ত্বক ঝুলে যায় কেন? ছবি: সংগৃহীত।
চেষ্টাচরিত্র করে ওজন কমল। কিন্তু হারিয়ে গেল শরীরে আঁটোসাঁটো ভাব। ওজন কমানোর পরে চামড়া ঝুলে যাওয়া বা ত্বকের টান টান ভাব নষ্ট হওয়ার সমস্যা কম-বেশি অনেকেরই হয়। যে নির্মেদ চেহারা পাওয়ার জন্য প্রচেষ্টা, ওজন কমার পরে যদি চামড়াই আলগা হয়ে যায়, বাহুর মাংসপেশি থলথল করে, তা মোটেই ভাল দেখায় না।
কিন্তু কেন এমন হয়?
ত্বক তৈরি হয় কোলাজেন এবং ইলাস্টিন নামক প্রোটিন দিয়ে। কারও যখন ওজন বাড়ে, চামড়ায় টান পড়ে। আবার কেউ খুব দ্রুত মেদ ঝরালে বেড়ে যাওয়া ত্বক আগের অবস্থানে আসার সুযোগ পায় না। ফলে ত্বক আলগা দেখায়। মাংসপেশিও ঝুলে যায়। আবার শুধু চর্বি না কমে যদি পেশিক্ষয় হতে থাকে, তা হলেও এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তা ছাড়া, কোনও কারণে যদি প্রোটিনের উৎপাদন কমে যায়, তা হলেও চামড়া ঝুলে যেতে পারে।
কারও ত্বক কতটা আলগা হবে বা ঝুলে যাবে, তা নির্ভর করে সেই ব্যক্তি কত দিনে ও কী ভাবে ওজন কমিয়েছেন এবং তাঁর আগের চেহারা কেমন ছিল, তার উপরেও। কারও যদি খুব দ্রুত মেদ গলে, এই ধরনের সমস্যা হতে পারে। অত্যধিক ধূমপানের কারণেও ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট হতে পারে।
রেজ়িস্ট্যান্ট ট্রেনিং: শুধু ওজন কমালেই চলবে না তার সঙ্গে রেজ়িস্ট্যান্ট ট্রেনিং-ও জরুরি। এটি এমন একটি শারীরিক কসরত, যা পেশি সবল করতে সাহায্য করে। বিজ্ঞানসম্মত ভাবে ওজন কমানো এবং সঠিক শরীরচর্চা একই সঙ্গে করা হলে ত্বক আবার টানটান হতে পারে।
কোলাজেন এবং ইলা্সটিনের উৎপাদন বৃদ্ধি: অস্ত্রোপচার না করে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড প্রয়োগ করেও ত্বকে কোলাজেন এবং ইলাস্টিনের মাত্রা বাড়ানো হয়। চামড়া টানটান রাখার জন্য এটি এক ধরনের চিকিৎসা।
বিজ্ঞানসম্মত ডায়েট এবং শরীরচর্চা: শুধু ওজন না কমিয়ে, বিজ্ঞানসম্মত ভাবে মেদ গলানো জরুরি। অতিরিক্ত তাড়াহুড়ো করে ওজন কমানোর চেষ্টা করলে এমন সমস্যা হতে পারে। শরীরচর্চা এবং ডায়েট ঠিক থাকলে, এমন সমস্যা এড়ানো যেতে পারে।