আবির ভেষজ কি না বুঝবেন কী দেখে? ছবি: ফ্রিপিক।
রঙে মেশানো রাসায়নিক কতটা ক্ষতিকর, তা নিয়ে সচেতনতা যতই বাড়ছে, ততই তা থেকে মুখ ফেরাচ্ছেন লোকজন। রং খেলতে ভরসা এখন ভেষজ আবির। ভেষজ রং বা আবির তৈরি হয় প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে। ব্যবহার হয় গাঁদা, জবা, অপরাজিতার মতো ফুল। কিন্তু বাস্তবে প্রতিটি দোকানে, শপিং মলে ভেষজ আবির বলে যা বিক্রি হচ্ছে, তা কি আদৌ ভেষজ?
বিক্রেতার কাছে ভেষজ কোনটি সে প্রশ্ন করলে অনেকেই পাত্রে ঢালা খোলা আবির দেখিয়েই তা ভেষজ বলে দাবি করছেন। খোলা আবির হোক বা প্যাকেটজাত, সত্যি কি তা প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি? কোনটি ভেষজ কোনটি নয়, তা কিন্তু চট করে বোঝা যায় না। ফলে, ভেষজের মোড়কে রাসায়নিক ব্যবহারের সম্ভাবনা উড়িয়েও দেওয়া যায় না। দোকানে আবির কিনতে গেলে কী ভাবে বুঝবেন কোনটি খাঁটি কোনটি নয়? ১০০ শতাংশ এই ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও, তিন কৌশলে অনেকটাই পরখ করে নেওয়া সম্ভব।
১। প্রাকৃতিক বা ভেষজ রং তৈরির হওয়ার কথা ফুলের পাপড়ি, পাতা, সব্জি দিয়ে। এই রঙের সঙ্গে অ্যারারুট পাউডার এবং আরও কিছু প্রাকৃতিক জিনিস মিশিয়েই আবির তৈরি হয়। প্রাকৃতিক উপকরণে তৈরি রং কিংবা আবির কখনওই খুব বেশি উজ্জ্বল হওয়ার কথা নয়। তা ছাড়া এতে কখনওই অভ্র বা অন্য কিছু মেশানো থাকবে না। ভাল করে পরখ করে দেখুন জিনিসটি। বেশি উজ্জ্বল রং হলে হাতে লাগিয়ে দেখতে পারেন। মিনিট ২ পরে ঝেরে নিলেই যদি তা পরিষ্কার হয়ে যায়, বুঝবেন সমস্যা নেই। রং মেশানো থাকলে সেই আবিরের দাগ চট করে উঠবে না।
২। প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি ভেষজ আবিরে তীব্র গন্ধ থাকার কথা নয়। বরং কৃত্রিম সুগন্ধী ত্বকের পক্ষে ক্ষতিকর। আবির নাকের কাছে এনে দেখুন গন্ধ কতটা চড়া। আবির তৈরির সময় অনেকে কৃত্রিম গন্ধ ব্যবহার করা হয়। প্রাকৃতিক আবিরে এমনটা হবে না।
৩। ভেষজ আবির দামেও বেশি হওয়ার কথা। কারণ, প্রাকৃতিক উপকরণ থেকে নানা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবির তৈরি হয়।খুব সস্তার আবির বা রং যদি ভেষজ বলে দাবি করা হয়, সতর্ক হওয়া জরুরি।
আর কী দেখবেন?
· আবির কেনার সময় প্যাকেজিং, উপকরণে চোখ রাখুন।
· ব্র্যান্ড বা কোন কোম্পানির আবির কিনছেন, সেটিও বুঝে নেওয়া জরুরি।
· ভাল সংস্থার আবিরে ভেষজের সংশাপত্র থাকবে।
· অল্প আবির কিনে ত্বকের উপর পরীক্ষা করে দেখুন। হাতের উপর একটু লাগিয়ে নিন। ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। চুলকানি, র্যাশ না হলে সেটি মাখতে পারেন।