ভোট নিয়ে কী বললেন আরজি কর কাণ্ডে বিতর্কিত মন্তব্যকারী চিকিৎসক সুবর্ণ গোস্বামী। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
সুবর্ণ গোস্বামী: এমন এক জন ধর্মনিরপেক্ষ মানুষকে চাই, যিনি রাজ্যকে দুর্নীতিমুক্ত করবেন। মেধার ভিত্তিতে চাকরি দেবেন, শিল্প আনবেন এবং সর্বোপরী নারীদের উপরে যে অত্যাচার পশ্চিমবঙ্গ দেখছে, তা দূর করবেন।
সুবর্ণ: দলের নীতি দেখে, ইস্তাহার দেখে ভোট দিই।
সুবর্ণ: রাজনীতির সঙ্গে কোনও কালে যোগ নেই, এমন মানুষকেও আইনসভায় পাঠানো উচিত নয়। দেশের আইন সম্পর্কে ধারণা না থাকলে কী কাজ করবেন! জেতার পরেও তাই বিধায়কেদের প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি।
সুবর্ণ: আমি মনে করি না একজন বিধায়ক নিজে বিশেষ কিছু পরিবর্তন করতে পারেন। দল না চাইলে তিনি কিছুই করতে পারবেন না।
সুবর্ণ: রাজ্যের প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থাটাই ভেঙে পড়েছে। ফলে ছোটখাটো রোগের জন্যও হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে। দালালচক্রগুলোর সুবিধা হচ্ছে। এ ছাড়়া, রাজনৈতিক আনুগত্য দেখে চিকিৎসাকর্মীদের বদলি বন্ধ হওয়া উচিত। মেডিক্যাল শিক্ষা দুর্নীতিমুক্ত এবং চিকিৎসকের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত।
সুবর্ণ: ভোটের সব লেনদেন নগদে নয় ডিজিটালে করতে হবে আর সেই লেনদেনেরও সর্বোচ্চ সীমা থাকবে। উপঢৌকন দিয়ে ভোট কেনার প্রথা বন্ধ করতে হবে।
সুবর্ণ: দলত্যাগবিরোধী আইন সংস্কার করে শাস্তি দিতে হবে। যাতে দল বদলালে পদ পেতে পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হয়, প্রার্থী হতেও বাধা থাকে।
সুবর্ণ: নিজেদের যদি সভ্য বলে দাবি করি, তবে অপশব্দ আর ঘৃণাভাষণ করব না।
সুবর্ণ: পিছিয়ে পড়াদের টেনে তুলে আনা, তাঁদের রুটি-রুজি, শিক্ষা, বাসস্থান নিয়ে কোন দল কী নীতি নিচ্ছে, তার উপরে ভিত্তি করে ভোট হওয়া উচিত।
সুবর্ণ: কাজ না দিলে ভাতা দেওয়াটা সরকারের কর্তব্য। কিন্তু সেটা যেন শেষ সমাধান না হয়। আসল সমাধান হবে কর্মসংস্থান। তা ছাড়া, যে মহিলারা বাড়ির কাজ করেন, সন্তান প্রসব করেন, লালন-পালন করেন, তাঁদেরও তো বেতন নেই। তাঁদের আর্থিক সাহায্য করাই উচিত।
সুবর্ণ: গণতন্ত্রে বিরোধীদের বড় ভূমিকা থাকে। কিন্তু এখন বিরোধীদের কথা বলতেই দেওয়া হয় না। কখনও বিল মাঝরাতে ধ্বনিভোটে পাশ হয়। কখনও বিরোধীদের বার করে দেওয়া হয়। এ প্রবণতা বিপজ্জনক।
সুবর্ণ: একদমই তাই। যে সকল তারকা বিধায়ক বা সাংসদ হয়েছেন, তাঁদের অনেকে তো মানুষের হয়ে প্রশ্নই করেন না। এঁদের ওখানে পাঠানো মানে জঞ্জাল পাঠানো। তবে আমি মনে করি, তারকা তাঁরাও, যাঁরা সমাজের কাজ করেন। তাঁরা রাজনীতিতে এলে প্রার্থী হতেই পারেন।
সুবর্ণ: প্রয়াত জ্যোতি বসু।