পাতলা ডালকে ঘন বানানোর কৌশল শিখে নিন। ছবি: সংগৃহীত।
ডাল রান্না যতই সহজ মনে হোক না কেন, কাঙ্ক্ষিত ঘনত্ব পাওয়া মুখের কথা নয়। কখনও খুব ঘন, কখনও আবার এমন পাতলা হয়ে যায় যে, হাতায় কেবল জলই ওঠে, ডাল নয়। খাইয়েও আনন্দ নেই, খেয়েও আরাম নেই। ডাল অতিরিক্ত ঘন হয়ে গেলে অল্প ফুটন্ত জল মিশিয়ে দিলে সমস্যার সমাধান হতে পারে, কিন্তু পাতলা ডালে তো আর কাঁচা ডাল মেশানো সম্ভব নয়! সে ক্ষেত্রে কি রান্নাই নষ্ট?
কী ভাবে পাতলা ডালকে ঘন করবেন? ছবি: সংগৃহীত
খাবার অপচয়ের কোনও প্রয়োজন নেই। খুব সহজেই পাতলা ডালকে ঠিক করা যায়। ডাল অতিরিক্ত তরল হয়ে যাওয়ার কারণগুলি আগে জেনে নিতে হবে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই জলের পরিমাণ সঠিক না থাকার কারণে এই সমস্যায় পড়তে হয়। ডাল রান্নার সময় অনেকেই আন্দাজে জল দিয়ে দেন। কিন্তু শুরুতেই বেশি জল দিয়ে ফেললে ডাল স্বাভাবিক ভাবেই পাতলা হয়ে যায়। পরে সেটাকে ঘন করতে সময়ও বেশি লাগে। কখনও আবার ডাল যদি পুরোপুরি সেদ্ধ না হয়, তা হলে সেটি ভেঙে গিয়ে জলের সঙ্গে মিশতে পারে না। ফলে জল আর ডাল আলাদা থেকে যায়। যে কারণে ডাল পাতলা মনে হয়। রান্নার সময়ে ডাল না নেড়ে রাখলে সেটি ভাল ভাবে মেশে না। এতে ডালের স্টার্চ ঠিকমতো বেরোয় না, আর সেই কারণে ঘনত্বও আসে না। শুধু স্বাদের জন্য নয়, ঘনত্বের ক্ষেত্রেও ফোড়নের ভূমিকা আছে। ঠিক ভাবে ফোড়ন না দিলে ডালের টেক্সচার অনেক সময়ে হালকা ও পাতলা থেকে যায়।
কী ভাবে নিমেষের মধ্যে পাতলা ডালকে ঘন করবেন?
১. ডাল একটু চটকে নিলে সুরাহা হতে পারে। ডালের কিছু অংশ চামচ বা হাতা দিয়ে চটকে নিলে তার স্টার্চ বেরিয়ে আসে, যা দ্রুত ডাল ঘন করতে সাহায্য করে।
২. ঢাকনা খুলে মাঝারি আঁচে কিছু ক্ষণ ফুটতে দিলে অতিরিক্ত জল শুকিয়ে যায় এবং ডাল স্বাভাবিক ভাবেই ঘন হয়ে ওঠে।
৩. এক চিমটে আটা বা বেসন জলে গুলে ডালে মিশিয়ে দিলে দ্রুত ঘনত্ব আসে। তবে খুব বেশি না দেওয়াই ভাল, না হলে স্বাদ বদলে যেতে পারে।
৪. রান্নার শেষে সামান্য ঘি বা মাখন মিশিয়ে দিলে শুধু স্বাদই বাড়ে না, ডালের টেক্সচারও একটু ঘন ও মোলায়েম হয়।
৫. কোনও কোনও ক্ষেত্রে রান্না করা ডাল খানিক ক্ষণ সরিয়ে রেখে কিছুটা কাঁচা ডাল নিয়ে আলাদা করে অল্প জলে সেদ্ধ করে নিতে পারেন। তার পর আগের পাতলা ডালে মিশিয়ে দিলে সম্পূর্ণ নতুন পদ হিসেবে তৈরি হয়ে যাবে।