্দ্রন। ছবি: সংগৃহীত
দিদিমা-ঠাকুরমা আর মায়ের থেকে শেখা ঘরোয়া টোটকার সাহায্যেই ত্বকের ঔজ্জ্বল্য ধরে রাখতে চান তিনি। কেরলের ভারতীয় পরিবারে বড় হয়ে ওঠা সুধা ছোট থেকে দেখে এসেছেন, ত্বক ও চুলের যাবতীয় যত্ন ঘরোয়া প্রথার সাহায্যেই হয়। সপ্তাহে দু’দিন, মঙ্গলবার ও শুক্রবার নারকেল তেল মেখে স্নান করা ছিল বাধ্যতামূলক। তাঁর বাড়ির বড়রা বিশ্বাস করতেন, স্কুল থাকলেও চুলে তেল মেখেই যেতে হবে। সেই প্রথা মেনে বড় হওয়া সুধা আজও মেকআপ তোলার জন্য নারকেল তেল ব্যবহার করেন। সিক্ত টিস্যু বা মেকআপ রিমুভার ব্যবহার করেন না তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘সবার আগে প্রয়োজন, বিশুদ্ধ নারকেলের তেলের জোগান। তাই আমি এখনও কেরল থেকেই নারকেল তেল আনাই।’’ তা ছাড়া ত্বককে ময়েশ্চারাইজ় করার জন্যও নারকেল তেলেই ভরসা রাখেন সুধা।
সাজের নিত্যপ্রয়োজনীয় উপাদান কাজলটুকুও দোকান থেকে কেনা হত না। সুধাদের পরিবারে ঘরে বানানো হত কাজল। সুধার কথায়, ‘‘এখন অনেকেই আমার চোখের প্রশংসা করেন। বলেন, আমার চোখের ভাষা খুব প্রাঞ্জল। তার প্রথম কারণ, আমি দক্ষিণ ভারতীয়, দ্বিতীয়ত, সারা জীবন ঘরে বানানো কাজল ব্যবহার করেছি। এখনও প্রাকৃতিক উপায়ে বানানো কাজল ব্যবহার করি। এমন এক জনের সন্ধান পেয়েছি, যিনি এই ব্যবসা করেন। ফলে ঘরে বানানো কাজল পেয়ে যাই নাগালেই।’’
ঘুমোতে যাওয়ার আগে সুধা রূপচর্চার বিশেষ রুটিন অনুসরণ করেন। কোনও দিন চোখে কাজল মেখে নেন, কোনও দিন বা ক্যাস্টর অয়েল প্রয়োগ করেন। যাতে চোখের পল্লব ঘন হতে পারে। তা ছাড়া কেরল থেকে আনা নানাবিধ তেল ও ভেষজ দিয়ে পুঁটলি বানিয়ে সারা গায়ে মালিশ করান সুধা। তাঁর শৈশব, কৈশোর, যৌবন পর্যন্ত কেরলে যে প্রথাগুলি মেনে চলার অভ্যাস ছিল না, তা থেকে সচেতন ভাবেই বিচ্যুত হননি অভিনেত্রী।