কলার খোসা কী ভাবে ব্যবহার করবেন? ছবি: সংগৃহীত।
কোমল, মসৃণ, জটহীন চুল পাওয়ার আশায় নামীদামি প্রসাধনীতে ঘর ভরিয়ে ফেলেছেন। বিশেষত গরম পড়লে ঘাম ও ধুলোর চোটে চুলের দুরবস্থা আরও বেড়ে যায়। কিন্তু এক বারের পরিশ্রমেই রেশমের মতো কেশের অধিকারী হতে পারেন আপনি। তার জন্য টাকা খরচ নয়, খানিক সময় খরচ করতে হবে কেবল। বাড়িতে বানাতে হবে একটা গুঁড়ো। তা দিয়েই বহু দিন পর্যন্ত চুলের যত্ন নিতে পারবেন।
তবে তার জন্য প্রয়োজন ফেলে দেওয়া এক জিনিস। তা হল, কলার খোসা। ফল দিয়ে রূপচর্চা নতুন নয়। ফলের খোসা দিয়ে ত্বকচর্চাও নতুন নয়। কিন্তু কলার খোসা ত্বক-কেশের পরিচর্যা খুব বেশি প্রচলিত নয়। তবে কলার খোসার গুণ সম্পর্কে জানলে আর ফেলে দেবেন না।
চুলের স্বাস্থ্যের জন্য মাথায় মাখুন কলার খোসার প্যাক। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত
কলার খোসায় প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি উপাদান, খনিজ এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকে। এতে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালশিয়াম, দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় ফাইবার, এবং ভিটামিন বি ৬, ভিটামিন সি থাকে। এ ছাড়াও, এতে লুটেইন নামক অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, ট্রিপটোফ্যান, এবং পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট (ওমেগা ৩ ও ওমেগা ৬) রয়েছে। আর এই সমস্ত গুণ পৌঁছে দেওয়া যেতে পারে চুলের গোড়ায় গোড়ায়।
কী ভাবে কলার খোসা দিয়ে কেশচর্চা করবেন?
১. কলার খোসার গুঁড়ো বানান
৪-৫টি কলার খোসা নিতে হবে। বেশ কয়েক ঘণ্টা রোদে শুকিয়ে নিন, অথবা মাইক্রোওয়েভ অভেনে ২১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে বেক করে নিন খোসাগুলি। ২০ মিনিট পরে বার করে সেগুলিকে মিক্সার গ্রাইন্ডারে পিষে নিন মিহি করে। পরে দরকার পড়লে ছাঁকনি ব্যবহার করে দলা বার করে নিতে পারেন।
২. প্যাক বানান
গুঁড়ো খোসার সঙ্গে ১ বাটি টক দই এবং ১-২ চা চামচ মধু মিশিয়ে নিন। ঘন একটি প্যাক তৈরি করার জন্য ভাল করে নাড়িয়ে নিতে হবে মিশ্রণটি।
৩. প্যাক মাখুন
মাথা অল্প সিক্ত থাকা অবস্থায় এই প্যাক মাখতে হবে। গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত ধীরে ধীরে এই প্যাক মেখে ফেলতে হবে। পুরো মাথায় প্যাক মাখা হয়ে গেলে শাওয়ার ক্যাপ পরে নিন। ২০ মিনিট রেখে মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধুয়ে নিন। সপ্তাহে এক দিন করে এই প্যাক মাখা যেতে পারে।
নিয়মিত এই প্যাক মাখলে এতে চুলের ঔজ্জ্বল্য বাড়বে, গোড়া মজবুত হবে, মাথার ত্বক পরিষ্কার হবে, রক্ত চলাচল উন্নত হবে, চুল গজানোর গতি বাড়বে।