গরমে ত্বকের যত্ন কী ভাবে নেবেন? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
মরসুম ভেদে বদলায় ত্বক। শীতে বাতাসে আর্দ্রতা থাকে বলে ঠোঁট ফাটে, মুখ শুকনো দেখায়। দরকার হয় এমন ক্রিমের যা ত্বককে আর্দ্রতা জোগাতে এবং আর্দ্রতা ধরে রাখতে সক্ষম। আবার গরমকালে বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যায়। ফলে শীতের জন্য যা উপযোগী, গরমে তা হয়ে যায় অনুপযুক্ত। সেই কারণে, মরসুম ভেদে ত্বকের যত্ন নেওয়ার পন্থা এবং উপকরণে বদলের দরকার হয়।
সানস্ক্রিন: বছরভরই সানস্ক্রিন ব্যবহার করা দরকার। এমনকী মেঘলা দিনেও প্রয়োজন সানস্ক্রিনের বর্ম। তবে গরমে রোদের তাপ বেশি হয় বলে খানিক ঘুরলেই মুখে জ্বালা ধরে। ফলে অনেক ক্ষণ বাইরে থাকতে হলে বেছে নেওয়া দরকার এমন সানস্ক্রিন যা অনেকটা সময় ধরে ত্বককে সূর্যের অতিবেগনি রশ্মি থেকে বাঁচাতে পারে। ছুটি কাটাতে সৈকতে গেলে বা লম্বা সময় রোদে থাকতে হলে মিনারেল বা ফিজ়িক্যাল সানস্ক্রিন বেছে নিতে পারেন। এতে থাকা খনিজের পরত সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি আটকাতে বিশেষ ভাবে কাজ করে। তবে ত্বকের ধরন বুঝে তা মাখতে হবে। ভাল হয়, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সানস্ক্রিন মাখতে পারলে।
মৃদু ক্লিনজ়ার: শীতের জন্য তেল নির্ভর সানস্ক্রিন ভাল। তবে গরমে যাঁদের ঘাম বেশি হয়, মুখ তেলতেলে হয়ে থাকে, তাঁরা বেছে নিতে পারেন জেল জাতীয় ফেসওয়াশ। যা ধুলো-ময়লা পরিষ্কার করলেও ত্বক তৈলাক্ত করে তুলবে না। আবার ত্বকের ধরন শুষ্ক হলে শীতে ব্যবহারের ফেসওয়াশটি মাখতে পারেন। ত্বকের প্রয়োজন বুঝে প্রসাধনী বেছে নেওয়া জরুরি।
মুখ পরিষ্কার রাখা জরুরি: আর্দ্রতা বেশি থাকলে ঘাম বেশি হবে। ঘাম থেকেই ব্যাক্টেরিয়া সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। দিনে ২-৩ বার মুখ, ঘাড় ভাল করে জল দিয়ে ধুয়ে ঘাম মুছে নিন। তবে এর চেয়ে বেশি মুখ ধোয়া ঠিক নয়। তাতে ত্বকের স্বাভাবিক তেলের মাত্রা কমতে পারে।
ফেস মিস্ট: চড়া রোদে একটু ঘুরলেই মুখে জ্বালা করে, হাতের চামড়াও পুড়ে যায়। গরমের দিনে কাছে রাখতে পারেন ফেস মিস্ট। বাজারচলতি নানা রকম ফেসমিস্ট পাওয়া যায়। চাইলে বাড়িতে শসার রস করে ছেঁকে বোতলে ভরে রাখতে পারেন। গোলাপ জল বা তৈলাক্ত ত্বকের জন্য নিমপাতা ফোটানো জল ঠান্ডা করে বোতলে ভরে মুখে স্প্রে করা যায়। এতে গরমে সাময়িক স্বস্তি মেলে।
জল এবং খাবার: ত্বকের যত্ন শুধু এটা-ওটা মেখে হয় না। শরীর ভিতর থেকে ঠান্ডা রাখারও দরকার হয়। শরীরে জলাভাব হলে, তার প্রভাব মুখে পড়বেই। এই মরসুমে একটু বেশি জল খাওয়া দরকার। গরমে ঘাম বেশি হলে শরীর জলশূন্য হয়ে পড়তে পারে। টাটকা ফলের রস, ঘোল, স্যুপের মতো খাবার শরীরে পুষ্টি জোগায়, ত্বক ভাল রাখে। মাছ, ডিম, বাদাম, তাজা সব্জির মতো খাবার ত্বক ভাল রাখতে সাহায্য করে। ভিটামিন সি, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট রয়েছে এমন খাবার বেছে নেওয়া দরকার।