জল খাওয়ার কথা মনে করিয়ে দেবে বোতল! কেমন সে বোতল? ছবি: সংগৃহীত।
সামনেই বসানো জলের বোতল। কিন্তু দিন ফুরোলেও, জল ফুরোয় না। আসলে জল খাওয়ার কথা মনেই যে থাকে না। রোদে বেরোলে তেষ্টা পায়, কিন্তু অফিসের বাতানুকূল ঘরে বসে থাকলে, সে কথা কারই বা মাথায় থাকে?
সমস্যা যেমনই হোক, হাতের কাছে রয়েছে ‘স্মার্ট’ সমাধান। জল খাওয়ার কথা মনে করিয়ে দেবে জলের বোতলই। শুধু মনে করাবে না, কতটা জল খেলেন, এক ঢোক খেয়ে রেখে দিলেন কি না, সবটাতেই নজরদারি করবে সে। সকলের হাতে এখন স্মার্টফোন, কব্জিতে স্মার্ট ঘড়ি, তা হলে বোতলই বা স্মার্ট হবে না কেন?
জল যে শুধু তেষ্টা মেটানোর জন্য নয়, বরং ওজন কমানো থেকে সুস্থ থাকার নেপথ্য কারিগর, তা এখন জানেন সকলেই। সুস্থ থাকতে জল খাওয়া জরুরি। শরীর অনুযায়ী ২-৩ লিটার জল খাওয়া দরকার। কিন্তু ঘড়ি ধরে জল খাওয়ার ফুরসত কোথায়?
তাই বাজারে এসেছে এমন জলের বোতল, যা ব্লুটুথের মাধ্যমে বিশেষ অ্যাপের সাহায্যে সংযুক্ত করা যায় মোবাইলের সঙ্গে। শুধু তা-ই নয়, একজন ব্যক্তির ওজন, উচ্চতা, দৈনন্দিন পরিশ্রম অনুযায়ী অ্যাপ নির্ধারণ করে দেবে তাঁর দৈনিক কতটা জল খাওয়া দরকার।
কী বৈশিষ্ট্য থাকে বোতলে
আলো জ্বলবে: এক এক কোম্পানির বোতলের এক এক রকম বৈশিষ্ট্য। তবে অনেক বোতলেই থাকে এলইডি রিং। অ্যাপের সঙ্গে বোতল সংযুক্ত রাখা জরুরি। সে ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় অন্তর আলো জ্বালিয়ে বোতল মনে করাবে, এ বার জল খাওয়ার সময় হয়েছে। কোনও বোতলে আলোর সঙ্গে মৃদু শব্দেরও ফিচার থাকে।
জল খাচ্ছেন কি না, কতটা খেলেন ফোনেই থাকবে সব তথ্য। ছবি: সংগৃহীত।
অ্যাপ নোটিফিকেশন: মোবাইল অ্যাপেও নোটিফিকেশন দিয়ে বোতল মনে করাতে পারে, অনেক ক্ষণ জল খাওয়া হয়নি।
অটো-ট্র্যাকিং: সারা দিনে কতটা জল খাওয়া প্রয়োজন, কতটা জল খাওয়া হয়েছে, আর কতটা জল আরও খেতে হবে সবটাই ফুটে উঠবে সংশ্লিষ্ট অ্যাপ খুললেই। দিনে প্রয়োজন মতো জল খাওয়া হচ্ছে কি না, এই তথ্যের উপর নির্ভর করে জানা যাবে। জল খেলে বোতল খালি হবে। কতটা জল কমল, সেই পরিমাণ প্রযুক্তি দ্বারা মুহূর্তে হিসাব হয়ে অ্যাপে তথ্য তুলে ধরবে।
চার্জিং: এক এক বোতলের চার্জিংয়ের ব্যবস্থা এক এক রকম। কোনওটিতে মোবাইলের মতো নির্দিষ্ট চার্জারের মাধ্যমে চার্জ দিতে হয়। কোনওটিতে চার্জিং বেসের উপর রাখলেই চার্জ হয়ে যায়।
সেন্সর: প্রতিটি বোতলেই সেন্সর থাকে। যার ফলে কতটা জল কমছে সেই তথ্য সংগ্রহ করা যায়। কোনও বোতলে বিশেষ সেন্সর থাকে, যা জলের শুদ্ধতার পরিমাপও করতে পারে।
বোতল: কোনওটি স্টিলের, দ্বিস্তরীয় পুরু দেওয়াল থাকে। ফলে জল ঠান্ডা বা গরম যে অবস্থাতেই রাখা হোক, তাপমাত্রা একই থাকে। কোনও বোতল স্বচ্ছ, সেখানে জল কতটা খাওয়া হল, বাইরে থেকে বোঝা যায়।
প্রযুক্তি জল খেতে সাহায্য করবে ঠিকই, তবে দৈনন্দিন কতটা জল খাওয়া দরকার তা শরীর এবং শ্রম অনুযায়ী বদলে যাবে। তা ছাড়া, একজন সুস্থ মানুষ যতটা জল খেতে পারেন, হার্ট বা কিডনির অসুখে তা খাওয়া চলে না। ফলে, শারীরিক কোনও সমস্যা থাকলে কতটা জল খাওয়া প্রয়োজন, চিকিৎসকের কাছে জেনে নেওয়া ভাল।
জলের বোতলের বৈশিষ্ট্য, মান এবং প্রযুক্তির উপর নির্ভর করে এর দাম। ১২০০ থেকে ১০ হাজার টাকা, বিভিন্ন দামের বোতল পাওয়া যায়। অনলাইনে এই ধরনের বোতল সহজেই লভ্য।