Gardening Tips

বীজ পড়ে মাথাচাড়া দিয়েছে লাউগাছ? ভাল ফলনের জন্য কী ভাবে গাছের যত্ন নেবেন?

লাউগাছ হয়েছে বাড়িতে। কী ভাবে গাছের যত্নে নিলে ফলন ভাল হবে? বাড়িতে কী করে গাছটির পরিচর্যা করবেন?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৭ মার্চ ২০২৬ ২০:৪৪
লাউ গাছ বড় করার জন্য কেমন জল-হাওয়া দরকার?

লাউ গাছ বড় করার জন্য কেমন জল-হাওয়া দরকার? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

কুমড়ো, লাউ, চালকুমড়োর মতো গাছগুলি অনেক সময় বাড়ির আনাচ-কানাচে এমনিই মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। কখনও হয়তো বাড়ির কোথাও বীজ ফেলেছিলেন। মাটির স্পর্শ আর একটু ঠিকঠাক জল-হাওয়া পেলেই অনেক সময় এমন চারা গজিয়ে যায়।

Advertisement

তবে সেই চারা যদি বড় করে ফল পেতে চান, তা হলে কিন্তু পরিচর্যার দরকার। যেহেতু গাছটি লতানে, তাই বড় উঠোন বা বাগান না থাকলেও টবে তা চাষ করা যায়। দড়ির সাহায্যে দেওয়ালে বা ছাদে গাছটিকে বাড়তে সাহায্য করলেই স্বল্প জায়গায় লাউগাছ বড় করা সম্ভব।

লাউ গাছ বড় করার প্রাথমিক শর্ত—

টব: বাগানের মাটিতে গাছটি বড় করার জায়গা না থাকলে, চারাটি শিকড়-সহ তুলে বড় টবে প্রতিস্থাপন করতে হবে। লাউগাছের জন্য দরকার উর্বর এবং ঝুরঝুরে মাটি। জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভাল না হলে গাছের গোড়ায় জল জমতে পারে। তাতেই শিকড় পচে যাবে।

মাটি: সাধারণ বাগানের মাটির সঙ্গে জৈব সার বা ভার্মি কম্পোস্ট মিশিয়ে নিন। যোগ করতে পারেন সামান্য সর্ষের খোলও। মাটিতে কিছুটা বালি মেশান। এতে জল দ্রুত বেরিয়ে যাবে। লাউগাছ ছোট থাকলে ১০-১২ ইঞ্চির টব ভাল। তবে বড় হলে আরও বড় টব দরকার।

জল এবং রোদ: রোদ, জল এবং হাওয়া গাছ বেড়ে ওঠার অন্যতম শর্ত। চড়া রোদ, অতিরিক্ত তাপমাত্রা বা প্রবল ঠান্ডা, কোনওটাই এই গাছের জন্য ভাল নয়। তবে পশ্চিমবঙ্গের বহু জেলাতেই লাউ হয় বছরভরই। গাছ বেড়ে ওঠার জন্য অন্তত ৬ ঘণ্টা রোদের দরকার। গরমকালে জলের দরকার হয় বেশি। মাটি যেন হালকা ভিজে থাকে খেয়াল রাখতে হবে, তবে গাছের গোড়ায় জল বসলে বিপদ।

মাচা: লাউগাছটিকে ছাদে বা মাচায় উঠিয়ে দিতে পারেন। তবে গাছ আলোর দিক লক্ষ্য করে বেড়ে ওঠে। লাউ গাছের গোড়ায় কঞ্চি পুঁতে দিন। টানটান করে দড়ি বাঁধুন, যে দিকে গাছটিকে বাড়াতে চান। গাছ মাঝারি হলে বাড়তি প্রশাখা ছেঁটে ফেলুন। এতে গাছটি সুন্দর ভাবে নির্দিষ্ট দিতেই এগোতে থাকবে। মাচা না করলে, ছাদ জুড়ে গাছটিকে বাড়তে দিতে পারেন।

লাউয়ের পোকা–রোগ: লাউয়ের পাতায় সাদা ছোপ হয়। পোকার আক্রমণ, ছত্রাকও হয়। মাঝেমধ্যে সাবান জল স্প্রে করলে সমস্যা এড়ানো যায়।

পরাগসংযোগ: বিভি্ন্ন পতঙ্গ, মৌমাছি, প্রজাপতি সাধারণত পরাগ সংযোগের কাজ করে। তবে পতঙ্গের সংখ্যা কমলে পরাগ সংযোগে অসুবিধা হয়, ফুল হয়ে ঝরে যায় বা ফল ধরে না। এ ক্ষেত্রে পুরুষ ফুল থেকে রেণু স্ত্রী ফুলের গর্ভমুণ্ডে লাগিয়ে দিতে পারেন। পুরুষ ফুলটি ছিঁড়ে স্ত্রী ফুলের গর্ভমুণ্ডে রেণু ঘষে দিলেও হবে। এতেও ফল আসবে।

Advertisement
আরও পড়ুন