ত্বকের রন্ধ্রের প্রকৃতি কেমন? ছবি: সংগৃহীত।
ত্বকের ছিদ্র খোলা বা প্রসারিত না কি বন্ধ বা সঙ্কুচিত— ত্বকের অবস্থা অনেকাংশে নির্ভর করে এর উপর। এই ছিদ্রগুলি ত্বকের স্বাস্থ্যরক্ষায় বড় ভূমিকা পালন করে। ত্বকের প্রাকৃতিক তেল ( সেবাম) ও ঘাম উৎপাদনের পর সেগুলি ত্বকের উপরিভাগে আসতে সাহায্য করে এই ছিদ্রগুলি। আর এগুলির উপস্থিতি ত্বককে নানা ধরনের সমস্যা থেকে বাঁচায়। ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখা থেকে শুরু করে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা, অথবা শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বার করে দেওয়া। কিন্তু এই ক্ষুদ্র রন্ধ্রগুলি কখনও কখনও সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অনেক সময়ে ত্বকের ছিদ্র বেশি প্রসারিত থাকলে মনে হতে পারে, ত্বকে যেন ছোট ছোট গর্ত তৈরি হয়েছে। আবার সঙ্কুচিত হয়ে থাকলে ফুলে যেতে পারে ত্বকের কোনও কোনও অংশ। কিন্তু অনেকেই বুঝতে পারেন না, ত্বকের কোন ধরনের ছিদ্রের সমস্যায় তিনি ভুগছেন। তাই ঘরেই চিনতে শেখার চেষ্টা করুন, তা হলে সমাধানের রাস্তা খুঁজে পাওয়াও সহজ হবে।
উন্মুক্ত ছিদ্র
আপনার কি উন্মুক্ত ছিদ্র? ছবি: সংগৃহীত
সাধারণ অবস্থার থেকে ছিদ্র বড় মনে হলে বুঝবেন, আপনার ত্বকে উন্মুক্ত রন্ধ্র রয়েছে। মুখমণ্ডলের গাল, কপাল এবং নাকে বেশি করে দৃশ্যমান হয় বড় বড় ছিদ্রগুলি। রন্ধ্রগুলি উন্মুক্ত থাকে বলে সেবামও বেশি পরিমাণে ত্বকের উপরের স্তরে চলে আসে। তাই ত্বক তেলচিটে মনে হতে পারে। এর প্রধান কারণ হল ব্ল্যাকহেডস। যার ফলে ছিদ্র উন্মুক্ত হয়ে যায়। কারণ তেল এবং মৃত ত্বক সাধারণত সেখানে অক্সিডাইজ়ড হয়ে যায়। ত্বকের পণ্য বা প্রসাধনীর অবশিষ্টাংশ, সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি, জিন, অকালবার্ধক্যের কারণেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে ত্বকে।
বন্ধ ছিদ্র
বন্ধ ছিদ্র। ছবি: সংগৃহীত
ত্বকের উপর রন্ধ্রগুলি যদি সঙ্কুচিত হয়ে বন্ধ হয়ে যায়, সেগুলির উপর পাতলা স্তর থাকে। ফলে সেবাম কোনও ভাবেই ত্বকের বাইরে আসতে পারে না। যদি দেখেন, ত্বকের তলায় ছোট ছোট ফোলা অংশ রয়েছে, সঙ্গে হোয়াইটহেড্সও, তা হলে বুঝবেন আপনার ত্বকের রন্ধ্রগুলি বন্ধ। ফলে ত্বকের এক এক জায়গায় এক এক রকমের দাগ, অসমান রং, রুক্ষতার প্রবণতা বাড়ে। আসলে সেবাম তো উৎপাদন হচ্ছে, কিন্তু সেটি বেরিয়ে আসার সুযোগ না পেলে ত্বকের ছিদ্রগুলি বন্ধ হয়ে যায়। তা ছাড়া যখন মৃত ত্বকের কোষ তৈরি বেড়ে যায়, পণ্যের অবশিষ্টাংশ জমা হয় অথবা হরমোনের পরিবর্তন ঘটে, তখনও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।