দই টকে যাওয়া আটকাবেন কী ভাবে? ছবি: সংগৃহীত।
ঘরে দই পাতেন? অথচ রাতের মধ্যেই দই পড়ে গিয়ে টকেও যায়। রোজ সকালে উঠে টক-টক দই খেতে কারই বা ভাল লাগে? এ দিকে অন্য কারও বাড়িতে গিয়ে বা দোকানের পাতা দই খেয়ে দেখেছেন, টক স্বাদের প্রভাব কম। তা হলে কি কোথাও ভুল থেকে যাচ্ছে আপনার?
গরম পড়ছে ধীরে ধীরে। এই সমস্যা আরও বাড়বে এখন। দই বানানোর পর সঠিক ভাবে না রাখলে বা তাপমাত্রা বেশি হলে ফারমেন্টেশন বা মজানোর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়, ফলে দইয়ের স্বাদ দ্রুত টক হয়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে দই পাতার সময়ে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখলে এবং কিছু টোটকা প্রয়োগ করলে এই সমস্যা থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আপনিও এমন দই পাততে পারবেন, যাতে টকের প্রভাব কম থাকবে। দইয়ে চিনি মেশানোর ইচ্ছে জাগবে না।
দই পাতার সঠিক নিয়ম। ছবি: সংগৃহীত
১. দ্রুত ঠান্ডা জায়গায়
দই ঠিক মতো জমে যাওয়ার পর সেটিকে বেশি ক্ষণ বাইরে রেখে দিলে টকে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। কারণ উষ্ণ পরিবেশে ব্যাক্টেরিয়া দ্রুত কাজ করে এবং মজানোর গতি বাড়িয়ে দেয়। তাই দই জমাট বাঁধার পর যত দ্রুত সম্ভব ঠান্ডা জায়গায় বা ফ্রিজে রেখে দিলে টক হওয়ার গতি অনেকটাই কমে যায়। তাই এমন একটি সময় বেছে নিন, যাতে জমাট বাঁধার মুহূর্তে আপনি কাছাকাছিই থাকতে পারেন। ঘুমিয়ে পড়লে বা বাড়ির বাইরে গেলে ঠিক সময়ে ফ্রিজে রাখতে পারবেন না।
২. বার বার তাপমাত্রার হেরফের নয়
অনেকেই দই ফ্রিজে রাখার পর বার বার ফ্রিজ থেকে বার করেন, আবার ফ্রিজে ঢুকিয়ে রাখেন। তাপমাত্রার হেরফের হলে টকে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। যত কম বার দই বার করবেন, ততই ভাল। তা ছাড়া ফ্রিজের মাঝখানের তাকে রাখলে দই টকে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে। কারণ সেখানে তাপমাত্রা খানিক স্থির থাকে।
৩. সঠিক পাত্র বাছাই
স্টিল বা প্লাস্টিকের বাটিতে পাতলে দইয়ের স্বাদ ও গঠন পাল্টে যেতে পারে। স্বচ্ছ কাচের পাত্রে দই পাতুন, তাতে টক স্বাদের প্রভাব কম পড়বে। গঠনও সুন্দর থাকবে।
৪. পরিষ্কার ও শুকনো চামচ
দই পরিবেশন করার সময়ে অনেকেই ভেজা বা অপরিষ্কার চামচ ব্যবহার করেন। এতে বাইরের ব্যাক্টেরিয়া দইয়ের মধ্যে চলে আসে এবং দই দ্রুত টক হয়ে যেতে পারে। তাই দই তোলার সময় সর্বদা পরিষ্কার ও শুকনো চামচ ব্যবহার করা উচিত। এতে দই দীর্ঘ ক্ষণ টাটকা থাকে।
৫. ঢাকনা চাপা
দইয়ের পাত্র যেন সব সময়ে ঢাকনা দিয়ে চাপা থাকে। ফ্রিজে আঢাকা রাখলে তাতে অতিরিক্ত আর্দ্রতা জমে যেতে পারে। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে দইয়ের স্বাদ পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে।
৬. খুব পুরনো দই দিয়ে নয়
দই জমানোর সময়ে অনেকেই বাসি দই ব্যবহার করেন। কিন্তু সেই দই যদি আগে থেকেই বেশ টক হয়ে যায়, তা হলে নতুন দইতেও সেই টক স্বাদ চলে আসবে। তাই দই জমানোর জন্য সব সময়ে একটু টাটকা ও কম টক দই ব্যবহার করা ভাল।
৭. অল্প ঠান্ডা দুধ
যদি দেখেন, দইয়ে অল্প টক ভাব ধরে গিয়েছে, সঙ্গে সঙ্গে অল্প ঠান্ডা দুধ উপরে ছ়়ড়িয়ে দিতে হবে। তাতে টক স্বাদের প্রভাব খানিক কমতে পারে। তবে সেই দুধ যেন এক বার অন্তত জ্বাল দেওয়া থাকে।
৮. শুকনো নারকেল মেশান
দই টকে যাওয়া রোধ করার আরও একটি পন্থা রয়েছে। দই জমাট বেঁধে গেলেই একটি শুকনো নারকেলের টুকরো পাত্রে রেখে দিন। এতে টকে যাওয়ার গতি শ্লথ হতে পারে।