Cooking Gas

রান্নার গ্যাসের দাম বেড়েছে, পকেটে টান, খরচ কমিয়ে হেঁশেল সামলানোর কিছু উপায় রইল গৃহিণীদের জন্য

কিছু দিন আগেই বেড়েছিল বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম। এ বার এক ধাক্কায় বাড়ল বাণিজ্যিক ও গৃহস্থের ব্যবহারের জন্য রান্নার গ্যাসের দাম। অগ্নিমূল্যের বাজারে গ্যাসের খরচ কমিয়ে কী ভাবে রান্না করবেন, তার সহজ ও কার্যকর কিছু উপায় জেনে রাখুন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৮ মার্চ ২০২৬ ১২:৪৯
How to save Gas consumption while cooking at home

রান্না ঝটপট হবে,গ্যাসের খরচও বাঁচবে। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

রান্নার গ্যাসের দাম যেন রকেট গতিতে ছুটছে! কিছু দিন আগেই বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বেড়েছিল। এ বার গৃহস্থের ব্যবহারের রান্নার গ্যাসের দামও বাড়ল। কলকাতায় বাড়িতে ব্যবহৃত গ্যাসের (১৪.২ কেজি সিলিন্ডার) দাম বেড়েছে ৬০ টাকা। ফলে ৮৭৯ টাকা থেকে বেড়ে সিলিন্ডার প্রতি দাম হয়েছে ৯৩৯ টাকা। মাসের শুরুতেই গ্যাসের দাম দেখে কপালে ভাঁজ পড়েছে সাধারণ মানুষের। একেই দোকান-বাজারে সব জিনিসের দামই চড়া। অগ্নিমূল্যের বাজারে সংসার সামলাতে নাকানিচোবানি খেতে হচ্ছে। বিদ্যুতের বিলও তো নেহাত কম আসছে না! তার মধ্যে রান্নার গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়াটা অগ্নিতে ঘৃতাহুতির মতোই। উপায় যখন নেই, তখন বুদ্ধি খাটিয়ে গ্যাস বাঁচিয়ে কী ভাবে রান্নাবান্না করা যায়, সে চিন্তাই করতে হবে। বাড়ির গৃহিণীদের জন্য পকেট বাঁচিয়ে হেঁশেল সামলানোর কিছু উপায় রইল।

Advertisement

রান্নার গ্যাসের খরচ কমানো

প্রথমত গ্যাসের খরচ কমাতে বার্নার নিয়মিত পরিষ্কার করুন। রান্নার তেলমশলা পড়ে বার্নার অপরিষ্কার হয়ে যায়। এতে গ্যাসের খরচও বাড়ে। গ্যাসের আগুনের রং নীল হওয়াই বাঞ্ছনীয়। শিখার রং লাল, হলুদ কিংবা কমলা হলে বার্নারে ময়লা জমেছে বা গ্যাস লিক হচ্ছে।

ছোট বার্নারটিতেই রান্না চাপান। আঁচ কমিয়ে রান্না করুন। এতে অন্তত ২৫ শতাংশ গ্যাসের সাশ্রয় হয়।

ভাত বা ডাল রান্না হতে সময় বেশি লাগে। তাই রান্নার অন্তত আধ ঘণ্টা আগে চাল ও ডাল ভিজিয়ে রাখুন। এতে সেদ্ধ হতে কম সময় লাগবে।

অতিরিক্ত জল দিয়ে রান্না করলে তা শুকোতে অনেকটা সময় ও গ্যাস খরচ হয়। তাই রান্নায় ঠিক যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকুই জল ব্যবহার করুন।

পাত্র ঢাকা দিয়ে রান্না করুন। যে কোনও পাত্রের ক্ষেত্রেই ঢাকা দিয়ে রান্না করলে অনেকটা গ্যাস বাঁচে। প্রেসার কুকারে রান্না করলে সবচেয়ে ভাল। এতে রান্না তাড়াতাড়িও হবে, গ্যাসের খরচও বাঁচবে।

ফ্রিজ থেকে শাক-সব্জি বা যে কোনও খাবার বার করে বাইরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় অন্তত আধ ঘণ্টা রেখে দিন। ঠান্ডা সব্জি রান্না করতে সময় বেশি লাগবে। ফ্রিজ থেকে বার করা ঠান্ডা খাবার সরাসরি গরম করতে গেলেও প্রচুর গ্যাস খরচ হয়। রান্নার অন্তত ১-২ ঘণ্টা আগে খাবার বার করে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রেখে দিন। ঠান্ডা ভাব কেটে গেলে তার পর গরম করুন।

রান্না শুরু করার আগেই যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়ে রাখবেন। সব্জি কাটা, মশলাপাতি হাতের কাছে রাখা, মশলা বাটার মতো কাজ আগেই করে রাখুন। যাতে রান্না চাপিয়ে বাড়তি সময় না লাগে।

রান্নার সময়ে ছড়ানো পাত্র ব্যবহার করলে ভাল হয়। এই ধরনের পাত্র তাড়াতাড়ি সমান ভাবে গরম হয়। নন-স্টিক প্যান বা লোহার কড়াই এর জন্য উপযুক্ত। এগুলিতে তেল কম লাগে ও গ্যাসের খরচও কম হয়।

বার বার চা বা জল গরম না করে একবার ফুটিয়ে বড় ফ্লাস্কে ভরে রাখুন। এতে বার বার গ্যাস জ্বালানোর প্রয়োজন পড়বে না।

রান্না পুরোপুরি শেষ হওয়ার ৫ মিনিট আগেই আঁচ বন্ধ করে ঢাকা দিয়ে দিন। পাত্রের অবশিষ্ট তাপেই বাকি রান্নাটুকু হয়ে যাবে। একে 'রেসিডুয়াল হিট কুকিং' বলে, যা পেশাদার রাঁধুনিরা প্রায়ই করেন।

Advertisement
আরও পড়ুন