সাধারণ তেল নয়, বোতলবন্দি ‘জাদু’! কেন বিশ্ব জুড়ে রূপচর্চায় রাজত্ব করছে ‘তরল সোনা’?

নারকেল তেল বা কাঠবাদামের তেলের থেকে অনেকটাই আলাদা। অথচ রূপচর্চায় এই তেলই এখন আলোচনার বিষয়। এই তেল মাখলে ত্বক, চুল এবং নখের চেহারাই বদলে যাবে।

Advertisement
শেষ আপডেট: ০৭ মার্চ ২০২৬ ১৫:৫৫
Benefits of Argan oil for your hair, skin, and nails

রূপচর্চায় নারকেল তেল বা কাঠবাদামের তেলের ব্যবহার তো সেই কবে থেকেই হয়ে আসছে। হালে এসেনশিয়াল অয়েল নিয়ে আলোচনা হচ্ছে বেশি। এর মধ্যে আরও এক তেলের নাম শোনা যাচ্ছে, যার নাম আর্গন অয়েল। সাধারণ বাঙালি ঘরে আর্গন অয়েলের তেমন পরিচিতি নেই। কিন্তু বিশ্ব জুড়ে রূপচর্চার জগতে আর্গন তেলকে বলা হয় ‘ম্যাজিক অয়েল’। কেউ বলেন ‘তরল সোনা’। এর কয়েক ফোঁটাতেই ত্বক, চুলের ও নখের জেল্লা বেড়ে যেতে পারে কয়েকগুণ।

Advertisement

উত্তর আফ্রিকার ছোট্ট দেশ মরক্কোতে পাওয়া যায় আর্গন গাছ। এ গাছের ফল থেকেই তৈরি হয় তেল। এক লিটার তেল তৈরি করতে প্রায় ৩০ কেজি আর্গন ফলের প্রয়োজন হয় এবং এটি নিষ্কাশন করার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দীর্ঘ ও পরিশ্রমসাধ্য। সে কারণেই এই তেলের নাম ও দাম দুইই বেশি। খাঁটি আর্গন তেলের রং হয় উজ্জ্বল সোনালি। তাই এই তেলকে ‘তরল সোনা’ বলা হয়।

ভিটামিন ই-র গুণে এই তেল ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে দীর্ঘ সময়। যে কোনও সাধারণ ময়েশ্চারাইজ়ার বা বডি লোশনের চেয়ে ত্বককে অনেক বেশি কোমল ও মসৃণ করে তুলতে পারে। অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টযুক্ত এই তেল নিয়মিত মাখলে বহু পুরনো দাগছোপও উঠে যায়। তাই এই তেল ত্বকের তেলতেলে ভাব ও সেবাম উৎপাদনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। তাই ব্রণ বা ফুস্কুড়ির সমস্যা থেকে রেহাই পেতেও এই তেল উপযোগী। তবে আর্গন তেল কিনলেই হবে না, তার ব্যবহারের বিধিও জেনে নিতে হবে।

ত্বকের জন্য

এক চামচ আর্গন তেলের সঙ্গে এক চামচ দই ও এক চামচ মধু মিশিয়ে মুখে, হাতে ও পায়ে মালিশ করতে হবে। ১৫-২০ মিনিট রেখে ঈষদুষ্ণ জলে ধুয়ে নিতে হবে। সপ্তাহে তিন দিন আর্গন তেলের মালিশ করলে ত্বক উজ্জ্বল হবে, বার্ধক্যের ছাপ মুছে যাবে।

রাতে ঘুমনোর আগে ২-৩ ফোঁটা আর্গন তেল মুখে মালিশ করলে, ত্বক নরম হবে। ব্রণ-র‌্যাশ বা দাগছোপের সমস্য দূর হবে।

চুলের জন্য

শ্যাম্পু করার পরে কন্ডিশনারের বদলে কয়েক ফোঁটা আর্গন তেল চুলে মালিশ করলে, জেল্লা আরও বাড়বে। চুল রুক্ষ ও খসখসে হবে না।

হেয়ার মাস্কও বানানো যায় এই তেল দিয়ে। ২ চামচ আর্গন তেলের সঙ্গে একটি ডিমের কুসুম ও এক চামচ অ্য়ালো ভেরা জেল মিশিয়ে মাস্ক বানিয়ে নিন। এই মাস্ক চুলে ভাল করে মালিশ করে আধ ঘণ্টা রেখে ধুয়ে ফেলুন। চুলের গোড়া মজবুত করে চুল পড়া কমাতে এই তেলের মাস্ক কার্যকরী হতে পারে।

নখের যত্নে

নখ ভেঙে যাওয়া বা নখের চারপাশে চামড়া শক্ত হয়ে যাওয়ার সমস্যা থাকলে, আর্গন তেল ব্যবহার করতে পারেন। সমপরিমাণে আর্গন তেল ও লেবুর রস মিশিয়ে তাতে ১০ মিনিট দু’হাতের নখ ডুবিয়ে রাখুন। তার পর ধীরে ধীরে মালিশ করুন। নখের জেল্লা বেড়ে যাবে।

Advertisement
আরও পড়ুন