Kim Kardashian's Skin Therapy

কিম কার্দাশিয়ানের নতুন রূপ-মন্ত্র, কোরিয়ান প্রযুক্তিতে থমকে যাবে যৌবন! এ দেশেও রয়েছে এমন থেরাপি

ত্বক হবে টানটান। চল্লিশেও থাকবে কুড়ির জেল্লা। যৌবন থমকে যাবে ত্বকের প্রতি শিরা-উপশিরায়। ছুরি-কাঁচি ছাড়াই বিশেষ এক ধরনের ত্বকের থেরাপি করিয়েছেন কিম কার্দাশিয়ান। এই ধরনের থেরাপি এখন ভারতেও শুরু হয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১১ মার্চ ২০২৬ ১৪:৩২
Kim Kardashian getting a skin-tightening treatment called XERF, a radio frequency-based technology

যৌবন থাকবে অনন্তকাল, কিম কার্দাশিয়ানের ত্বকের থেরাপি এ দেশেও হয়। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

কখনও নিজের শরীরে রক্ত নিয়ে ভ্যাম্পায়ার ফেশিয়াল করেন, তো কখনও মৌমাছির হুল ফুটিয়ে ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখার চেষ্টা করেন। হালে স্যামন মাছের শুক্রাণু ত্বকে ইনজেক্ট করে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন। এ হেন কিম কার্দাশিয়ান আমেরিকার ফ্যাশন আইকন হিসেবে যতটা না বিখ্যাত, তার চেয়ে বেশি পরিচিত যৌবন ধরে রাখার নানা থেরাপি প্রয়োগের জন্য। যৌবন ধরে রাখতে এমন কোনও ফেশিয়াল বা থেরাপি নেই, যা নিজের উপর প্রয়োগ করেননি কিম। বয়স ধরে রাখার জন্য তিনি সব কিছুই করতে পারেন বলেও জানিয়েছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কিম জানিয়েছেন, সবচেয়ে উন্নত এক ত্বকের থেরাপি তিনি করিয়েছেন। তাতেই তাঁর ত্বকের বয়স কমে গিয়েছে প্রায় ২০ বছর।

Advertisement

কিমের মতো চেহারার প্রত্যাশী অনেকেই। নতুন থেরাপিটি নিয়ে তাই কৌতুহল বেড়েছে। ছুরি-কাঁচি না চালিয়েই ত্বকের যৌবন যদি অনন্তকাল ধরে রাখা যায়, তা হলে ক্ষতি কী! সদ্য থেরাপি করিয়েই নিজের ছবি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন মডেল-অভিনেত্রী। কিমের টানটান গাল, টিকালো নাক, দাগছোপ ও বলিরেখাহীন মুখশ্রী তাক লাগিয়ে দেয় সকলকে। অনেকেই মন্তব্য করেন, আসল বয়স একেবারেই বোঝা যাচ্ছে না। আগের চেয়েও আরও বেশি চকচকে ও জেল্লাদার হয়েছে ত্বক।

যৌবন ধরে রাখার থেরাপি

কিম যে থেরাপি করিয়েছেন তার নাম ‘জ়ার্ফ’। এক ধরনের লেজ়ার থেরাপি তবে, সাধারণ লেজ়ারের চেয়ে আলাদা। এটি মূলত ‘মোনোপোলার রেডিয়ো ফ্রিকোয়েন্সি’ প্রযুক্তি। দক্ষিণ কোরিয়ায় এর উদ্ভাবন। এখন অবশ্য ইউরোপ, আমেরিকা-সহ নানা দেশেই এই থেরাপির সঙ্গে পরিচিতি ঘটেছে। এ দেশেও থেরাপিটি চালু হয়েছে।

‘জ়ার্ফ’ এক ধরনের স্কিন লিফটিং রেডিয়োথেরাপি, যেখানে দু’রকমের আলোকতরঙ্গের প্রয়োগ করা হয়। আলোকরশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্যের উপর নির্ভর করে এই চিকিৎসা পদ্ধতি। সাধারণ লেজ়ার ত্বকের উপরের স্তর ধ্বংস করে ফেলে। একই সঙ্গে এটি ত্বকের ভিতরের স্তরটিকে উত্তপ্ত করে তোলে। রোম তোলা ছাড়াও এতে দাগছোপ বা স্ট্রেচ মার্কের মতো দাগ দূর হয়। কিন্তু রেডিয়োথেরাপির কাজ হল নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোকরশ্মি ফেলে ত্বকের বিভিন্ন স্তরে পৌঁছে কোলাজেন তৈরি করা। ত্বকের যে ক’টি স্তর রয়েছে, তার প্রতিটিতে ঢুকতে পারে আলোকরশ্মি। সেখানে পৌঁছে বুড়িয়ে যাওয়া কোষগুলিকে নষ্ট করে, নতুন কোষ পুনর্গঠনের কাজ করে। একই সঙ্গে কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে। এতে কাজ হয় দুটো— প্রথমত, ত্বকের প্রতি স্তরে নতুন কোষ তৈরি হয়, এতে বার্ধক্যের ছাপ মুছে যায়। দ্বিতীয়ত, রেডিয়োথেরাপিতে শুধু চামড়া নয়, ত্বকের ভিতরের পেশিও টানটান হয়। ফলে বয়সজনিত কারণে যাঁর চামড়া ঝুলে গিয়েছে বা গলায় বলিরেখার ভাঁজ স্পষ্ট হয়েছে, তিনি যদি এই থেরাপি করান, তা হলে আশ্চর্যজনক ভাবে তাঁর চামড়া একেবারে যৌবনকালের মতোই টানটান হয়ে যাবে। ত্বকে নতুন কোষ তৈরি হয়ে বুড়োটে ভাবও মুছে দেবে। বয়স অন্তত ২০ বছর কম দেখাবে।

থেরাপিটির আরও একটি সুবিধা হল, এতে অ্যানাস্থেশিয়া দেওয়ার বা স্থানীয় ভাবে অবশ করার প্রয়োজন হয় না। এতে এমন প্রযুক্তি আছে, যাতে থেরাপিটি করার সময়ে কোনও রকম যন্ত্রণা বা ব্য়থার অনুভূতি না হয়। থেরাপিটির তেমন কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই বলেই জানা গিয়েছে। এ দেশের দিল্লি, মুম্বই ও বেঙ্গালুরুর কিছু ক্লিনিকে থেরাপিটি করা হয়। তবে যেহেতু এটি সম্পূর্ণ নতুন এক প্রযুক্তি, সে কারণে থেরাপিটি করাতে চাইলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যিক।

Advertisement
আরও পড়ুন