ঠান্ডা না গরম, কোন তাপমাত্রায় ত্বকচর্চা করবেন? ছবি: সংগৃহীত।
ধন্দে রয়েছেন? মুখে গরম ভাপ নেবেন না কি বরফজলে মুখ ডোবাবেন? শুনেছেন, দু’টিই ত্বকে জেল্লা আনতে পারে। অথচ পার্থক্য না জানায় কোন দিকে এগোবেন তা বুঝতে পারছেন না। গরম না ঠান্ডা?
এমন চাঁদিফাটা রোদ আর ভ্যাপসা রাতে ঠান্ডা সেঁকের ভাবনাই বেশি আরাম দেয় বটে। কিন্তু মুশকিল হল, সব ক্ষেত্রে তা উপকারী না-ও হতে পারে। আবার উষ্ণতার প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণও ত্বকের পক্ষে ক্ষতিকর হতে পারে। কেউ বলছেন, ভাপ নিলে ত্বকের রোমছিদ্র খুলে যায় এবং ত্বক পরিষ্কার হয়, আবার কেউ দাবি করছেন, বরফই ত্বককে টানটান ও উজ্জ্বল রাখার সেরা উপায়। ফলে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে— উজ্জ্বল ও সুস্থ ত্বকের জন্য আসলে কোনটি বেশি কার্যকর, গরম না ঠান্ডা, নাকি দু’টিই? কে, কখন, কোনটি বেছে নেবেন, জেনে নিন।
বরফজলে মুখ ডোবানো। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত
গরম ও ঠান্ডা— দু’টিই ত্বকচর্চায় ভূমিকা পালন করে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, অতিরিক্ত গরম বা অতিরিক্ত ঠান্ডা— কোনওটিই ত্বকের জন্য ভাল নয়। কোনটির কী প্রভাব এবং উপকারিতা?
ত্বকে উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাব
গরম ভাপের কারণে ত্বকের উপরিভাগে জমে থাকা তেল, মৃত কোষ এবং ময়লা আলগা হতে পারে। ফলে মুখ পরিষ্কার করা সহজ হয়। ভাপ নেওয়ার পরে ত্বক তুলনামূলক ভাবে নরম হয়ে যায়, রোমছিদ্র খুলে যায়। এতে ব্ল্যাকহেড্স বা জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করা সহজ হতে পারে। পাশাপাশি গরমের প্রভাবে রক্তনালিগুলি কিছুটা প্রসারিত হয়। সঞ্চালন বেড়ে যায়। এর ফলে ত্বকে সাময়িক লালচে আভা এবং সতেজ ভাব দেখা দিতে পারে। তবে অতিরিক্ত গরম জল বা ভাপ কখনওই ব্যবহার করবেন না। তাতে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল শুষে নিয়ে মুখ বেশি শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। ঈষদুষ্ণ জল সব সময়ে ভাল।
গরম ভাপ নিয়ে ত্বকচর্চা।
ত্বকে নিম্ন তাপমাত্রার প্রভাব
ঘুম থেকে ওঠার পরে চোখের নীচে ফোলা ভাব বা মুখে সামান্য ফোলা ভাব থাকলে ঠান্ডা সেঁক নিলে উপকৃত হতে পারেন। ঠান্ডা স্পর্শ ত্বকে দ্রুত সতেজতার অনুভূতি এনে দিতে পারে, বিশেষ করে গরমের দিনে। কিছু ক্ষেত্রে ঠান্ডা তাপমাত্রার কারণে রোমছিদ্রগুলি সঙ্কুচিত হয় বলে মুখটা টানটান লাগতে পারে। পাশাপাশি, রক্তনালিগুলিও সঙ্কুচিত হয়ে ফোলা ভাব কমাতে সাহায্য করে। তা ছাড়া মুখের প্রদাহ কমাতেও সাহায্য করে।
কোনটি আপনার জন্য উপকারী?
গরম: শুষ্ক, খসখসে, রুক্ষ ত্বকের জন্য গরম বাষ্পের ভাপ নিলে আরাম মিলতে পারে। এতে রক্তসঞ্চালন বেড়ে ত্বকে জেল্লা ফিরতে পারে। তা ছাড়া ঘাম, তেল, ময়লা যদি জমে গিয়ে রোমকূপ বন্ধ হয়ে যায়, তা হলে গরম সেঁকই কাজে আসবে। মুখ পরিষ্কার করার জন্য এই পদ্ধতি বেশি কার্যকর। শরীরের তাপমাত্রা বাড়লে যখন প্রচুর ঘাম হয়, তখন সেই ঘাম ত্বককে ভিতর থেকে পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। এর ফলে ত্বকে উজ্জ্বল ভাব আসে। পাশাপাশি, অতিরিক্ত গরমের কারণে ব্রণ তৈরি করার ব্যাক্টেরিয়াগুলি মরে যায় এবং রোমছিদ্রের মুখ খুলে গিয়ে ময়লা পরিষ্কার হয়ে যায়। কিন্তু ব্রণের কারণে মুখ লাল হয়ে গেলে গরম সেঁক দেওয়া যাবে না। এর ফলে রক্তনালির মধ্যে দিয়ে অক্সিজেন এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান খুব সহজে যাতায়াত করতে পারে। এই অক্সিজেন ও পুষ্টি ত্বকের ক্ষতিগ্রস্ত কোষেরও মেরামত করতে পারে।
ঠান্ডা: ব্রণপ্রবণ ত্বকে ঠান্ডা সেঁকও কার্যকরী। দাগছোপের সম্ভাবনাও কম থাকে। ঠান্ডা চামচ, বরফজল বা বিভিন্ন আইস রোলার ব্যবহার করা যেতে পারে। অর্থাৎ যাঁদের ত্বকে ব্রণের সমস্যা বা প্রদাহের সমস্যা বেশি থাকে, তাঁরা ঠান্ডা সেঁক নেবেন। তা ছাড়া সকালে ত্বকের ফোলা ভাব কমাতেও এটি প্রয়োগ করা যেতে পারে। অতিরিক্ত ঠান্ডা হুট করে ত্বকে লাগালে রক্তনালি সঙ্কুচিত হয়ে চামড়ার ভিতরের সূক্ষ্ম নালি ছিঁড়ে যেতে পারে। তাই ত্বকের সুরক্ষায় সরাসরি তীব্র ঠান্ডা কিছু ব্যবহার না করে, ধীরে ধীরে প্রয়োগ করতে হবে। তাই কখন, কোনটি প্রয়োজন, তা বুঝে ব্যবহার করতে হবে।