শাড়ির সঙ্গে কেমন হবে চোখের মেকআপ? ছবিতে অভিনেত্রী দর্শনা বণিক। ছবি: ইনস্টাগ্রাম।
সরস্বতীপুজো মানেই পাটভাঙা শাড়ি, নিয়মের বেড়াজাল পেরিয়ে বড় হয়ে ওঠা। এই একটি দিনই গার্লস স্কুলের গেট পেরোনোর অবাধ অধিকার থাকে ছাত্রদের। প্রতি দিনের দেখা সহপাঠীকেও যেন অন্য রকম লাগে শাড়ি পরে। এ পুজোয় জড়িয়ে থাকে কুলের গন্ধ, অঞ্জলির অছিলায় কারও হাতের স্পর্শ। আসলে এ এক প্রেমের দিনের উদ্যাপন।
এমন দিনে সেজে তো উঠতেই হবে। এ দিনের অলিখিত পোশাক মেয়েদের জন্য শাড়ি। সেই শাড়ির সঙ্গে মানানসই রূপটান না হলে চলে? কিন্তু পেশাদারদের মতো কাজল টানতে, আইশ্যাডো পরতে ক’জনই বা পারেন? তবে রূপটান সহজ হবে ছোট কয়েকটি কৌশল জানলেই। কী ভাবে চোখের মেকআপ করা যাবে আনকোরা হাতে?
প্রাইমার: চোখের মেকআপেরও প্রথম ধাপটি হওয়া উচিত প্রাইমার! এমনই বলেন পেশাদার রূপটান শিল্পীরা। কারণ, প্রাইমার যেমন চোখের উপরের পাতার কালচে ভাব বা অসমান বর্ণ ঢেকে সুন্দর ক্যানভাস তৈরি করে, তেমনই প্রাইমারের উপর আইশ্যাডো লাগালে তার রংটি উজ্জ্বল দেখায়। চট করে ঘেঁটে যায় না। ঘাম হলেও না।
চোখের আকার বুঝে মেকআপ: কারও চোখ গোলাকার হয়, কারও চোখ কাঠবাদামের আকৃতির হয়। ‘হুডেড’, ‘ড্রুপি’- চোখের আকারের এমন অনেক নাম রূপটানের জগতে পরিচিত। চোখের আকার বুঝে আইশ্যাডো বা আইলাইনার লাগালে, মেকআপ নিখুঁত হবে। চোখ যদি একটু গোল ধরনের হয় উইংড আইলাইনার লাগালে চোখটা একটু টানা দেখাবে।
চোখের নীচে বা উপরে কালি থাকলে বা কালো ভাব থাকলে দেখতে ভাল লাগে না। চোখ আরও ছোট, বসে যাওয়া মনে হয়। প্রথমেই কনসিলার দিয়ে চোখের উপর এবং নীচের অংশটি ঢেকে দেওয়া জরুরি। শিমারি এবং হালকা আইশ্যাডো চোখের মেকআপে বাড়তি নাটকীয়তা আনতে পারে। তবে কালচে বা গাঢ় বাদামির বদলে ন্যুড শেডের আইশ্যাডোর ব্যবহার ছোট চোখ বড় দেখাতে সাহায্য করে।
আইশ্যাডো স্টিক: চোখের মেকআপ অনেকটাই সহজ হতে পারে আইশ্যাডো স্টিকের দৌলতে। চোখের উপরের পাতায় আইলাইনারের মতো করে স্টিকটি ব্যবহার করুন। চোখের নীচে কাজলের মতো সেটি লাগিয়ে দিন। তার পর একটি ব্রাশের সাহায্য খুব ভাল করে সেটি উপরের পাতায় মিলিয়ে নিতে হবে। যেমন ভাবে কাজল স্মাজ করে, সে ভাবে মিশিয়ে নিতে হবে নীচের অংশটিও। হাতের কাছে থাকা ন্যুড বা হালকা শেডের লিপস্টিক দিয়েও এই ভাবে আইশ্যাডো লাগিয়ে দেখতে পারেন।
রং এবং শিমার: প্যালেটে থাকা আইশ্যাডো ব্যবহার করে প্রথমে হালকা রংই বেছে নেওয়া ভাল। কারণ, আইশ্যাডো ব্যবহারে দক্ষতা না থাকলে গাঢ় রং ব্যবহারে মেকআপ নষ্ট হতে পারে। চোখের উপরের পাতার মাঝের অংশে হালকা রঙের কোনও শিমার ব্যবহার করলেও চোখটি সুন্দর দেখাবে।
আই পেনসিল: তুলি দিয়ে আইলাইনার টানা রীতিমতো অভ্যাসের ব্যপার। নিখুঁত টান দিতে না পারলে চোখের মেকআপ মাটি হয়ে যাবে। বদলে ভাল কোনও রঙিন বা কালো কিংবা গাঢ় খয়েরি আই পেনসিল ব্যবহার করতে পারেন। এগুলি ব্যবহার করা তুলনামূলক সহজ। আইলাইনারের মতো পরে নেওয়া যায়। সেটির টান যদি নিখুঁত না-ও হয়, স্মাজ করার ব্রাশ দিয়ে ত্বকের সঙ্গে মিলিয়ে নিলে মেকআপের অংশ বলেই মনে হবে। বরং এই ভাবে স্মাজ করলে চোখের মেকআপে একটা নাটকীয়তা আসবে।