How to reduce heat at home naturally

এসির আর প্রয়োজন পড়বে না! হাজার বছরের পুরনো পদ্ধতিই ফিরছে আধুনিক মোড়কে

রোদের তাপে তেতে উঠছে বাড়িঘর। দুপুরের দিকে সূর্য যখন মধ্যগগনে, তখন বাড়িতে থাকাই দায় হয়ে উঠছে। অগত্যা ভরসা ফ্যান আর বাতানুকূল যন্ত্র। তবে মাটির পাত্রকে ব্যবহার করেও ঘর ঠান্ডা রাখা সম্ভব। ভাবছেন তো, কী ভাবে?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:৫৯
এসির খরচ বাঁচাবে বাড়ি তৈরির এক প্রাচীন পদ্ধতি।

এসির খরচ বাঁচাবে বাড়ি তৈরির এক প্রাচীন পদ্ধতি। ছবি: সংগৃহীত।

এয়ার কন্ডিশনারের মতো আধুনিক শীতলীকরণ ব্যবস্থা ব্যাপক ভাবে প্রচলিত হওয়ার অনেক আগেই ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ প্রচণ্ড গরমে তাঁদের ঘরবাড়ি ঠান্ডা রাখার জন্য বিভিন্ন রকম উপায় অবলম্বন করতেন। এমনই একটি পদ্ধতি ছিল পোড়ামাটির ব্যবহার, যা হাজার হাজার বছর ধরে ভারতীয়েরা ব্যবহার করে এসেছেন। জল সংরক্ষণের জন্য পোড়ামাটির পাত্র ব্যাপক ভাবে ব্যবহৃত হত, এবং এই প্রথাটি আজও অনেক ভারতীয় পরিবারে প্রচলিত আছে, যেখানে মাটির পাত্র বিদ্যুৎ ছাড়াই প্রাকৃতিক উপায়ে জল ঠান্ডা করে।

Advertisement
 ‘ফিলার স্ল্যাব’ পদ্ধতি ব্যবহার করেই ছাদ ঢালাই করা হচ্ছে।

‘ফিলার স্ল্যাব’ পদ্ধতি ব্যবহার করেই ছাদ ঢালাই করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত।

পোড়ামাটির পাত্রের হায়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্র থাকে, যা দিয়ে জল ধীরে ধীরে চুঁইয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। এই আর্দ্রতা বাষ্পীভূত হওয়ার সময় পৃষ্ঠতল থেকে তাপ শোষণ করে নেয়, ফলে চারপাশের পরিবেশে ঠান্ডা ভাব তৈরি হয়। এই প্রাকৃতিক বাষ্পীভবন প্রক্রিয়াটি অনেকটা ঘাম যে ভাবে মানবদেহকে শীতল করে, সে ভাবেই কাজ করে। নির্মাতারা আধুনিক বাড়িগুলিকে ঠান্ডা রাখার জন্য আবারও টেরাকোটার ব্যবহার চালু করছেন। এর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য পদ্ধতি হল ‘ফিলার স্ল্যাব’ কৌশল, যা একটি প্রাচীন নির্মাণ পদ্ধতি এবং এতে ছাদের কাঠামোর উপর পোড়ামাটির পাত্রগুলিকে সারি সারি ভাবে রেখে তৈরি করা হয়। এই পদ্ধতিতে, কংক্রিট ঢালাইয়ের আগে ছাদের ভিতরে মাটির পাত্রগুলি উল্টো করে সাজানো হয়। কাঠামোটি জমাট বেঁধে গেলে, এই পাত্রগুলি স্ল্যাবের ভিতরে ফাঁকা জায়গা তৈরি করে। এই এয়ার গ্যাপগুলি তাপ নিরোধক হিসাবে কাজ করে। কম কংক্রিট ব্যবহার হওয়ায় পুরো ছাদটা সামগ্রিক ভাবে কম তাপ শোষণ করে, এবং একটা ঠান্ডা পরিবেশ তৈরি হয়। এই পদ্ধতিতে নির্মিত বাড়িগুলির ভিতরের তাপমাত্রা সাধারণ বাড়ির তুলনায় কোনও কোনও ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কম থাকে। ফলে বাড়িতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রক যন্ত্রের প্রয়োজন হ্রাস পায়। বিদ্যুৎ খরচ কমে এবং পরিবেশ দূষণও কম হয়।

রেস্তরাঁ, ক্যাফেতেও এখন ব্যবহার করা হচ্ছে  ‘ফিলার স্ল্যাব’ পদ্ধতি।

রেস্তরাঁ, ক্যাফেতেও এখন ব্যবহার করা হচ্ছে ‘ফিলার স্ল্যাব’ পদ্ধতি। ছবি: সংগৃহীত।

মজার ব্যাপার হল যে, একই বায়ু-গহ্বরগুলি গ্রীষ্মকালে যেমন ঘরের ভিতরটা ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে, তেমনই শীতকালে উষ্ণতাও ধরে রাখে। এই সুবিধাটি সারা বছর ধরে ঘরের ভিতরের একটি ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করে, যা প্রমাণ করে যে প্রাচীন পদ্ধতিগুলি আজও প্রয়োগযোগ্য এবং পরিবেশবান্ধব। কেবল ঘরবাড়িতেই নয়, এখন বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব ক্যাফে, রিসর্ট আর হোটেলগুলিতেও ‘ফিলার স্ল্যাব’ পদ্ধতি ব্যবহার করেই ছাদ ঢালাই করা হচ্ছে।

Advertisement
আরও পড়ুন