Rice water vs Rosemary oil vs Onion juice

চালের জল, রোজ়মেরি তেল না কি পেঁয়াজের রস! নতুন চুল গজানো ও লম্বা কেশরাশির জন্য কোনটি মাখবেন

ঘন, লম্বা, উজ্জ্বল ও কোমল কেশরাশির জন্য চালের জল, রোজ়মেরি তেল এব‌ং পেঁয়াজের রসের জয়জয়কার সমাজমাধ্যমে। কিন্তু চুল গজানোর জন্য সবচেয়ে বেশি কার্যকর কোনটি?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬ ১৫:১০
ঘন, লম্বা, উজ্জ্বল চুলের জন্য কোন ঘরোয়া টোটকা কার্যকর?

ঘন, লম্বা, উজ্জ্বল চুলের জন্য কোন ঘরোয়া টোটকা কার্যকর? ছবি: সংগৃহীত।

চালের জল, রোজ়মেরি তেল এব‌ং পেঁয়াজের রস। ঘন, লম্বা, উজ্জ্বল ও কোমল কেশরাশির জন্য এই তিন উপাদানের জয়জয়কার সমাজমাধ্যমে। কেউ বলছেন, ভাতের ফ্যানেই চুল কোমর ছুঁয়েছে, কেউ আবার রোজ়মেরি তেলকে প্রাকৃতিক ওষুধের মর্যাদা দিচ্ছেন। অন্য দিকে পেঁয়াজের রসের অনুরাগীদের দাবি, এটি নাকি নতুন চুল গজাতেও সাহায্য করে। কিন্তু বাস্তবে কোনটির পক্ষে কতটা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি রয়েছে?

Advertisement
ঘন, লম্বা, কোমল চুলের জন্য কোনটি ব্যবহার করবেন?

ঘন, লম্বা, কোমল চুলের জন্য কোনটি ব্যবহার করবেন? ছবি: সংগৃহীত

চালের জল

কোরিয়ান ত্বকচর্চার দেখাদেখি গোটা বিশ্বে চালের জলের ব্যবহার বেড়েছে। তবে চুলের যত্নে চালের জল ব্যবহার অবশ্য নতুন নয়। জাপানের হেইয়ান যুগে নারীরা দীর্ঘ ও উজ্জ্বল চুলের জন্য চালধোয়া জল বা ভাতের ফ্যান ব্যবহার করতেন বলে শোনা যায়। ভাতের ফ্যানে অ্যামাইনো অ্যাসিড, ভিটামিন বি এবং কিছু অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকে, যা চুলের উপরিভাগকে মসৃণ করতে সাহায্য করতে পারে। ফলে চুলের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি পায়, ঝকঝকে দেখায়। তবে নতুন চুল গজানো বা চুলের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি নিয়ে চালের জলের কার্যকারিতার পক্ষে শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনও নেই। অর্থাৎ এটি চুলের গঠন ও ঔজ্জ্বল্যে প্রভাব ফেলতে পারলেও চুলের বৃদ্ধিতে ততটা কার্যকর না-ও হতে পারে।

রোজ়মেরি তেল

রোজ়মেরি তেলও সমাজমাধ্যমের দৌলতে সাধারণ থেকে তারকাদের ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছে। সম্প্রতি চুলের যত্ন প্রসঙ্গে আলোচনাও চলছে যথেষ্ট। কয়েকটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নিয়মিত ব্যবহার করলে এটি মাথার ত্বকে রক্তসঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করতে পারে, প্রদাহ কমাতে পারে, মাথার ত্বকের অস্বস্তি কমাতে পারে। এর ফলে চুল পড়ার সমস্যাও কমে যেতে পারে। পাশাপাশি কিউটিকলগুলি সক্রিয় হয়ে নতুন চুল গজাতেও পারে। রোজ়মেরি তেল সরাসরি চুলের গোড়ার স্বাস্থ্যরক্ষা করতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে চুল পাতলা হওয়ার সমস্যা কমাতে পারে। তবে এটি কোনও জাদুকরি সমাধান নয়। ফল পেতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে এবং সবার ক্ষেত্রে একই রকম ফল না-ও মিলতে পারে।

পেঁয়াজের রস

পেঁয়াজের রসও দীর্ঘদিন ধরে ঘরোয়া টোটকা হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে সালফারজাত উপাদান থাকে, যা কেরাটিন নামের প্রোটিন উৎপাদন করতে পারে। এই কেরাটিন চুলের গঠন উন্নত করে। বিশেষ ধরনের চুল পড়ার সমস্যায় (অ্যালোপেশিয়া অ্যারিটা) পেঁয়াজের রস কারও কারও জন্য উপকারী হতে পারে। তবে চুল পাতলা হয়ে যাওয়া কতটা আটকাতে পারে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। পেঁয়াজের রসকে নিশ্চিত ভাবে চুল গজানোর কার্যকর উপায় বলা যায় না। তার উপর, অনেকের মাথার ত্বকে জ্বালা, চুলকানি বা অ্যালার্জির সমস্যাও দেখা দিতে পারে এই টোটকায়।

কোনটি ব্যবহার করা উচিত?

চালধোয়া জল চুলের ঔজ্জ্বল্য ও মসৃণতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে, আর পেঁয়াজের রস বিশেষ রোগের ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে, কিন্তু চুল বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এগুলির পক্ষে প্রমাণ সীমিত। তার নিরিখে রোজ়মেরি তেল অল্প কিছু নম্বরে এগিয়ে রয়েছে।

তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। চুল পড়া বা চুল পাতলা হওয়ার নেপথ্য কারণ হতে পারে, হরমোনের পরিবর্তন, পুষ্টির ঘাটতি, মানসিক চাপ, থাইরয়েডের সমস্যা কিংবা বংশগত কারণ। তাই শুধু সমাজমাধ্যমে ভাইরাল কোনও উপাদানের উপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়।

Advertisement
আরও পড়ুন