কলকাতায় শুরু হয়েছে গোয়ান ফুড ফেস্টিভ্যাল। ছবি: চ্যাপ্টার ২
গোয়া বললে শুধু পাহাড়-সাগরের মেলবন্ধনের অপূর্ব সৈকত শহরের ছবি মানসপটে ভেসে আসে না, বরং এই জনপদের খ্যাতি তাদের নিজস্ব সংস্কৃতির জন্যও। গোয়ার কোকোনাট ফেনি, ক্যাসু ফেনি (বিশেষ ধরনের স্থানীয় মদ), ফুটবলও রয়েছে সেই তালিকায়। আর আছে, এখানকার খাবার।
দীর্ঘ দিন ধরে পর্তুগিজ শাসনাধীনে থাকা গোয়ায় খানাপিনায় তাই মেলে মিশ্র সংস্কৃতির ছাপ। পর্তুগিজ সংস্কৃতি এবং কোঙ্কন উপকূলের ঐতিহ্য মিলে গিয়েছে এখানকার খাবারে। পর্তুগিজদের হাত ধরে যেমন এখানকার ভিন্ডালু জনপ্রিয় হয়েছে, তেমন এখানকার নিজস্ব টাটকা নারকেলের স্বাদও তাতে মিশেছে। জুড়েছে স্থানীয় মশলাপাতিও। সব মিলিয়ে বিশ্বজনীন খাদ্যসংস্কৃতির তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে গোয়ান ফিশ কারি থেকে প্রণ বলচাও, সরপোতেল, বেবিঙ্কার মতো খাবারও।
ভোজনরসিকদের রসনাতৃপ্তির জন্য গোয়ার বিখ্যাত খাবারের সম্ভার এ বার কলকাতায়। ১০ এপ্রিল থেকে ১০ মে চলবে গোয়ান ফুড ফেস্টিভ্যাল। মাস খানেক ধরে জনপ্রিয় সমস্ত গোয়ান খাবার চেখে দেখতে পারবেন ভোজনরসিকেরা। সেই সুযোগ করে দিচ্ছে সাদার্ন অ্যাভিনিউয়ের ‘চ্যাপ্টার ২’।
প্রণ বলচাও এবং গোয়ান রেড চিকেন কারি-সহ হরেক মেনু রয়েছে উৎসবে। ছবি: চ্যাপ্টার ২
সাগর তীরের শহর বলে গোয়ায় সব সময়েই টাটকা সামুদ্রিক মাছের জোগান থাকে। পাওয়া যায় কাঁকড়াও। তাই গোয়ান খাবারের সিংহভাগ জুড়েই রয়েছে সামুদ্রিক খাবারের আধিক্য। গোয়ান রান্নায় ব্যবহার হয় নারকেল তেল থেকে নারকেলের দুধ। তা ছাড়া, এখানকার খাবারের স্বাদকে পৃথক করেছে স্থানীয় মশলার ব্যবহার।
চ্যাপ্টার ২ –এর সহ প্রতিষ্ঠাতা শিলাদিত্য এবং দেবাদিত্য চৌধুরী জানাচ্ছেন, ‘‘গোয়ার রন্ধনশৈলীতে সেখানকার ইতিহাস, পর্তুগিজ প্রভাব থেকে শুরু করে স্থানীয় কোঙ্কনি ঐতিহ্য—সব কিছুর এক অপূর্ব সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন ফুটে ওঠে।’’ কলকাতাবাসীকে সেই স্বাদ গ্রহণের সুযোগ করে দিতেই লম্বা মেনু সাজিয়েছেন উদ্যোক্তারা। সেখানে থাকছে ক্রিসপি ফ্রায়েড বোম্বিল, গোয়ান স্কুইড চিলি ফ্রাই, পমফ্রেট রিশিয়াডো, পর্ক সরপোতেল, গোয়ান ফিশ কারি, গোয়ান রেড চিকেন কারি, পর্ক ভিন্দালুর মতো নানা রকম পদ। ‘বম্বে ডাক’ বা লটে মাছে মশলা মাখিয়ে সুজি দিয়ে মুচমুচ করে ভাজা বোম্বিল ফ্রাই গোয়ার জনপ্রিয় খাবার। সরপোতেল তৈরি হয় লাল লঙ্কা এবং মশলাবাটা দিয়ে।শুধু আমিষ নয়, নিরামিষাশিদের জন্যও রয়েছে মিক্সড ভেজ শাকুতি, মাশরুম চিলি ফ্রাইয়ের মতো বেশ কিছু রান্না।
গলা ভেজানোর জন্য থাকছে চিলি গুয়াভার মতো মকটেল এবং নানা রকম ককটেল। ছবি: চ্যাপ্টার ২
গলা ভেজানোর জন্য থাকছে চিলি গুয়াভা, যেখানে পেয়ারার রসের সঙ্গে মিলবে ঝাল লঙ্কার স্বাদ। টাটকা নারকেলের দুধ দিয়ে তৈরি কোকোনাট মোহিতো-সহ রকমারি ককটেল এবং মকটেল। আর শেষ পাতে মিষ্টিমুখের জন্য থাকছে গোয়ার ঐতিহ্যবাহী খাবার বেবিঙ্কা। এটি নারকেলের দুধ, চিনি, ডিম দিয়ে দিয়ে তৈরি এক ধরনের কেক, যা স্তরে স্তরে জমিয়ে তৈরি করা হয়।
শুধু খাবার থাকলেই চলে না, আসর জমানোর জন্য দরকার পরিবেশও। গোয়ান সংস্কৃতির ছোঁয়া আনতে থাকছে গান শোনার আয়োজনও।