Summer Skin Rash Remedies

ভ্যাপসা গরমে গালময় লাল লাল গুটি! ঘরোয়া পন্থায় ছোটখাটো বদল এনে ফিরে পান কোমল ত্বক

ঘর্মগ্রন্থির মুখ বন্ধ হয়ে গিয়ে ঘামাচি বেরোতে শুরু করে। ভ্যাপসা গরম আবহাওয়ায় যদি ঘাম ঠিক মতো বেরোতে না পেরে ত্বকের নীচে আটকে যায়, তখনই ছোট ছোট গুটি, লালচে ভাব আর চুলকানি দেখা দেয়। কী ভাবে এই পরিস্থিতি রুখবেন?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৩ মে ২০২৬ ১৮:২২
গরমে মুখের র‌্যাশকে রুখবেন কী ভাবে?

গরমে মুখের র‌্যাশকে রুখবেন কী ভাবে? ছবি: সংগৃহীত।

গরম পড়লেই গাল জুড়ে ছোট ছোট লাল গুটির দাপট বাড়তে থাকে। র‍্যাশ বা ঘামাচির কারণে চুলকানি ও জ্বালা ভাব পৌঁছোয় তুঙ্গে। এই ঘামাচি শুধু শরীরে নয়, মুখে, গালে, কপালেও হতে পারে। একে তো অস্বস্তি, তায় আবার সাজের দফারফা হতে পারে এর কারণে। বিশেষ করে যাঁদের ত্বক তৈলাক্ত বা যাঁরা দীর্ঘ ক্ষণ রোদে, ধুলোয় থাকেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।

Advertisement

ঘর্মগ্রন্থির মুখ বন্ধ হয়ে গিয়ে ঘামাচি বেরোতে শুরু করে। ভ্যাপসা গরম আবহাওয়ায় যদি ঘাম ঠিক মতো বেরোতে না পেরে ত্বকের নীচে আটকে যায়, তখনই ছোট ছোট গুটি, লালচে ভাব আর চুলকানি দেখা দেয়। গালের ত্বক যেহেতু তুলনায় বেশি স্পর্শকাতর, তাই সেখানে সমস্যা আরও বেশি চোখে পড়ে। এই ধরনের র‌্যাশ তৈরি হওয়ার পর তার দাপট রুখতে এবং হওয়ার আগে সতর্ক থাকতে কয়েকটি ঘরোয়া পন্থা মেনে চলুন।

মুখ পরিষ্কার রাখা দরকার এই সময়ে।

মুখ পরিষ্কার রাখা দরকার এই সময়ে। ছবি: সংগৃহীত

ঘরোয়া কয়েকটি পন্থা মেনে চললে এই র‌্যাশের দাপট রুখতে পারেন

১. এই পরিস্থিতিতে প্রথম কাজ হল মুখের ত্বক পরিষ্কার রাখা। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, দিনে দশ বার ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ঘষতে হবে। বরং ঘন ঘন মুখ ধুলে ত্বক বেশি শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে উঠতে পারে। দিনে সর্বোচ্চ দু’তিন বার ঠান্ডা জল দিয়ে মুখ ধুলেই যথেষ্ট। রোদে বাইরে থাকলে নরম ও সিক্ত কাপড়ে মুখ মুছে নিতে পারেন।

২. গরমে ভারী ক্রিম বা প্রসাধনী অথবা তেলজাতীয় পণ্য কিছু দিনের জন্য এড়িয়ে চলাই ভাল। এগুলি ত্বকের রন্ধ্র আরও বন্ধ করে দেয়। অনেক সময়ে দেখা যায়, ঘামাচির নেপথ্যে দায়ী হল, প্রসাধনীর একাধিক পরত।

৩. বালিশের কভার, তোয়ালে বা মুখ মোছার রুমাল নিয়মিত পরিষ্কার করাও জরুরি। গরমে এগুলিতে খুব দ্রুত ঘাম আর জীবাণু জমে। আর তা থেকে ত্বকের সমস্যাও বাড়তে পারে।

৪. যাঁরা বহু ক্ষণ রোদে বা বাড়ির বাইরে থাকেন, তাঁরা মুখে বার বার হাত দেওয়ার প্রবণতা কমানোর চেষ্টা করুন। হাতের ধুলো, ঘাম আর জীবাণু গালের ঘামাচিকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

৫. অবাধ্য চুল যদি বার বার গালে এসে পড়ে, তা হলেও সমস্যা বাড়তে পারে। বিশেষ করে মাথার ঘাম মুখে লাগলে গালে জ্বালা হতে পারে এবং র‍্যাশ আরও বাড়তে পারে। তাই গরমে চুল বেঁধে রাখলেই আরাম পাবেন।

৬. অনেকে ঘামাচি দেখলেই সঙ্গে সঙ্গে নানা ধরনের ক্রিম মাখতে শুরু করেন। কিন্তু সব ক্রিম মুখের জন্য উপযুক্ত নয়। হিতে বিপরীত হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। সম্ভব হলে পরিষ্কার কাপড়ে বরফের টুকরো মুড়ে কয়েক মিনিট গালে চেপে ধরে রাখলে স্বস্তি মিলতে পারে।

৭. খাবারদাবারের দিকেও সমান নজর দেওয়া দরকার। অতিরিক্ত ঝাল, তেলেভাজা বা কম জল খাওয়ার অভ্যাস শরীরের তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়। ফলে ত্বকেও তার প্রভাব পড়ে। তাই সারা দিনে পর্যাপ্ত জল পান করা এবং সুষম খাবার খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এতে র‌্যাশের অস্বস্তি কমতে পারে।

তবে যদি ঘামাচির সঙ্গে ব্যথা, পুঁজ, ফোলা বা জ্বরের মতো উপসর্গ দেখা যায়, তা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Advertisement
আরও পড়ুন