Spf for Sunscreen

রোদে দিনভর ঘোরাঘুরি করতে হয়, সানস্ক্রিনে এসপিএফের মাত্রা ৩০, ৫০ না ৭০, কোনটি হলে ভাল?

সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগনি রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে সানস্ক্রিন। কিন্তু এসপিএফ ৩০, ৫০ না ৭০— কোন ধরনের সানস্ক্রিন দৈনিক ব্যবহারের জন্য ভাল হবে?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:২৩
ভারতীয় আবহাওয়ায়া কত এসপিএফের সানস্ক্রিন মাখা ভাল?

ভারতীয় আবহাওয়ায়া কত এসপিএফের সানস্ক্রিন মাখা ভাল? ছবি: সংগৃহীত।

অঙ্ক সহজ। যত বেশি মাত্রা, তত বেশি সুরক্ষা। তাই রোদ থেকে বাঁচতে বাড়তি দাম দিয়েই কিনে ফেললেন এসপিএফ ৭০-এর সানস্ক্রিন। কিন্তু আদতে যা ভাবা হয়, বাস্তবেও কি তাই হয়? এসপিএফের মাত্রা বাড়লেই কি বেশি ক্ষণ রোদে নিশ্চিন্তে থাকা যায়?

Advertisement

এসপিএফ-এর বিষয়টি বোঝার আগে জানা প্রয়োজন সানস্ক্রিনের গুরুত্ব। অনেকে মনে করেন, সানস্ক্রিন ত্বককে কালো হয়ে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচায়। চিকিৎসকরা বলছেন, সানস্ক্রিনের কাজ শুধু এই টুকুই নয়। সূর্যের অতিবেগনি রশ্মি ইউভিএ (আলট্রা ভায়োলেট রশ্মি এ) এবং ইউভিবি (আলট্রা ভায়োলেট রশ্মি বি)-র ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বককে রক্ষা করাই কিন্তু সানস্ক্রিনের মূল কাজ। সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে ত্বকে ক্যানসারের ঝুঁকি কমে। সূর্যের তাপে ত্বকে অকালবার্ধক্য দেখা দিতে পারে। ত্বক রুক্ষ হয়ে যেতে পারে, বলিরেখা পড়তে পারে। সানস্ক্রিন সেই ক্ষতি এড়াতে বর্মের মতো কাজ করে।

ত্বকের রোগের চিকিৎসক অভীক শীলের কথায়, ‘‘প্রতি দিন দাঁত মাজা যতটা আবশ্যক, সানস্ক্রিন মাখাও তাই। কারণ, সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগনি রশ্মির হাত থেকে রক্ষা করতে পারে ত্বকের উপযোগী সানস্ক্রিন।’’ গ্রীষ্ম, বর্ষা বা শীত ১২ মাসেই এর ব্যবহার জরুরি।

বাজারে নানা ধরনের সানস্ক্রিন রয়েছে। শুধু ক্রিমের মতো নয়, ম্যুজ়, স্টিক, লোশন, পিল— নানা রকম রূপেই তা মিলছে। তবে সানস্ক্রিনের ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ হল এসপিএফ বা সান প্রোটেকশন ফ্যাক্টর। ১৫ থেকে শুরু হয়, ৩০-৫০-৭০ এমনকি এখন ১১৫ এসপিএফের সানস্ক্রিনও বাজারে মিলছে। এসপিএফের মাত্রা দেখেই অনেকে সানস্ক্রিন কেনেন। দোকানে গিয়ে বেছে নেন উচ্চমাত্রার সানস্ক্রিন। কারণ, হিসাব সহজ, এসপিএফ বেশি মানে সুরক্ষার পরিসরও বেশি এবং সানস্ক্রিন মেখে বেশি ক্ষণ রোদে ঘোরা যাবে। আসলে কিন্তু হিসাবটা এত সহজ নয়, বরং কিছুটা গোলমেলেই।

এসপিএফ হল ‘সান প্রোটেকশন ফ্যাক্টর’। নির্দিষ্ট সানস্ক্রিনটি ত্বককে সূর্যের অতিবেগনি রশ্মির হাত থেকে কতটা রক্ষা করবে, তা-ই বোঝানো হয় এসপিএফের মাধ্যমে। সহজ ভাবে বললে, এটি একটি পরিমাপক, যা নির্ধারণ করে সূর্যরশ্মি ত্বকে কতটা প্রবেশ করবে।

বিষয় হল, এসপিএফ ৩০ যতটা সুরক্ষা দেবে, এসপিএফ ৭০-এ তার দ্বিগুণের বেশি সুরক্ষা মিলবে, অঙ্কটা তেমনই হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, সুরক্ষার পরিসরে তেমন কোনও তফাত নেই। এসপিএফ ৩০ সূর্যের অতিবেগনি রশ্মির হাত থেকে ত্বককে প্রায় ৯৬.৭ শতাংশ সুরক্ষা দেয়। এসপিএফ ৫০ সূর্যের অতিবেগনি রশ্মির ৯৮ শতাংশ প্রতিরোধে সক্ষম, এসপিএফ ৭০-এর ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষার সেই মাত্রা, ৯৮.৬। হিসাব বলছে, এসপিএফ ৩০ ব্যবহার করলে ১০০ ভাগের মধ্যে ৩.৩ ভাগ সূর্যরশ্মি ত্বকে ঢুকবে। এসপিএফ ৫০-এর ক্ষেত্রে তা ২ শতাংশ এবং এসপিএফ ৭০-এর ক্ষেত্রে তা ১.৪ শতাংশ। সুতরাং এসপিএফ নির্ধারণ করে, কতটা সূর্যরশ্মি ত্বকে প্রবেশ করবে।

চিকিৎসকেরা বলছেন, এসপিএফ নিয়ে বিশেষ মাথা না ঘামিয়ে বরং সানস্ক্রিন ব্যবহারেই মনোযোগী হওয়া দরকার। মেঘলা দিনে এমনকী বাড়িতে থাকলেও সানস্ক্রিনের দরকার, কারণ, সূর্যের অতি বেগনি রশ্মি রয়েছে সর্বত্রই। ঘরে থাকলে এসপিএফ ১৫-৩০ কাজ হতে পারে। তবে ভারতের নানা প্রান্তেই যেহেতু গ্রীষ্মকালে রোদে ভীষণ চড়া, তাই ৩০-এর পাশাপাশি এসপিএফ ৫০ ভাল কাজ করে। যদি কেউ বাড়ি থেকে বেরিয়ে অফিসে চলে যান, বড় জোর এক-দেড় ঘণ্টার মতো রোদে থাকতে হয় তা হলে এসপিএফ ৩০-এই কাজ চলে যাবে। তবে যদি কার্যক্ষেত্রে কাউকে একটু বেশি সময় বাইরে থাকতে হয় এসপিএফ ৫০ যথেষ্ট।

Advertisement
আরও পড়ুন